'ওল্ড ইজ গোল্ড'—এই প্রবাদটি যেন ঠিক একেবারেই মানিয়ে যায় যোগ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে। হাজার হাজার বছরের পুরনো ভারতীয় এই সাধনার শরীর ও মনের উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হলেও, বর্তমানে আরও একটি বিশেষ শাখা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে—ফেস যোগা।

ফেস যোগা
শেষ আপডেট: 21 June 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ওল্ড ইজ গোল্ড'—এই প্রবাদটি যেন ঠিক একেবারেই মানিয়ে যায় যোগ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে। হাজার হাজার বছরের পুরনো ভারতীয় এই সাধনার শরীর ও মনের উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হলেও, বর্তমানে আরও একটি বিশেষ শাখা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে—ফেস যোগা। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৫-এ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজ মাত্র ১০ মিনিটের ফেস যোগা আপনার মুখের ত্বক ও পেশিকে টোন করে তুলতে পারে—তাও আবার কেমিকেল বা সার্জারির ঝুঁকি ছাড়াই।
কী বলছেন যোগ বিশেষজ্ঞ?
সার্টিফায়েড যোগা মাস্টার বিভূতি অরোরা জানাচ্ছেন, "প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট ফেস যোগা করলেই চোখে পড়ার মতো বদল আসতে পারে মুখে। ত্বক হবে উজ্জ্বল, পেশি টোনড এবং চেহারায় আসবে লিফটিং ইফেক্ট।" গবেষণা বলছে, ফেসিয়াল মাসাজের মাধ্যমে মুখের পেশিগুলি সচল হয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকে গ্লো আসে।
কেন মাত্র ১০ মিনিটই যথেষ্ট?
মুখে রয়েছে ৫০টিরও বেশি সূক্ষ্ম পেশি। আমরা এগুলোর অধিকাংশই সচেতনভাবে ব্যবহার করি না। এই পেশিগুলোর উপরে ভর করেই নির্ভর করে মুখের আকৃতি ও অভিব্যক্তি। যেহেতু পেশিগুলি খুব পাতলা এবং ত্বকের নীচেই থাকে, তাই অল্প সময়ের ফল মেলে দ্রুত।
শরীরের যোগাসনের মতোই মুখেও লাগে ‘অ্যাকটিভেশন’
যেমন আমরা শরীরের যোগাসনে কিছু পজিশন কিছুক্ষণ ধরে রাখি, তেমনই ফেস যোগাতেও ১০ মিনিটের ছোট ছোট অনুশীলন যথেষ্ট। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, কোলাজেন তৈরি হয়, ত্বক টানটান হয়—কিন্তু অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। বিভূতি অরোরা জানাচ্ছেন, “যখন মুখের পেশিগুলি সক্রিয় হয়, তখন তাদের বিশ্রামেরও প্রয়োজন হয়। সেখানেই ঘটে আসল পরিবর্তন—মুখ টানটান হয়, ত্বকে আসে জেল্লা।”
রক্ত চলাচল বাড়ায়, দূর করে ফোলাভাব
ফেস যোগা ও মাসাজ লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বকের ফোলাভাব কমে, টক্সিন বেরিয়ে যায়, এবং ত্বক দেখে সতেজ ও উজ্জ্বল। তবে শুধুমাত্র ফেস যোগা করলে কখনও কখনও বলিরেখা বাড়তে পারে—তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, যোগাসনের সঙ্গে হালকা মাসাজেরও প্রয়োজন রয়েছে। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে, পেশির টেনশন কমে।
শুরু করবেন কীভাবে?
দিনে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিন
পরিষ্কার মুখে হালকা অয়েল বা ক্রিম মেখে অনুশীলন করুন
ভ্রু, গাল, কপাল ও চিবুকের পেশিগুলিকে ধীরে ধীরে অ্যাকটিভেট করুন
প্রতিটি অনুশীলনের পরে পেশিগুলিকে বিশ্রাম দিন