এই চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ভ্রূণ প্রতিস্থাপন। তা সঠিকভাবে না হলে আশার বদলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 July 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকালকার দিনে আইভিএফ (IVF) করিয়ে থাকেন বহু দম্পতিই। কিন্তু এই চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ভ্রূণ প্রতিস্থাপন (Embryo Transfer)। তা সঠিকভাবে না হলে আশার বদলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে যদি একাধিক ভ্রূণ একসঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হয়।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গর্বগুড়ি আইভিএফ সেন্টারের কনসালটেন্ট, ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট অপর্ণা এন. বলেন, “ভ্রূণ প্রতিস্থাপন আইভিএফ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপ। আমরা সাধারণত ১ বা ২টি সেরা মানের ভ্রূণ নির্বাচন করি। এরপরেই শুরু হয় ইমপ্ল্যান্টেশন, অর্থাৎ ভ্রূণটি ইউটেরাসে স্থায়ীভাবে বসে গিয়ে তৈরি হয় ফেটাস।”
ডা. অপর্ণা জানাচ্ছেন, “এই বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা রয়েছে। সাধারণভাবে ১ বা ২টি ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়। খুব বিশেষ ক্ষেত্রে, যেমন একাধিক আইভিএফ ব্যর্থ হলে ৩টি ভ্রূণ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করা যায়।”
ভ্রূণ সংখ্যা নির্ধারণে কিছু বিষয় মনে রাখা দরকার:
ভ্রূণের বয়স (কালচারের সময়কাল)
• ৩ দিনের ভ্রূণ (Day 3 embryo): গর্ভধারণের সম্ভাবনা ২০–২৫%। এ ক্ষেত্রে ২–৩টি ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়।
• ৫ দিনের ভ্রূণ (Blastocyst): সম্ভাবনা বেশি—৪০–৫০%। ফলে এখানে ১ বা ২টি ভ্রূণই যথেষ্ট।
হবু মায়ের বয়স
• ৩৫-এর নিচে বয়স হলে সাধারণত ১টি ভ্রূণ যথেষ্ট।
• ৩৫-এর বেশি বয়সে ২টি ভ্রূণ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করা যায়।
রোগীর যদি কোনও স্বাস্থ্য-সমস্যা থাকে, তবে একক ভ্রূণ প্রতিস্থাপনই শ্রেয়, কারণ মাল্টিপল প্রেগন্যান্সি’তে জটিলতা বাড়ে।
যদি আগে থেকেই সন্তান থাকে, সেই ক্ষেত্রে একাধিক প্রেগন্যান্সি ঠেকাতে একটিমাত্র ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থাকলে, যেমন ইউটেরাসে পুরনো অস্ত্রোপচার, বারবার মিসক্যারেজ, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি একটি মাত্র ভ্রূণই প্রতিস্থাপন করা হয়।
জেনেটিক টেস্টেড ভ্রূণ (PGT) হলে?
এক্ষেত্রেও একটা ভ্রূণ প্রতিস্থাপনই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ দু’টি ভ্রূণ নিলে যমজ সন্তানের সম্ভাবনা ২০–৩০% পর্যন্ত বাড়ে, যা স্বাভাবিক প্রেগন্যান্সির তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। তাই আধুনিক আইভিএফ বিশেষজ্ঞরা এখন “Single Best Embryo Transfer”-এর দিকেই ঝুঁকছেন।
ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর ডা. অপর্ণার পরামর্শ:
• সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কোনও দরকার নেই। রান্না, হাঁটা-চলা, হালকা কাজ চলতে পারে।
• লং ডিস্ট্যান্স ট্রাভেল, ভারী কাজ, এক্সারসাইজ এড়িয়ে চলা উচিত।
• পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, মেডিটেশন ও মানসিক শান্তি বজায় রাখা জরুরি।
• যে কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ (স্পটিং, ব্যথা) দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
• নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাবেন না।