প্যাকেটজাত খাবার মানেই যেন আধুনিক জীবনের হুড়োহুড়িতে খানিক স্বস্তি। তবে আদা-রসুন বাটা, এই তালিকায় যেমন জনপ্রিয়, তেমনই চিন্তার কারণও বটে।

শেষ আপডেট: 23 June 2025 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল প্রায় প্রতিটি ভারতীয় রান্নাঘরের ফ্রিজেই দেখা যায় প্যাকেটবন্দী আদা-রসুন বাটা জাঁকিয়ে বসে আছে। কম সময়ে স্বাদ বাড়াতে আর ঝটপট রান্নার নির্ভরযোগ্য সঙ্গীও বটে। কিন্তু এই প্যাকেটবন্দী আদা-রসুন বাটা স্মুথ টেক্সচারের আড়ালে থাকে কিছু অতিরিক্ত উপাদান, অ্যাডিটিভস— আর অনেক সময় এমন কিছু উপকরণ, যা শরীরের জন্য মোটেই ভাল নয়।
যদি কখনও মনে হয় বাড়িরই রান্না করা তরকারির স্বাদ কেমন যেন অন্যরকম লাগছে, কিংবা হঠাৎ হজমে গোলমাল হচ্ছে — তাহলে এখনই সময়, প্যাকেটের আদা-রসুন বাটার গায়ে লেখা উপকরণে চোখ রাখা এবং ভাল ভেবে যা খাচ্ছেন তা বোঝা।
প্যাকেটজাত খাবার মানেই যেন আধুনিক জীবনের হুড়োহুড়িতে খানিক স্বস্তি। তবে আদা-রসুন বাটা, এই তালিকায় যেমন জনপ্রিয়, তেমনই চিন্তার কারণও বটে। দীর্ঘদিন ভাল রাখার জন্য এতে মেশানো হয় একাধিক অ্যাডিটিভ, রঙ ও পেস্ট ঘন করার উপাদান। এর মধ্যে অন্যতম:
সাইট্রিক অ্যাসিড: এটি গন্ধ ও সতেজতা ধরে রাখে বটে, তবে অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটির সমস্যা বা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইড: এই উপাদানটি পেস্টের রং ‘প্রাকৃতিক’ দেখাতে সাহায্য করে, অথচ এটি মূলত ব্যবহৃত হয় প্লাস্টিক ও রং তৈরিতে। এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করতে পারে, এবং অন্ত্রের ভেতরের আবরণে ক্ষতিও করতে পারে।
জ্যান্থান গাম: এটি পেস্ট ঘন করতে ব্যবহৃত হয়। বহু সংস্থাই বেস্বাদ আদা বা রসুন ব্যবহার করে, তার সঙ্গে মেশায় চালের গুঁড়ো বা ডালভাজার গুঁড়ো — যাতে তা পরিমাণে বাড়ে।
কৃত্রিম খাবার রং: দেখতে টাটকা লাগার জন্য এইসব রং ব্যবহার করা হয়, যেগুলি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক।

বাজারচলতি আদা-রসুন বাটায় ভেজাল আছে কি না, তা চেনার সবচেয়ে সহজ তিনটি উপায়:
১) রং: স্বাভাবিক আদা-রসুন বাটার রঙ হয় হালকা বেজ। যদি বেশি উজ্জ্বল বা ফ্যাকাশে লাগে, সাবধান হন।
২) গন্ধ: গন্ধ হওয়া উচিত ঝাঁঝাল, টাটকা। যদি টক বা রাসায়নিক কোনও গন্ধ আসে, বুঝবেন ভেজাল রয়েছে।
৩) ঘনত্ব ও টেক্সচার: ভাল পেস্টের টেক্সচার হয় মসৃণ এবং একরকম। যদি খুব ঘন, খুব পাতলা বা আলাদা স্তরে বসে যায় — তাহলে তাতে অতিরিক্ত অ্যাডিটিভ ও ফিলার ব্যবহার হয়েছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি কী কী রয়েছে এতে?
যদিও সাধারণভাবে আদা-রসুন বাটা নিরাপদ বলেই ধরা হয়, তবে বেশি দিন ধরে নিয়মিত এই রাসায়নিক মেশানো পেস্ট খাওয়া শুরু করলে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা —
• হজমে গোলমাল
• অ্যালার্জির সমস্যা
• গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল জটিলতা
যদি সুবিধের জন্য বাজারচলতি পেস্টই কিনতে চান, তাহলে কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখা খুব দরকার:
• উপকরণের তালিকায় যেন শুধু আদা ও রসুন থাকে — জল, তেল বা লবণ না থাকে।
• কৃত্রিম রং বা অ্যাডিটিভ থাকলে এড়িয়ে চলুন।
• FSSAI লাইসেন্স নম্বর, স্পষ্ট তৈরির তারিখ ও ব্র্যান্ডিং দেখুন।

একটু সময় দিলেই বাড়িতে তৈরি করা যায় একদম খাঁটি আদা-রসুন বাটা। নিচে রইল সহজ রেসিপি:
উপকরণ
আদা: ২০০ গ্রাম, রসুন: ৩০০ গ্রাম, সাদা তেল: ৩ টেবিলচামচ, নুন: স্বাদমতো
কীভাবে বানাবেন
আদা ও রসুন ভাল করে খোসা ছাড়িয়ে, ধুয়ে শুকিয়ে নিন। ব্লেন্ডারে মিহি করে পেস্ট তৈরি করুন এবার তেল ও নুন মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন।