
শেষ আপডেট: 13 November 2023 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখ সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। তাই চোখের যত্নই সবচেয়ে আগে দরকার অথচ চোখের ব্যাপারেই আমরা সবচেয়ে বেশি উদাসীন। চোখের ক্ষতি করছে আধুনিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের অতিরিক্ত ব্যবহার। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ড্রাই আই আমাদের একটা বড় মাথাব্যথা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে চোখ, একটানা তাকিয়ে থেকে চোখে ব্য়থা, চোখ থেকে জল পড়ার মত সমস্যা হচ্ছে। চোখের পলক ফেলতে ভুলে যাচ্ছেন মানুষ। আর তাতেই বাড়ছে ড্রাই আই-এর সমস্যা। চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, চোখ চুলকানোর মতো সমস্যাই বুঝিয়ে দেবে যে, আপনার চোখের জল শুকিয়ে যাচ্ছে।
ড্রাই আই কেন হয়?
স্মার্ট ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটার মনিটরের যত ভাল পিকচার কোয়ালিটি, তত কষ্ট কম । অর্থাৎ স্ক্রিনের রেজোলিউশন কত সেটা জেনে নিতে হবে। চোখের রেজোলিউশন ৭৪ মেগাপিক্সেলেরও বেশি। এবার পর্দার রেজোলিউশন যত এর কাছাকাছি হবে তত কষ্ট কম হবে।
অনেকেই সারাক্ষণ একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন । ফলে চোখে চাপ পড়ে বেশি। চোখ জ্বালা করতে থাকে, অনবরত জল পড়ে। অন্ধকারের মতো বেশিক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইলে চোখ রাখলেও চোখে ব্যথা হবে, চোখ ভারী লাগবে। অনেকেই ভাবেন স্ক্রিন থেকে তো আলো বের হয়, তাহলে আর আলো জ্বালানোর দরকার নেই। ভুলটা হয় এখানেই। কম্পিউটার বা মোবাইলের রশ্মি চোখে ঢুকে কর্নিয়ার ক্ষতি করে।
ড্রাই আইয়ের আরও একটা কারণ হল, চোখের রিফ্লেক্স রেটের তারতম্য হওয়া। যখন আমরা বই পড়ি তখন চোখ অক্ষরগুলিকে স্ক্যান করে যায় তার স্বাভাবিক রিফ্লেক্সে। একটা অক্ষর পড়তে এক পলকও লাগে না, অর্থাৎ জোর করে তাকিয়ে থেকে বা কষ্ট করে পড়তে হয় না। আর চোখে ক্ষতিকর আলোও যায় না, ফলে চোখের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। একেই বলে রিফ্লেক্স রেট কম থাকা। তাছাড়া চোখের পাতা বন্ধ হয়, খোলে নিজের নিয়মে, বজায় থাকে চোখের আর্দ্রতা। ফলে ছাপা ভাল হলে ও ঘরে আলো ঠিক থাকলে অনেকখানি পড়ে যাওয়ার পরও চোখ ফ্রেশ থাকে। কিন্তু মোবাইল, ল্যাপটপের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। স্ক্রিনে ভাল আলো আর বাইরে কম, এমন হলে চোখে চাপ পড়ে। আর সমস্যা তৈরি হয় সেই থেকেই।
ড্রাই আই থেকে বাঁচতে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের মধ্যে জলের ঝাপটা দেবেন না। চোখ বন্ধ করে ঠান্ডা জল দিন। চোখের জলেরও অনেক উপকারি উপাদান আছে, তা সব বেরিয়ে গেলে চোখের ক্ষতি হয়।
চোখের সমস্যা মানেই আই ড্রপ দেন অনেকে। এই ড্রপ দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে। ডাক্তাররে পরামর্শ নিয়ে তবেই আই ড্রপ দেওয়া উচিত। আই টোন নামে একধরনের আই ড্রপ আছে যা এই ড্রাই আই সারাতে পারে দ্রুত। আই টোন আয়ুর্বেদিক আই ড্রপ। ভেষজ উপাদানে তৈরি হওয়ায় এটি চোখের জন্য নিরাপদ। এতে আছে নিম, তুলসী, হলুদ, মধুর মতো ভেষজ উপাদান যা চোখের চুলকানি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জল পড়ার সমস্যা দূর করে। দৃষ্টিশক্তি অনেক স্বচ্ছ করে। অ্যামাজন, অ্যাপোলো ফার্মেসি থেকে আইটোন আই ড্রপ কেনা যাবে। ফ্লিপকার্ট, নেটমেডসে গিয়েও অর্ডার দেওয়া যাবে।
তাছাড়া আরও কিছু দিকে খেয়াল রাখা উচিত যেমন, অনেক ক্ষণ এক দৃষ্টে মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর চোখের বিশ্রাম নিন। চোখ বন্ধ করে থাকতে পারেন। অন্ধকার ঘরে টিভি দেখা বা অপর্যাপ্ত আলোয় পড়াশোনা করার অভ্যাস থাকে অনেকের। এতে চোখে স্ট্রেস পড়ে। পর্যাপ্ত আলোর যাতে ব্যবস্থা থাকে সে খেয়াল রাখতে হবে।
অনেকেই চোখ কটকট করলে, কোনও সমস্যা হলে বা ঘুম পেলে হাত দিয়ে চোখ কচলান। এতে হাতের ময়লা চোখে গিয়ে ক্ষতি হয়। তাই সেদিকেও সাবধান থাকতে হবে।