অনিয়মিত পিরিয়ডের পেছনে PCOS না PCOD, উপসর্গ, পার্থক্য ও চিকিৎসা কী, সহজ ভাষায় জানুন।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 18 September 2025 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও রয়ে গিয়েছে নানা ভুল বোঝাবুঝি। বিশেষ করে পিসিওএস (Polycystic Ovary Syndrome) এবং পিসিওডি (Polycystic Ovarian Disease) নিয়ে। অনেকেই এই দুটি শব্দকে একই ভাবে ব্যবহার করেন। কিন্তু বাস্তবে এরা এক নয়। দু’টিই ডিম্বাশয় এবং হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এদের প্রভাব ও তীব্রতা আলাদা। পিসিওডি অ্যাওয়ারনেস মাসে এনিয়ে বিস্তারিত জানালেন ডঃ বাণীকুমার মিত্র।
পিসিওএস মূলত একটি হরমোনজনিত ও মেটাবলিক সমস্যা। সাধারণত মহিলাদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। পিরিয়ডের পর এই সমস্যা হতে পারে, তার আগে নয়। এতে মাসিক চক্র অনিয়মিত হয়। শরীরে অতিরিক্ত লোম গজায়। ব্রণ, ওজন বৃদ্ধি, এমনকি বন্ধ্যাত্বও দেখা দিতে পারে। এতে অস্বাভাবিক হারে পুরুষ হরমোন নিঃসৃত হয়। দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে।
এদিকে পিসিওডি হলে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট একাধিক সিস্ট তৈরি হয়। এটিও হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে হয়। উপসর্গ অনেকটা একই রকম, অনিয়মিত মাসিক, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি। তবে পিসিওডি সাধারণত কম গুরুতর। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এটা পিসিওএসের মতো সব সময় দীর্ঘমেয়াদী বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না।
ডঃ বাণী কুমার মিত্র এনিয়ে বলেন, 'PCOS ও PCOD নিয়ে বিভ্রান্তি অনেক সময় চিকিৎসা বিলম্বিত করে। অনেকেই অনিয়মিত মাসিক, ওজন ওঠানামা বা ব্রণকে সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলি প্রাথমিক সতর্কবার্তা। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।'
কেন সচেতনতা জরুরি?
পিসিওএস মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ থেকে আসে হতাশা ও মানসিক চাপ। অন্যদিকে, পিসিওডি অবহেলা করলে ধীরে ধীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, হরমোনের সমস্যা ও ওজন বৃদ্ধির মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ
দুটির ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মূল ভিত্তি জীবনযাত্রার পরিবর্তন। নিয়মিত ব্যায়াম, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, চিনি এড়ানো, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তবে PCOS-এর ক্ষেত্রে প্রায়ই ওষুধ ও চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধান দরকার হয়। PCOD তুলনায় সহজে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
বিশ্বজুড়ে প্রজননশীল প্রতি ১০ জন মহিলার মধ্যে অন্তত ১ জন PCOS-এ ভোগেন। ভারতে প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ মহিলা PCOS বা PCOD-এ আক্রান্ত। অনেকেই এখনও অজ্ঞাত। গবেষণা বলছে, PCOS আক্রান্ত মহিলাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি। প্রায় ৭০ শতাংশ মহিলা প্রাকৃতিকভাবে সন্তানধারণে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তবে আশার কথা, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেকটাই কমে যায়।
সচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন, এই তিনেই মেলে সমাধান। PCOS ও PCOD-কে ছোট করে দেখা নয়, বরং খোলাখুলি আলোচনা করাই প্রয়োজন। মহিলাদের সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী জীবনযাপনের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।