
ফ্যাক্ট চেক
শেষ আপডেট: 30 March 2025 21:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝেই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নানা রকমের ঘরোয়া সমাধান ভাইরাল হয়ে থাকে। কিছু জিনিসের উপকারিতা পেলেও বাকি অনেক টোটকাই কোনও কাজে লাগে না। সম্প্রতি একটি ভাইরাল পোস্ট দাবি করছে, এক গ্লাস দুধে (milk) এক চামচ ঘি (ghee), সঙ্গে মিছরি (mishri) মিশিয়ে খেলে তা ব্রেন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের (physical health) উন্নতির পাশাপাশি মানসিক সুস্বাস্থ্যও (mental health) বজায় রাখে। এমনটা নাকি আয়ুর্বেদে (ayurveda) বিধান রয়েছে। কিন্তু সত্যি কি এই ঘরোয়া টোটকার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে?
দুধ, ঘি, মিছরির কী কী গুণ রয়েছে?
দুধে থাকে ক্যালশিয়াম, প্রোটিন, নানা ভিটামিন ও মিনারেলস। হাড় মজবুত করে, মাংসপেশীর কার্যকারিতা বাড়ায়। ব্যালেন্সড ডায়েটের অংশ হিসেবে খাবারের তালিকায় দুধ রাখা যেতেই পারে। কিন্তু ব্রেন তথা শরীরের দুর্বলতা দূর করে বা মানসিক স্বাস্থ্যে দুধের কোনও অবদান আছে, এমনটা নয়।
ঘিয়ে রয়েছে ফ্যাটদ্রাব্য ভিটামিন এবং বিউটাইরিক অ্যাসিড, যা শরীরের প্রদাহ কম করতে সাহায্য করে। হজমে সহায়তা করে, তাড়াতাড়ি এনার্জি আনে। বেশি পরিমাণে ঘি খেলে তা আবার হৃদযন্ত্রের সমস্যা ডেকে আনে, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। দুধের মতোই ঘিয়েরও এমন কোনও গুণ প্রমাণিত হয়নি যা ওই পোস্টের সত্যতা দাবি করে।
চিনির মতোই শরীরকে এনার্জি দেয় মিছরি। কিন্তু চিনির থেকে বেশি স্বাস্থ্যকর হতে পারে, এমন দাবির কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন এই ভাইরাল দাবির সত্যতা নিয়ে?
ইন্দোরের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডক্টর মুসকান ঠাকুরের মতে, দুধে ঘি-মিছরি মিশিয়ে খেলে সাময়িকভাবে তা শরীরকে এনার্জি দিলেও কোনও জটিল শারীরিক সমস্যার সমাধান করতে পারে না এই মিশ্রণ। স্ট্রেস-অ্যাংজাইটি-ডিপ্রেশনের মতো সমস্যার মোকাবিলায় করতে এর কোনও ভূমিকা নেই। নিউরোলজিক্যাল কোনও ডিসঅর্ডার বা বয়সের কারণে ব্রেনে কোনও দেখা দিলে সেখানে ডাক্তারের পরামর্শই সঠিক সমাধান।
তিনি আরও বলেন, ‘আয়ুর্বেদ বলে গোটা শরীরকে ব্যালেন্সড রাখা উচিত। কিন্তু যে কোনও সমস্যায় এই ধরনের টোটকার ব্যবহার করা মানে যে কোনও শারীরিক জটিলতাকে লঘু করে দেখা।’
অতএব, এই ধরনের যে কোনও ভাইরাল ভিডিওর যে কোনও দাবি যে সত্য নয়। তা বলাই বাহুল্য। দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্ত বোধ করলে, বা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকলে বেশি দেরি না করে তাড়াতাড়ি ডাক্তার বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।