বলিউড অভিনেতা হর্ষবর্ধন রানের একটি পুরনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'দারচিনি আমার পার্সোনাল ফ্যাট বার্নার।' তারপর থেকেই বহু রিল ও ভিডিও ঘুরছে, যাতে দারচিনি খেতে বলা হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 July 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমাতে একটা সময় ওষুধ খাওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া ইত্যাদির প্রচলন ছিল কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, মানুষ সচেতন হচ্ছেন আর ঝুঁকছেন পুরনো বা প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহারে। রান্নাঘরের উপাদান থেকে বাজারে পাওয়া জিনিসপত্রে ভরসা বাড়ছে। সমীক্ষা বলছে, ৮৭% ভারতীয়ই ওজন কমাতে স্বাভাবিক উপায় জানতে আগ্রহী। আর এর হাত ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চায় 'দারচিনি।'
বলিউড অভিনেতা হর্ষবর্ধন রানের একটি পুরনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'দারচিনি আমার পার্সোনাল ফ্যাট বার্নার।' তারপর থেকেই বহু রিল ও ভিডিও ঘুরছে, যাতে দারচিনি খেতে বলা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন এই উপাদান কি আদৌ ওজন কমাতে কার্যকর? কাজ করে অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ন করতে? খোঁজ নিল দ্য ওয়াল।
দারচিনি আসলে সিনামোমাম (Cinnamomum) গাছের ছাল থেকে তৈরি সুগন্ধি মশলা। আমাদের দেশে মূলত কাশিয়া দারচিনি ব্যবহৃত হয়, যার স্বাদ একটু ঝাঁঝালো। তবে এখন অনেকেই 'সেইলন সিনামন'-এর দিকেও ঝুঁকছেন। এটা বেশি মিষ্টি স্বাদের এবং কম মাত্রায় কুমারিন (coumarin) থাকে, যা অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ডায়েটিশিয়ান ও ডায়াবিটিস এডুকেটর ডঃ অর্চনা বাত্রা জানাচ্ছেন, দারচিনি রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে গ্লুকোজের হঠাৎ ওঠানামায় কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা ওজন বাড়ায়। দারচিনি সেই ওঠানামা কমিয়ে খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও,
নিউট্রিশনিস্ট খুশবু জৈন তিবরেওয়ালা বলছেন, 'দারচিনি ওজন কমানোর ম্যাজিক উপাদান নয়, তবে ওজন কমায়। এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়, যার ফলে চিনি ও কার্বের হ্যান্ডলিং শরীরে ভাল হয়। সেই সঙ্গে খিদেও নিয়ন্ত্রণ করে। খাওয়ার পর রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাই খাবারের পরে দারচিনি চা খাওয়ার আয়ুর্বেদিক প্রথার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে।'
একটি ২০২০ সালের গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিদিন ৩ গ্রাম দারচিনি তিন মাস খেলে রক্তে গ্লুকোজ, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ও কোলেস্টেরল মাত্রা কমতে পারে।
ডায়েটিশিয়ান ডঃ ঋদ্ধি চাওলা বলছেন, 'দারচিনির মধ্যে থাকা সিনামাল্ডিহাইড ফ্যাট মেটাবলিজম বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত জিন ও এনজাইমকে সক্রিয় করে। এমনকি এটি শরীরের ক্যালোরি বার্নের হার একটু হলেও বাড়াতে পারে।'
কীভাবে খাবেন দারচিনি?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন এক চতুর্থাংশ থেকে আধ চা চামচ দারচিনি খাওয়া নিরাপদ। সেইলন দারচিনি বেশি ভাল, কাশিয়া দারচিনি অতিরিক্ত খেলে কুমারিনের প্রভাবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দারচিনি গুঁড়ো গরম জল, চা, ওটস, স্মুদি বা ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। কোনও ক্যাপসুল বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
দারচিনির ভাল দিক তো গেল, খেলে কী কী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে তাও জেনে নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত কাশিয়া দারচিনি খেলে লিভার ড্যামেজ হতে পারে। রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাঁদের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারও কারও মুখে ঘা বা অ্যালার্জি হতে পারে। শুকনো দারচিনি গুঁড়ো নাকে-মুখে গেলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
দারচিনি কোনও ম্যাজিক নয়। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিন ব্যবস্থাপনা, হজমে সহায়ক এবং হালকা মেটাবলিজম বুস্ট করে, এই চারটি কারণে ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে মাত্র। তবে একে ওজন কমানোর একক উপায় হিসেবে ভাবা ভুল হবে। সুষম খাদ্য, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম আর মানসিক শান্তির থাকলে তবেই এই উপাদান কাজ করতে পারবে।