
শেষ আপডেট: 21 October 2023 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং আর পেটপুজো। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে দেদার খাওয়াদাওয়া। রোলের সুগন্ধে, বিরিয়ানির সুবাসে মনকে ধরে রাখাই যায় না। তাই এই ক’দিন আর ডায়েটে বেশি জোর দেবে না বাঙালি। তবে সমস্যা হচ্ছে দিনভর যা খুশি খাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু রাত হলেই গলা-বুক জ্বালা শুরু হচ্ছে।
যাই খাচ্ছেন না, অ্যাসিডটি হচ্ছে? চোঁয়া ঢেকুরের জ্বালায় গলা-বুক জ্বলছে সারাক্ষণ? আপাতদৃষ্টিতে খুব বিরক্তকর সমস্যা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে দেওয়া ঠিক নয়। অ্যাসিডিটি (Acidity) বাড়তে বাড়তে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা ধরে যেতে পারে যার থেকে পরবর্তী সময়ে পাকস্থলী ও খাদ্যনালির ভয়ানক অসুখও হতে পারে।
পেটের গ্যাসট্রিক গ্রন্থির মাধ্যমে অত্যধিক পরিমাণে অ্যাসিড উৎপন্ন হলে শরীরে নানা ভাবে তা সমস্যার সৃষ্টি করে। সাবধানতা অবলম্বন না করলে ছোটখাটো অম্লতা থেকে গ্যাসট্রিক আলসার পর্যন্ত হতে পারে। তাই সাবধান থাকতেই হবে। অ্যাসিডিটি কমাতে মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খেলেও বিপদ। এইসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়। তাই সমস্যার সমাধান হোক ঘরোয়া উপায়েই।
অ্যাসিডিটি (Acidity) কমাতে পারে এমন কয়েকটি ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
১) অম্বল হলে অনেকেই বোতলবন্দি ঠান্ডা পানীয় খান। ভাবেন, তাতে উপস্থিত সোডা থেকে আরাম মিলবে। কিন্তু এমন পানীয় বাদ দেওয়াই ভাল। কফিও এ সময়ে না খেলেই হয়। বরং হাল্কা করে দুধ-চিনি ছাড়া হার্বাল চা খেলে বেশি উপকার হবে।
২) কিছুক্ষণ অন্তর উষ্ণ জলও খেলে আরাম পাওয়া যাবে।
৩) প্রতি দিন সকালে এক গ্লাস উষ্ণ জলে গোটা একটা পাতিলেবু নিংড়ে দিন। এই পানীয় গরম গরম খান। লেবু শরীরের টক্সিন দূর করে শরীরকে অম্লমুক্ত রাখে।
৪) অনেকেই পুদিনা পাতা খেতে ভালবাসেন। ভারী খাওয়াদাওয়া হলে কয়েকটি পুদিনা পাতা চিবিয়ে জল খেয়ে নিন। এলাচ ফুটিয়ে সেই জল খেতে পারেন। এলাচ প্রাকৃতিক ভাবেই অম্ল বিরোধী।
৫) একটি পাত্রে আদা কুচি, মৌরি ও কাঁচা আমলকি মেশান। খাওয়াদাওয়ার পর অল্প পরিমাণে নিয়ে চিবিয়ে খান এই মিশ্রণ।
৬) সারা রাত এক লিটার জলে এক চা চামচ জিরে ও এক চাচামচ কাঁচা জোয়ান ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই জলটা ছেঁকে পান করুন। জিরে আর জোয়ান হজমশক্তি বাড়ায়।
৭) ঠান্ডা দুধের ক্যালশিয়াম অ্যাসিডের বাড়াবাড়ি শোষণ করে নেয়। তাই অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ঠান্ডা দুধের উপর আস্থা রাখার নিদান দেন। তবে যাঁদের দুধ হজম করতে অসুবিধে হয়, তাঁরা এ পথে হাঁটবেন না।