বিশ্ব সুখ দিবসে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, ডুমস্ক্রলিং আপনার আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারে বাড়ছে মানসিক ক্লান্তি ও অসন্তোষ।

সোশ্যাল মিডিয়ার ডুমস্ক্রলিং
শেষ আপডেট: 20 March 2026 10:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরেকটু দেখে নিই-এই ভাবনা বিপজ্জনক। বলা হচ্ছে মোবাইল দেখার কথা। এই একটু দেখে নেওয়ার শেষটা কোথায়? বিশ্ব সুখ দিবসে (World Happiness Day) সামনে এল এক অস্বস্তিকর সত্য-ডুমস্ক্রলিং (Doomscrolling) আমাদের সুখ কেড়ে নিচ্ছে নিঃশব্দে!
ঘুমোতে যাওয়ার আগে, কাজের ফাঁকে বা লাইনে দাঁড়িয়ে—মোবাইল হাতে নিলেই শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) স্ক্রল। কয়েক মিনিটের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢোকা কিন্তু বেরোতে বেরোতে কেটে যায় অনেকটা সময়। অথচ শেষে মনটা ভাল হয় না বরং অদ্ভুত ক্লান্তি (Mental Fatigue) চেপে বসে।
অ্যাস্টার আরভি হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি ও কাউন্সেলিং সার্ভিসেসের (Psychiatry & Counselling Services) কনসালট্যান্ট মনোবিদ ডা. মুরলী কৃষ্ণ (Dr. Murali Krishna) বলছেন, এর পিছনে কাজ করে ডোপামিন লুপ (Dopamine Loop)। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (Platforms) এমনভাবে তৈরি, যেখানে অনিশ্চিত পুরস্কার—একটা লাইক, মেসেজ বা আকর্ষণীয় পোস্ট—মস্তিষ্কে ডোপামিন (Dopamine) তৈরি করে। ফলে বারবার স্ক্রল করতে ইচ্ছে করে কিন্তু তৃপ্তি আসে না, বরং চাহিদা বাড়তেই থাকে।
সমস্যা আরও গভীর হয় প্যাসিভ স্ক্রলিংয়ে (Passive Scrolling)। আমরা শুধু দেখি, পড়ি, রিঅ্যাক্ট করি কিন্তু সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকি না। এতে সময় নষ্ট হওয়ার অনুভূতি (Time Loss) তৈরি হয়। ডা. কৃষ্ণর কথায়, “এই ধরনের ব্যবহারে মানুষ নিজেকে অপ্রোডাক্টিভ (Unproductive) বা ক্লান্ত মনে করে।”
তার উপর রয়েছে তুলনার ফাঁদ (Comparison Trap)। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় সাজানো জীবনের ছবি—সফলতা, আনন্দ, বিলাসিতা। এতে বাস্তবতা বিকৃত হয়। অন্যের জীবন বেশি সুখী মনে হতে শুরু করে, যা আত্মসম্মানে (Self-Esteem) প্রভাব ফেলে।
এতেই শেষ নয়। একটার পর একটা পোস্ট, ভিডিও, আপডেট—এই দ্রুত বদলাতে থাকা কনটেন্ট মনোযোগ (Attention Span) ভেঙে দেয়। ফলে কোনও কাজে মন বসে না, কমে যায় কাজের তৃপ্তি (Satisfaction)।
তাহলে উপায়?
পুরোপুরি স্ক্রলিং ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং সচেতন ব্যবহার (Intentional Use)। সময় বেঁধে নিন, কতটা সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাচ্ছেন খেয়াল রাখুন। আর কিছুটা সময় সরিয়ে রাখুন অফলাইন কাজের (Offline Activities) জন্য—বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া, রান্না করা বা বন্ধুকে ফোন করা।
ছোট এই বদলগুলোই এনে দিতে পারে জীবনে সুখ ও শান্তি। কারণ, সুখ (Happiness) লুকিয়ে থাকে না অন্তহীন ফিডে বরং সেই মুহূর্তগুলোতে পাওয়া যায়, যেগুলো আমরা প্রায়শই স্ক্রল করে পাশ কাটিয়ে যাই।