সম্প্রতি লন্ডনের বারমন্ডসি বিয়ার মাইলে (Bermondsey Beer Mile) প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেট বিয়ার তৈরির প্রক্রিয়া দেখেন, নিজ হাতে গ্লাসে পানীয় ঢালেন, কিন্তু নিজে এক ফোঁটাও মুখে তোলেননি। কেটের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে একটি বিতর্ক উস্কে দিয়েছে: ক্যানসার সারভাইভারদের জন্য কি মদ্যপান একেবারেই নিষিদ্ধ? মদ্যপান কী ক্যানসার ডেকে আনতে পারে?

কেট মিডলটন
শেষ আপডেট: 18 March 2026 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৪ সালে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য কেট মিডলটন (kate Middleton) ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর যখন সামনে আসে, তখন তা ছিল সারা বিশ্বের কাছে এক বড় ধাক্কা। দীর্ঘ লড়াই আর চিকিৎসার পর ২০২৫ সালে ক্যানসারমুক্ত বা 'রেমিশন'-এ ফেরার কথা জানান প্রিন্সেস অফ ওয়েলস। কিন্তু লড়াইটা শুধু হাসপাতালেই শেষ নয়, ক্যানসার (Cancer) জয়ের পর জীবনযাত্রায় (life Style) আমূল বদল এনেছেন কেট। তাঁর এই নতুন রুটিনের সবথেকে বড় দিক হল— মদ্যপান বা অ্যালকোহল পুরোপুরি বর্জন করা।
সম্প্রতি লন্ডনের বারমন্ডসি বিয়ার মাইলে (Bermondsey Beer Mile) প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেট বিয়ার তৈরির প্রক্রিয়া দেখেন, নিজ হাতে গ্লাসে পানীয় ঢালেন, কিন্তু নিজে এক ফোঁটাও মুখে তোলেননি। কেটের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে একটি বিতর্ক উস্কে দিয়েছে: ক্যানসার সারভাইভারদের জন্য কি মদ্যপান একেবারেই নিষিদ্ধ? মদ্যপান কী ক্যানসার ডেকে আনতে পারে?
কেন অ্যালকোহল ক্যানসারের 'ভিলেন'?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, অ্যালকোহল হল 'গ্রুপ ১ কার্সিনোজেন'। অর্থাৎ এটি সরাসরি মানুষের শরীরে ক্যানসার সৃষ্টি করতে সক্ষম। যখন আমরা মদ্যপান করি, শরীর সেই অ্যালকোহলকে ভেঙে অ্যাসিটালডিহাইড (Acetaldehyde) নামক এক বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি করে। এই রাসায়নিকটি:
• শরীরের সুস্থ কোষের DNA নষ্ট করে দেয়।
• ক্ষতিগ্রস্ত DNA মেরামত করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
• ধীরে ধীরে কোষে মিউটেশন ঘটায় যা পরবর্তীকালে ক্যানসারের রূপ নেয়।
ক্যানসার রিসার্চ ইউকে (Cancer Research UK)-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল আরও যে উপায়ে শরীরে ক্যানসার বাসা বাঁধতে সাহায্য করে তা হল:
বিয়ার, ওয়াইন বা হুইস্কি —যে প্রকারেই অ্যালকোহল হোক, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। এমনকি হ্যাংওভার কাটানোর কোনও ঘরোয়া টোটকাই অ্যালকোহলের কারণে হওয়া স্থায়ী ক্ষতিকে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারে না।
কোন ৭ ধরণের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় মদ্যপান?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে নিয়মিত মদ্যপান মূলত ৭টি ভিন্ন ধরণের ক্যানসারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে:
রেমিশনে থাকাকালীন মদ্যপানের ঝুঁকি কতটা?
যাঁরা কেট মিডলটন বা রাজা চার্লসের মতো ক্যানসার জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন, তাঁদের মনে একটাই ভয় থাকে— ক্যানসার কি আবার ফিরে আসবে (Recurrence)? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মদ্যপান এই ভয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
১. নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি: বিশেষ করে মাথা, গলা এবং কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চিকিৎসার পরও মদ্যপান চালিয়ে গেলে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
২. দ্বিতীয়বার ক্যানসার: স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য মদ্যপানও শরীরে দ্বিতীয় কোনও নতুন ক্যানসার (Second Primary Cancer) তৈরির পথ প্রশস্ত করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের মতো যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার পর শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল থাকে। অ্যালকোহল সেই ক্ষমতাকে আরও কমিয়ে দেয়, ফলে শরীর দ্রুত সেরে উঠতে পারে না।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: কতটা নিরাপদ?
অনেকে মনে করেন সামাজিক অনুষ্ঠানে একটু-আধটু মদ্যপান বোধ হয় নিরাপদ। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আর সেই ছাড় দিচ্ছে না। WHO স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্যানসারের ঝুঁকির ক্ষেত্রে অ্যালকোহলের কোনও 'সেফ লিমিট' বা নিরাপদ মাত্রা নেই।
কেন সাবধান হওয়া জরুরি?
কেট মিডলটনের মতো পাবলিক ফিগাররা যখন নিজেদের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কথা খোলাখুলি জানান, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ে। ক্যানসার জয় মানে শুধু চিকিৎসা শেষ হওয়া নয়, বরং নিজের শরীরকে নতুন করে আগলে রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারমুক্ত জীবনে দীর্ঘকাল সুস্থ থাকতে অথবা ক্যানসার প্রতিহত করতে মদ্যপান থেকে দূরে থাকাই সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ। তাই বুঝে পান করুন।