কয়েকটি শারীরিক লক্ষণই জানিয়ে দিতে পারে লিভারের ‘SOS’ সিগনাল! বুঝতে পারা যায়, কখন যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে।

ছবি - গুগল
শেষ আপডেট: 20 January 2026 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্যাটি লিভার (fatty liver) আর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (insulin resistance) - এই দুইয়ের মিল শরীরের জন্য প্রায় বিষের মতো। একদিকে লিভারে চর্বি জমে, অন্যদিকে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়। ফল - ওজন বাড়ে, প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন হয়, আর লিভারের ক্ষতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। এমনকী ‘নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো হেপাটাইটিস’ (NASH)-এর মতো গুরুতর অবস্থাতেও পৌঁছতে পারে শরীর।
কিন্তু জানেন কি, কোনও রকম পরীক্ষা ছাড়াও শরীরের প্রাথমিক কিছু উপসর্গতেই লিভারের (Fatty liver symptoms) অবস্থা বোঝা সম্ভব? শুধু কয়েকটি শারীরিক লক্ষণই নাকি জানিয়ে দিতে পারে লিভারের ‘SOS’ সিগন্যাল! বুঝতে পারা যায়, কখন যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে।
সম্প্রতি, দিল্লির দ্বারকার অভিজ্ঞ ডায়াবেটোলজিস্ট ব্রিজমোহন অরোরা (Dr. Brijmohan Arora) ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, শিরোনাম - “How to detect fatty liver without blood tests” অর্থাৎ, কীভাবে কোনও ব্লাড টেস্ট ছাড়াই বুঝতে পারবেন ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। ২৪ বছরের অভিজ্ঞ এই চিকিৎসক জানিয়েছেন, শরীরে কয়েকটি দৃশ্যমান পরিবর্তনই যথেষ্ট ফ্যাটি লিভার বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বোঝার জন্য।
কী লক্ষণে বুঝবেন বিপদ ঘনিয়েছে?
ডাঃ অরোরা বলেন, “যদি পেট খুব বেশি ফুলে থাকে, বিশেষ করে পেটে শক্তভাব বা ছোট ভুঁড়ির মতো দেখা দেয়, সেটা সবচেয়ে বড় বিপদের লক্ষণ। এর মানে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভিসারাল ফ্যাট জমছে - এটাই ফ্যাটি লিভারের প্রথম ইঙ্গিত।”
তিনি আরও জানান, “যদি গলায় বা বগলের আশেপাশে ছোট ছোট আঁচিল বা ট্যাগ দেখা যায়, সেটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের নম্বর ওয়ান সাইন।”
তাঁর মতে, পায়ে যদি লম্বা লম্বা লাল বা বেগুনি দাগ দেখা যায়, মুখ ফুলতে থাকে বা গালের হাড় দেখা না যায়, এবং রক্তচাপ ১৪০-১৫০ এর উপরে ওঠে - তাহলেই সতর্ক হোন। এগুলি সবই শরীরের ভিতরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার লক্ষণ।
রোগীর কাহিনি থেকে শিক্ষা
ডাঃ অরোরা জানিয়েছেন, তাঁর এক রোগী রক্ত পরীক্ষা না করেই জানতে চেয়েছিলেন, লিভার আবার খারাপ হচ্ছে কি না। তিনি আগে ফ্যাটি লিভারে ভুগেছিলেন, পরে তা আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসে পরীক্ষা করতে অস্বীকার করেন। তখন ডাঃ অরোরা তাঁর শরীর পরীক্ষা করেই সম্ভাব্য অবস্থার আন্দাজ দেন, যা ভিডিও আকারে ভাইরাল হয়ে যায়।
করণীয় কী?
চিকিৎসকের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা, চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখা, এবং পর্যাপ্ত ঘুম - এগুলোই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি। রক্ত পরীক্ষার বা যে কোনও টেস্টের আগে নিজের শরীরের কথা শুনুন, তবেই বিপদ ঠেকানো সম্ভব।