সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনও লক্ষণই থাকে না। লিভারের এনজাইম পরীক্ষাও অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য কারণে আল্ট্রাসাউন্ড বা ফাইব্রোস্ক্যান করতে গিয়ে হঠাৎ ধরা পড়ে ফ্যাটি লিভার।

শেষ আপডেট: 13 February 2026 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন ঠিকঠাকই আছে, অন্যান্য সব রিপোর্টও ঠিকঠাক। কিন্তু তাতেই সমস্ত চিন্তার অবসান এমনটা ভেবে নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই (Fatty liver in normal weight)। এখানেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন এক গবেষণা।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় চমকে ওঠার মতো তথ্য সামনে এসেছে। দ্য ল্যান্সেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া (The Lancet Regional Health Southeast Asia)-তে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৩৮.৯% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মেটাবলিক-ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)-এ আক্রান্ত হতে পারেন। আগে এই রোগটি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) নামে পরিচিত ছিল।
রোগা চেহারাতে থাবা বসাচ্ছে ফ্যাটি লিভার - চিন্তার নতুন ট্রেন্ড (MASLD India risk)
এতদিন পর্যন্ত মনে করা হত, ফ্যাটি লিভার মূলত ওবেসিটি বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদেরই হয়। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলাচ্ছে। এই রোগে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে লিভারে, যা ধীরে ধীরে প্রদাহ (হেপাটাইটিস) তৈরি করে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে তা মারাত্মক লিভারের রোগে রূপ নিতে পারে (Liver Health)।
‘ফেনোম ইন্ডিয়া-CSIR হেলথ কোহর্ট’ গবেষণায় দেশের ২৭টি শহরের Council of Scientific and Industrial Research-এর ৩৭টি ল্যাব থেকে ৭,৭০০-র বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেখান থেকেই উঠে আসে এই উদ্বেগ জাগানো ট্রেন্ড।
মানেসর ফর্টিস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট অভিনন্দন মিশ্র জানাচ্ছেন, “অনেকদিন ধরে মনে করা হত, যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস আছে বা ব্লাড টেস্টে কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে - শুধু তাদেরই ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, একেবারে স্বাভাবিক ওজন এবং স্বাভাবিক রিপোর্ট থাকা মানুষদের মধ্যেও এই রোগ ধরা পড়ছে।”
এই অবস্থাকে চিকিৎসকেরা ‘লিন ফ্যাটি লিভার’ বলছেন।
কেন হচ্ছে এই সমস্যা?
ডা. মিশ্রর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আপাতদৃষ্টিতে রোগা হলেও শরীরের ভিতরে, বিশেষ করে লিভারের চারপাশে ‘ভিসেরাল ফ্যাট’ জমতে পারে। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও এই লুকোনো চর্বিই লিভারে সমস্যা তৈরি করে।
এছাড়াও সমস্যা হতে পারে -
কেন বিষয়টি উদ্বেগজনক?
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনও লক্ষণই থাকে না। লিভারের এনজাইম পরীক্ষাও অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য কারণে আল্ট্রাসাউন্ড বা ফাইব্রোস্ক্যান করতে গিয়ে হঠাৎ ধরা পড়ে ফ্যাটি লিভার।
চিকিৎসা না করলে এটি ধীরে ধীরে লিভার ইনফ্ল্যামেশন, ফাইব্রোসিস, সিরোসিস-এর মতো গুরুতর অবস্থায় পৌঁছতে পারে।
কীভাবে লিভার সুস্থ রাখবেন?
ডা. মিশ্রর স্পষ্ট বার্তা, “লিভারের স্বাস্থ্য শুধু ওজনের উপর নির্ভর করে না।” বেশ কিছু জিনিসের খেয়াল রাখতে পারলে আগেভাগেই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
লিভার ফাংশন টেস্ট করলে প্রাথমিক সমস্যাও ধরা পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণদের বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করা উচিত।
ফল, সবজি, হোল গ্রেন, প্রোটিন, ফাইবার - এই সবই লিভারের জন্য উপকারী। বাদাম, সিডস এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছও খুব ভাল।
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং, যোগাভ্যাস বা সাঁতার লিভারের চর্বি ২৫-৩০% পর্যন্ত কমাতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি, ট্রান্স ফ্যাট, জাঙ্ক ফুড লিভারের ক্ষতি করে। বাড়ির সাধারণ খাবারই সেরা বিকল্প।
অতিরিক্ত টিপস: মদ্যপান কমানো, ধূমপান এড়ানো, পর্যাপ্ত ঘুম (৭–৮ ঘণ্টা) এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি, পেটে অস্বস্তি, পারিবারিক লিভার রোগের ইতিহাস বা একেবারে কায়িক পরিশ্রম না হয় - তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডা. মিশ্রর কথায়, “শুধু 'দেখতে সুস্থ' হলেই হবে না। সঠিক জীবনযাপনই লিভারকে সুস্থ রাখে।”