
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 May 2025 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২৪ কেজি (২৭৫ পাউন্ড) ওজন ঝরানো কি মুখের কথা! মুশকিল তবে অসম্ভব নয় প্রমাণ করে দেখালেন ৩৬ বছর বয়সি রায়ান গ্রেওয়েল। সম্প্রতি তাঁর এই অবিশ্বাস্য ওজন কমানোর যাত্রার গল্প ভাগ করে নিয়েছেন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এমন একটা সময় গেছে যখন ওজন মেশিন দেখাচ্ছে ওজন ছুঁয়েছে প্রায় ২২২ কেজির কোঠা। অথচ এখনকার রায়ান একেবারেই অন্য মানুষ। এই পরিবর্তনের নেপথ্য কাহিনী কী? নিজেই জানালেন রায়ান।
View this post on Instagram
কীভাবে হল এই অসাধ্য সাধন?
সাইক্লিং, প্রতিদিনের ক্যালোরি খরচের খুঁটিনাটি হিসাব রাখা এবং খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের গুরুত্ব দেওয়া- এই তিন জিনিস আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে রায়ানের জীবনে।
এক সাক্ষাৎকারে রায়ান জানান, একসময় তাঁর জীবন এমন ছিল যে তিনি খুব বেশি নড়াচড়া পর্যন্ত করতেন না। ব্যায়াম তো দূরের কথা। তাঁর প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকত মূলত ফাস্ট ফুড, আর দৈনিক ক্যালোরি প্রায় ৫,০০০ ছুঁয়ে ফেলত। এমন জীবনযাপনের ফলে ওজন বাড়তে থাকে লাগামহীনভাবে।
এক সময় তাঁর চিকিৎসক তাঁকে জানান, শরীরের জয়েন্টে সমস্যা বাড়ছে। ওজন না কমালে ভবিষ্যতে আরও শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রায়ানের কথায়, ‘তখন আমার ওজন ছিল প্রায় ৪৭৫ পাউন্ড’, এরপর আরও ১২ পাউন্ড বেড়ে যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম এবার একটা বদল দরকার। সেখান থেকেই আমার এই যাত্রা শুরু।’
View this post on Instagram
প্রথমে ওজন কমানোর জন্য রায়ান হাঁটাহাঁটি শুরু করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ওজন তাঁর হাঁটুতে যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠছিল। তখন বিকল্প পথ হিসেবে, শরীরচর্চার সুবিধার্থে তিনি কিনে ফেলেন একটি সাইকেল- যাতে হাঁটুর ওপর চাপ কম পড়ে। কিন্তু সাইকেল চালাতে চালাতে যেন ছোটবেলায় ফিরে যান রায়ান। তাই ধীরে ধীরে সেটাই হয়ে ওঠে তাঁর নেশা। তখন থেকেই শুরু হয় রুটিনমাফিক সাইক্লিং।
কিন্তু বাধাও কিছু কম আসেনি পথে। ওজন বেশি থাকায় শুরুতে তিনি দুটো সাইকেল ভেঙে ফেলেছিলেন। কিন্তু তবু হাল না ছেড়ে তিনি কিনে ফেলেন একটি শক্তপোক্ত ও টেকসই সাইকেল। তারপর থেকে নিয়মিত সাইক্লিং শুরু করেন। এমনও দিন গেছে যখন তিনি ১০০ মাইল পর্যন্ত পথও পার করেছেন।
শুধু ওজন কমানো নয়, রায়ানের মতে সাইক্লিং তাঁকে মানসিকভাবেও সুস্থ করে তুলেছে। ‘সাইক্লিং আমার জীবনের সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত, কারণ এটা শুধু মেদ ঝরাতেই সাহায্য করেনি, আমার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও দারুণ প্রভাব ফেলেছে,’ জানান তিনি।
এই যাত্রা শুধু শরীরচর্চা বা ডায়েটের নয়, বরং আত্মিক পরিবর্তনও বটে। রায়ান বলেন, এই অভ্যাসের ফলে তিনি নিজের মধ্যে আনতে পেরেছেন শৃঙ্খলা, মনোসংযোগ। এখন তিনি এখন একজন আরও ভাল স্বামী, বাবা এবং লিডার। জীবনে এসেছে নতুন উপলব্ধি।