
ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?
শেষ আপডেট: 12 April 2025 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমন্ড-পেস্তা হোক বা কিশমিশ, খিদে পাচ্ছে মনে হলেই মাঝে মাঝে খেয়ে নিই আমরা। স্মুদি খেয়ে পেট ভরিয়ে মনে হয়েছে বাইরের আজেবাজে জিনিস খাওয়ার থেকে এটাই ঢের বেশি স্বাস্থ্যকর। ড্রাই ফ্রুটসে (Dry fruits) অনেক পুষ্টিগুণ (nutrients) থাকে, কিন্তু সেগুলোই সব সমস্যার সমাধান- এমনটা ভাবার কিছু নেই।
কখন বা কেন খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে এর উপকারিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রাই ফ্রুটস কখন খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার হজমক্ষমতা, হরমোনের ভারসাম্য এবং রক্তে শর্করার মাত্রা। এমনকি এতে ঘুমের মানও বদলাতে পারে।
ড্রাই ফ্রুটস কখন খাওয়া সবচেয়ে উপকারী?
ড্রাই ফ্রুটসের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স বেশি। তাই শরীরচর্চার পর ড্রাই ফ্রুটস খেলে এর প্রাকৃতিক সুগার ও ফ্যাট শরীরের কাজে লাগে। আর যাঁরা তুলনামূলক কম সক্রিয়, তাঁদের জন্য সকালে বা ব্যায়ামের আগে অল্প করে খাওয়াই ভাল।
যাঁদের পিরিয়ডে খুব বেশি রক্তপাত হয়, তাঁদের জন্য সকালে ভেজানো কিশমিশ উপকারী—কারণ এতে প্রচুর আয়রন থাকে। আবার পিএমএস-এ যাঁরা কষ্ট পান, তাঁদের জন্য ম্যাগনেশিয়াম-সমৃদ্ধ কুমড়োর বীজ, বাদাম বা আখরোট রাতের স্যুপে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
নিউট্রিশন সায়েন্টিস্ট এবং বায়ো-টক্সিকোলজিস্ট ড: রিয়া মেহতা জানান, ‘ড্রাই ফ্রুটস তখনই সবচেয়ে ভাল কাজে দেয়, যখন শরীর সেগুলি থেকে আসা পুষ্টি অ্যাবসর্ব করার জন্য তৈরি থাকে। ড্রাই ফ্রুটস যদি শরীর অনুযায়ী, সঠিক নিয়ম এবং পরিমাণ মেনে খাওয়া যায়, তাহলে সেটা ভীষণই উপকারী।’
১) শক্তি বৃদ্ধির জন্য:
সকালে কাজু, আখরোট আর বাদাম আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তির জোগান দেয়। খেজুর-পেস্তা, এপ্রিকট যদি ব্যায়ামের আগে খাওয়া হয়, তবে চটজলদি এনার্জি মেলে। কাজু আর কিশমিশ দুপুরের দিকে খেতে পারেন।
২) ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য:
সকালে আখরোট, বাদাম আর ভেজানো কিশমিশ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। দিনের বেলা মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে আমন্ড বা পিনাট বাটার খেতে পারেন। এতে হঠাৎ করে খিদে পাওয়ার সমস্যা কমবে।
৩) হজমের জন্য:
সকালে কিশমিশ ও বাদামের মতো ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার খেলে হজম ভাল হয় এবং পেট পরিষ্কার থাকে। সন্ধ্যায় ভেজানো এপ্রিকট খাওয়া যেতে পারে। তবে রাতের দিকে যেহেতু হজম ধীরগতিতে হয় তাই তখন ড্রাই ফ্রুটস খেলে তার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক সুগারের ফার্মেন্টেশন হয়ে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
৪) ভাল ঘুমের জন্য:
পেস্তা বা বাদাম (ম্যাগনেশিয়াম-সমৃদ্ধ) গুঁড়ো করে দুধে মিশিয়ে খান, কারণ দুধে ট্রিপ্টোফ্যান থাকে, যা মেলাটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে। অন্য বিকল্প হতে পারে—বাদাম ও আখরোটের সঙ্গে কলা। এতে থাকে ভিটামিন বি ৬ ও পটাসিয়াম—এগুলো প্রাকৃতিক মাসল রিল্যাক্সার। ডার্ক চেরি আর বাদাম একসঙ্গে খেলেও মেলাটোনিন বাড়ে।
তবে যেমন হানি-রোস্টেড বা চকোলেট কোটেড অতিরিক্ত নুন বা ক্যাফেইনযুক্ত বাদাম এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো ঘুমে বাধা তৈরি করে।