
শেষ আপডেট: 20 February 2025 00:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড বা গ্রিক ইওগার্টের মতো জেন জি-র ফেভারিট পিনাট বাটারও। সাদা মাখনে ডুব দেওয়ার বদলে স্বাস্থ্যকর পিনাটেই তৃপ্তি পায় নতুন প্রজন্ম। পুষ্টিবিদরাও ডায়েটে পিনাট বাটার সাজেস্ট করেন। কিন্তু চিনা বাদাম থেকে তৈরি এই মাখন কি আদৌ পুষ্টিকর? স্বাস্থ্যের জন্য ভাল?
পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পিনাট বাটার স্বাস্থ্যকর। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে। যা হার্ট ভাল রাখে, পেশির কার্যকারিতা বাড়ায় এবং শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
গবেষণা কী বলছে?
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বাদামজাতীয় খাবার খাওয়া হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। হার্ভার্ডের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ওয়াল্টার সি. উইলেট ২০১৯-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, যারা নিয়মিত বাদাম বা পিনাট বাটার খান, তাদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা
অনেকে মনে করেন, স্যাচুরেটেড ফ্যাট স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। তবে এটি ঠিক নয়। শরীর স্বাভাবিকভাবেই স্যাচুরেটেড ফ্যাট প্রসেস করে এবং এর ফলে উভয় ধরনের কোলেস্টেরল (ভাল ও খারাপ)—দুটোই বেড়ে যায়। সমস্যা তখনই হয় যখন স্যাচুরেটেড ফ্যাট অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া হয়।
উইলেটের গবেষণা অনুযায়ী, পিনাট বাটারের ৮০% ফ্যাটই আনস্যাচুরেটেড। যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। মাত্র দুই টেবিল চামচ পিনাট বাটারে থাকে ৩.৩ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ১২.৩ গ্রাম আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হেলদি ফ্যাটের উৎস।
সব পিনাট বাটার কি স্বাস্থ্যকর?
পিনাট বাটার মানেই সব এক নয়। অনেক দোকানে পাওয়া পিনাট বাটারে অতিরিক্ত চিনি, হাইড্রোজেনেটেড অয়েল ও অতিরিক্ত নুন মেশানো থাকে, যা আদতে ক্ষতি করে শরীরের। তাই কেনার সময় স্বাভাবিক ও আনস্যুইটেনড পিনাট বাটার বেছে নেওয়া ভাল।
কীভাবে পিনাট বাটার খাবেন?
স্মুদি বানাতে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে পিনাট বাটার অ্যাড করতে পারেন।
পিনাট বাটার দিয়ে গ্রেইন বোল বানাতে পারেন।
স্যালাদ বা থাই সসে ক্রিমি টেক্সচার অ্যাড করতে পিনাট বাটার দিতে পারেন।
এনার্জি বার পিনাট বাটারে ডিপ করে খেতে পারেন।
কীভাবে পাবেন স্বাস্থ্যকর পিনাট বাটার?
দোকান থেকে কেনা যেকোনও জিনিসের চেয়ে বাড়িতে বানানো জিনিস অবশ্যই স্বাস্থ্যকর। পিনাট বাটারও ব্যাতিক্রম নয়। কীভাবে সহজে বাড়িতে বানিয়ে নেবেন?
উপকরণ
ভাজা ও খোসা ছাড়ানো চিনাবাদাম (আনসলটেড ও আনস্যুইটেনড)
পদ্ধতি
প্রথমে একটি ফুড প্রসেসরে চিনাবাদাম দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। প্রথমে দেখে মনে হবে মিশ্রণটা ভীষণ ড্রাই, কিন্তু ধীরে ধীরে তা স্মুথ ও ক্রিমি হবে। তিরিশ সেকেন্ড পরপর ব্লেন্ডার থামিয়ে পাশে লেগে থাকা অংশ চামচ দিয়ে আবার দিয়ে দিতে হবে। কোনও তেল বা বাড়তি কিছুর প্রয়োজন নেই। পছন্দমতো টেক্সচার এসে গেলে থামিয়ে নিতে হবে। এবার একটি এয়ারটাইট কন্টেইনারে রেখে দিতে হবে। ঘরোয়া পিনাট বাটার রুম টেম্পারেচারে এক মাস বা ফ্রিজে দু'মাস পর্যন্ত রাখা যায়।
এইভাবে পিনাট বাটার খেলে ও নির্দিষ্ট পরিমাণে খেলে কোনও সমস্যা হবে না বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।