শিশুরা ঠিকমতো বুঝিয়ে বলতে পারে না তাদের দেখতে কোনওরকম সমস্যা হচ্ছে। ফলে অনেক সময় বাবা-মা চোখের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝতে পারেন না।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুরা প্রায়ই ঠিকমতো বুঝিয়ে বলতে পারে না যে, তাদের দেখতে কোনওরকম সমস্যা হচ্ছে (children vision problems)। ফলে অনেক সময় বাবা-মা চোখের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝতে পারেন না। মুম্বইয়ের সুর্য আই হসপিটালের চোখের চিকিৎসক, লাসিক ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ জয় গোয়াল জানালেন, কোন লক্ষণগুলোর দিকে বাবা-মা ও শিক্ষকরা খেয়াল রাখলে শিশুর চোখের সমস্যা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব (early detection of eye issues in kids)।
ডাঃ জয়ের কথায়, “ভারতে প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লক্ষ শিশু স্কুলে যায় ঠিকমতো চোখের পরীক্ষা (pediatric eye test) ছাড়াই। এদের মধ্যে অনেকের চোখের সমস্যা যেমন নিকটদৃষ্টি (myopia), দূরদৃষ্টি (hyperopia) বা অ্যাস্টিগমাটিজম থাকে, যার ফলে তারা ক্লাসে স্পষ্টভাবে দেখতে পায় না। ফলস্বরূপ, তারা প্রায়ই পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মূল চ্যালেঞ্জ হল, শিশুদের চোখের সমস্যা প্রায়ই চোখে পড়ে না। সমস্যা দেখা দিলে তা শিক্ষাজীবন ও দৈনন্দিন কার্যকলাপকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাবা-মা ও শিক্ষককেরই সচেতন থাকা উচিত এবং লক্ষণগুলো খেয়াল রাখতে হবে, যেগুলো দেখে বোঝা যায় বাচ্চার চশমার প্রয়োজন আছে।”
শিশুর চোখের সমস্যা বোঝার লক্ষণ
ডাঃ জয় কিছু লক্ষণ উল্লেখ করেছেন, যা থেকে বোঝা যেতে পারে যে, শিশুর চোখের সমস্যা থাকতে পারে:
১) একাগ্রতা কম থাকা
চোখের সমস্যাযুক্ত শিশুরা দীর্ঘসময় ধরে কোনও কাজ করতে গিয়ে আগ্রহ হারায়। তারা পড়া, আঁকা বা খেলার মতো কাজ থেকে সরে থাকে। পড়ার সময় পাতায় চোখ রাখতেও অসুবিধা হয়। অনেক শিশুই সমস্যা লুকিয়ে রাখে এবং বাবা-মাকে জানায় না।
২) ডিভাইস বা বই খুব কাছ থেকে দেখা
টেলিভিশন, মোবাইল ডিভাইস বা বই চোখের খুব কাছে ধরে থাকা লক্ষণ হতে পারে। এভাবে তারা স্পষ্টভাবে দেখতে পারে। তাই এই বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন।
৩) অতিরিক্ত চোখ ঘষা
চোখ ঘষলে চোখে চাপ বা ক্লান্তি বোঝায়। এটি এলার্জি কনজাংকটিভাইটিস বা অন্যান্য চোখের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৪) চোখে ব্যথা বা মাথাব্যথা
শিশু দিনের শেষে চোখের ক্লান্তি বা ব্যথা অনুভব করলে তা চোখের অতিরিক্ত চেষ্টার কারণে হতে পারে।
৫) চোখ কোঁচকানো
চোখ সংকুচিত করলে তারা সাময়িকভাবে স্পষ্টভাবে দেখতে পারে। এটি চোখের ফোকাস সমস্যা বা রিফ্র্যাকটিভ এরর নির্দেশ করে।
৬) এক চোখ ঢেকে রাখা বা মাথা কাত করা
শিশু স্পষ্টভাবে দেখতে মাথা কাত করে বা এক চোখ ঢেকে রাখে। এটি ‘লেজি আই’ বা চোখের সঠিক অবস্থানহীনতা (amblyopia, strabismus) নির্দেশ করতে পারে।
শিশুর চোখে সমস্যা থাকলে কী করতে হবে?
ডাঃ জয় বলেন, “স্কুলে নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মাকেও তাদের সন্তানদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করাতে হবে। যদি শিশুর ভিশন স্ক্রিনিংয়ে সমস্যা ধরা পড়ে, তবে কমপ্লিট চোখের পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এতে দৃষ্টি স্পষ্টতা, নিকট ও দূরদৃষ্টি, চোখের অবস্থান এবং ক্রসড আই বা লেজি আই-এর মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা হয়। যদি কোনও সমস্যা ধরা পড়ে, চিকিৎসা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুর দৃষ্টি ঠিক থাকা শিক্ষার মান এবং সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চোখের সমস্যা গোপনে শিশুর শেখার ক্ষমতা, ক্রিয়াকলাপ ও আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। তাই বাবা-মা ও শিক্ষকরা প্রাথমিক লক্ষণগুলো খেয়াল রাখুন এবং সময়মতো চোখের পরীক্ষা করান। আজকের চোখের যত্ন শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।”