গবেষণায় দেখা গেছে ভারতের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হবে। এ দেশে ২০৫০ সাল নাগাদ শারীরিক অলসতাজনিত কারণে প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যায় মৃত্যুহার হতে পারে ১০.৬২ শতাংশ। সংখ্যাটি নেহাতই কম নয়।

জলবায়ুর পরিবর্তন বাড়াচ্ছে আলসতা
শেষ আপডেট: 18 March 2026 19:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজের চাপে সকালে ঘুম ভাঙে না? জিমে যাওয়া বা সকালে হাঁটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সাবধান! সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষের মধ্যে অলসতা (fatigue) বাড়বে। শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা বাড়বে। আর এই ‘ফিজিক্যাল ইনঅ্যাক্টিভিটি’ বা অলস জীবনযাত্রার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭ লক্ষ করে বাড়বে অকাল মৃত্যুর ঘটনা। সম্প্রতি অন্যতম বিজ্ঞান পত্রিকা ‘দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’-এ (The Lancet Global Health) এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
কেন বাড়ছে এই উদ্বেগ?
আর্জেন্টিনার পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটিসহ লাতিন আমেরিকার একদল গবেষক ১৫৬টি দেশের ২০০০ থেকে ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মডেল তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা যত বাড়বে, মানুষের ঘরের বাইরে বেরিয়ে শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করার ক্ষমতা ততই কমবে। বিশেষ করে ক্রান্তীয় (Tropical) অঞ্চলের দেশগুলোতে এই সমস্যা হবে ভয়াবহ।
রিপোর্টে আর কী কী বলা হচ্ছে?
অকাল মৃত্যু ও আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা: ২০৫০ সালের মধ্যে শারীরিক অলসতার কারণে বছরে অতিরিক্ত ৪.৭ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। পাশাপাশি, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে।
তাপমাত্রা ও অলসতার যোগসূত্র: দেখা গেছে, গড় তাপমাত্রা ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে গেলেই শারীরিক অলসতা বিশ্বজুড়ে ১.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই হার আরও বেশি (১.৮৫ শতাংশ)।
ভারতের পরিস্থিতি: গবেষণায় দেখা গেছে ভারতের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হবে। এ দেশে ২০৫০ সাল নাগাদ শারীরিক অলসতাজনিত কারণে প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যায় মৃত্যুহার হতে পারে ১০.৬২ শতাংশ। সংখ্যাটি নেহাতই কম নয়।
হু-র (WHO) তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি পরিশ্রম অথবা ৭৫ মিনিট কঠোর ব্যায়াম করা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের প্রতি তিন জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এক জন এই লক্ষ্যপূরণ করতে পারছেন না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে অলসতা ১৫ শতাংশ কমানোর যে লক্ষ্য ‘হু’ নিয়েছে, তাকে বড়সড় ধাক্কা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে মানুষের শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলিতে দিনের বেলা সাধারণ হাঁটাচলাও দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলে হৃদরোগসহ বিপাকীয় নানা সমস্যা (Cardiometabolic diseases) বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাঁচার পথ কী?
গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, শরীরচর্চাকে এখন শুধু ‘লাইফস্টাইল চয়েস’ হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং একে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি জরুরি অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
কারণ উষ্ণায়নের কারণে বাড়ছে অলসতা, আর তার হাত ধরেই বাড়ছে নানা মারণ রোগ।