চিকিৎসকরা বলেন, ৩০ বছরের পর থেকেই প্রত্যেকের বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা উচিত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 June 2025 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে হার্ট অ্যাটাক যেন শহুরে জীবনের একটা ভীষণ সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার পিছনে নানারকম কারণ থাকলেও, যা একদমই অস্বীকার করা যায় না, তা হল রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা। এটি কিন্তু হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
কোলেস্টেরল আসলে এক ধরনের ফ্যাটজাতীয় উপাদান যা আমাদের রক্তে থাকে। হরমোন তৈরি, কোশ গঠনে এবং হজমে সহায়তাকারী উপাদান তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে কোলেস্টেরলেরও দু’টি ধরন রয়েছে — একটা ভাল, একটা খারাপ। ভালটা দরকারি, খারাপটা বিপজ্জনক।HDL বা ‘ভাল কোলেস্টেরল’ শরীরের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে যকৃতে পৌঁছে দেয়, যেখানে তা ভেঙে যায় বা বেরিয়ে যায়। এই কোলেস্টেরল হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়। LDL বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ রক্তনালিতে জমে গিয়ে ধমনিতে ব্লকেজ তৈরি করতে পারে, যা হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকরা বলেন, ৩০ বছরের পর থেকেই প্রত্যেকের বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা উচিত, যাতে HDL, LDL, ট্রাইগ্লিসারাইড ইত্যাদির মাত্রা সম্পর্কে আগে থেকে জানা যায়।
তবে সুখবর এই যে, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এটি প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে কিছু নির্দিষ্ট উপাদান যোগ করলে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমানো যায় এবং ভাল কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ানো সম্ভব হয়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি খাবার যা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে হৃদ্স্বাস্থ্য ভাল থাকবে:

হোল গ্রেন (Whole Grains): ওটস, গমের মতো হোল গ্রেনে থাকে বিটা-গ্লুকান, এক ধরনের সলিউবল ফাইবার যা অন্ত্রে এক ধরনের জেল তৈরি করে কোলেস্টেরলকে বেঁধে রাখে ও শরীর থেকে বের করে দেয়। এটি এলডিএল কমাতে কার্যকর।

গোটা ফল (Whole Fruit): আপেল, বেরি, কমলা, পিচ জাতীয় ফলে থাকে পেকটিন, এক ধরনের সলিউবল ফাইবার এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং কোলেস্টেরল কমায়।

সয়াবিনজাত খাবার (Soy): টোফু, সয়ামিল্ক, এডামামে-তে থাকে আইসোফ্লাভন ও প্রোটিন, যা মাংসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।

সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি (Green Leafy Vegetables): পালং, লেটুস বা পাতার মতো শাকে এমন উপাদান থাকে যা বাইল অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়।

অলিভ অয়েল (Olive Oil): প্রতিদিনের রান্নায় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে এর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও পলিফেনলস ইনফ্লেমেশন যেমন কমায়, এলডিএল-ও কমায়।

গ্রিন টি (Green Tea): গ্রিন টিতে থাকে ক্যাটেচিন, এক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করে।

ফ্যাটযুক্ত মাছ (Fatty Fish): স্যামন, ম্যাকরেল ও সার্ডিন জাতীয় মাছে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় এবং ধমনীতে জমা হওয়া প্লাক রোধ করে।

বাদাম (Nuts): আখরোট, আমন্ডের মতো বাদামে থাকে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার ও প্ল্যান্ট স্টেরল, যা প্রতিদিন এক মুঠো খেলে টোটাল কোলেস্টেরল ও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

ডাল ও ডালজাতীয় শস্য (Legumes and Lentils): ছোলা, মুসুর, রাজমার মতো ডালে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন। এগুলো মাংসের বিকল্প হিসেবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খুবই উপকারী এবং শিশুদের প্রথম খাবার হিসেবেও নিরাপদ।

অ্যাভোকাডো (Avocados): অ্যাভোকাডোতে থাকে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ফাইবার, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভাল কোলেস্টেরল ধরে রাখে। বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।