প্রতিদিন একটি করে কলা খেলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। বিষয়টি শুনতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই এটি এক বিভ্রান্তিকর তথ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 25 June 2025 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালে অনেকেরই বাড়ির ছোট থেকে বড়দের ব্রেকফাস্টে ফল থাকবেই। কেউ কেউ সেক্ষেত্রে কলাকে ভাল এবং সুষম অপশন হিসেবে বেছে নেন। কেউ কেউ মনে করেন শরীরে ইনস্ট্যান্ট এনার্জি দিতে পারে একমাত্র কলা-ই। সেকথা অনেকাংশে ঠিকই।
ডিজিটাল যুগে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছুই ভাইরাল হয়। সম্প্রতি তেমনই ভাইরাল একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ‘A banana a day, keeps the cardiologist away’। অর্থাৎ, প্রতিদিন একটি করে কলা খেলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। বিষয়টি শুনতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই এটি এক বিভ্রান্তিকর তথ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

কলা ও হৃদরোগ থেকে ছুটি- এই সম্পর্ক কতটা বাস্তবসম্মত?
ড. স্বাতি ডেভ (PhD, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন) বলেন, ‘প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। তবে এটিকে হৃদরোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় ভাবা ভুল। এটি কেবল সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই কার্যকর।’
মালভিকা ফুলওয়ানি (Founder, Healthitude) জানিয়েছেন, ‘পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স একটু বেশি হয়, তাই ডায়াবেটিসে সচেতন থাকা জরুরি। তবে সঠিকভাবে খেলে কলা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা একটি পুষ্টিকর ফল। এতে থাকে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম (৪০০-৪৫০ মিগ্রা/মাঝারি কলা), প্রোবায়োটিক ফাইবার, ভিটামিন বি৬ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস। পটাশিয়াম রক্তে অতিরিক্ত সোডিয়াম কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা কমে। এছাড়া, ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তবে একথাও মনে রাখা জরুরি, একটি কলা খাওয়াই যথেষ্ট নয়। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে, হৃদরোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস (ফল, সবজি, কম ফ্যাটযুক্ত প্রোটিন), নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা, স্ট্রেস কমানো। এছাড়া পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চেকআপও জরুরি। তাই বলা যায়, কলা খেলে উপকার মিললেও, চিকিৎসকের বিকল্প নয়।
গ্লাইকেমিক ইনডেক্স (GI) ও কলা: ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কী বার্তা?
কলার গ্লাইকেমিক ইনডেক্স (GI) সাধারণত ৪৮ থেকে ৬০-এর মধ্যে, যা ‘লো থেকে মিডিয়াম’ ক্যাটেগরিতে পড়ে। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ ধীরে বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
তবে পুরোপুরি পাকা কলায় প্রাকৃতিক সুগার বেশি থাকে, ফলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি দ্রুত হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের উচিত সীমিত পরিমাণে কলা খাওয়া, কলার সঙ্গে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন বাদাম, দই) খাওয়া।
অতএব ‘A banana a day keeps the cardiologist away’—শুনতে ভাল লাগলেও, বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় এ দাবি পুরোপুরি সঠিক নয়। কলা অবশ্যই একটি স্বাস্থ্যকর ফল, যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে, তবে একা কোনও ফল বা খাবার চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে না। সতর্ক থাকুন, বিজ্ঞানসম্মত তথ্য জানুন।