
ফ্যাক্ট চেক। গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 16 April 2025 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি এক্স (X)–এ একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে- এয়ারপড (airpod) বা এই ধরনের ডিভাইস থেকে উচ্চমাত্রায় ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (EMF) নির্গত হয়, যা ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর। তার ফলে ক্যানসারও (brain cancer) হতে পারে। এমনকি পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, এয়ারপড নাকি মোবাইল ফোনের চেয়ে ১১ গুণ বেশি ক্ষতিকর এবং এগুলোকে ছোট মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
People who often place cell phones next to their ear get brain cancer. The instructions say never get the phone closer than 1 inch from your skin!
— W.R. Schock, QBD (@iontecs_pemf) August 14, 2023
AirPods are 11x as destructive and will be outlawed soon when the public finds out they are miniature microwave ovens. pic.twitter.com/gv3cv7oYRA
EMF আসলে কী?
EMF বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড হল সেই শক্তি যা যে কোনও বৈদ্যুতিক ডিভাইসের চারপাশে তৈরি হয়। এটি দু’ধরনের হতে পারে:
1. নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন: কম ফ্রিকোয়েন্সির এই রেডিয়েশন সাধারণত ক্ষতিকর নয়। মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ডিভাইস, ওয়াই-ফাই রাউটার এসব থেকে এই ধরনের রেডিয়েশন বের হয়। এটি এতটাই দুর্বল যে শরীরের কোষে থাকা শক্তভাবে বাঁধা ইলেকট্রন আলাদা করতে পারে না, তাই শরীরে আয়নাইজেশন হয় না। ফলে ক্ষতিও হয় না।
2. আয়নাইজিং রেডিয়েশন: এই ধরনের রেডিয়েশন অনেক বেশি শক্তিশালী। এক্স-রে কিংবা গামা রে এর অন্তর্ভুক্ত। এগুলো কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাহলে EMF কি আসলেই ভয়ংকর?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO- World Health Organization) বলছে, গত দুই দশকে প্রচুর গবেষণা হলেও, মোবাইল ফোন বা এয়ারপড ব্যবহার করে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে, এমন কিছু এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এনসিআই-এর (NCI, National cancer Institute) কিছু গবেষণায় ব্রেন টিউমার বাড়ার হালকা ইঙ্গিত থাকলেও, সেই গবেষণাগুলোতে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে ক্যানসারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের কোনও সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
যে পরিমাণে এসব ডিভাইস থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনেক নিচে থাকে। ফলে এগুলোর ব্যবহার নিরাপদ বলেই ধরা হয়।
অতএব, এয়ারপড থেকে ব্রেন ক্যানসার হয় এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এয়ারপড থেকে মোবাইল ফোনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি রেডিয়েশন বেরোয়- এই তথ্য পুরোপুরি ভুল ও সেই রেডিয়েশন যে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো বলে দাবি করা হয়েছে তাও বিভ্রান্তিকর। মাইক্রোওয়েভ ওভেন যেসব ফ্রিকোয়েন্সি ও পাওয়ারে কাজ করে, তা একেবারেই অন্যরকম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন আরও অনেক ভুল তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। হেডফোন ব্যবহারে মানুষের কান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা মুখের প্যারালিসিস হচ্ছে— এসব গুজব থেকে সতর্ক থাকুন। শুধু খেয়াল রাখুন, হেডফোন বা এয়ারপডে শব্দের মাত্রা যেন খুব বেশি না হয়।
যে পোস্টে বলা হয়েছিল এয়ারপড ব্যবহারে ব্রেন ক্যানসার হয়, তা ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে যে কোনও ডিভাইস ব্যবহার করার সময় প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং সেই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলাই ভালো। স্বাস্থ্যবিষয়ক যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বা কোনওরকম শারীরিক অস্বস্তি বোধ করলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
তথ্যসূত্র: থিপ মিডিয়া