প্রতিটি মুড সুইং যে শুধু আচরণগত কারণই দেখা দেয়, এমন নয় (child irritability causes)। শরীরের ভেতরে কিছু সমস্যা থাকলেও তার প্রভাব আচরণেও স্পষ্ট দেখা যায়।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 7 December 2025 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুরা কখনও কখনও অতিরিক্ত চঞ্চল, খিটখিটে হয়ে পড়ছে (kids mood swings)। মনোযোগ কমে (concentration problems) যাচ্ছে। এইসব সমস্যা দেখা দিলেই মা-বাবাদের মনে নানারকম প্রশ্ন উঠে (parenting)। স্ক্রিনটাইম বেশি হয়ে যাচ্ছে? চিনি বেশি খাচ্ছে? নাহলে কি আচরণগত সমস্যা (child behaviour)?
প্রতিটি মুড সুইং বা এই ধরনের লক্ষণ (child irritability causes) যে শুধু আচরণগত কারণই দেখা দেয়, এমন নয়। শরীরের ভেতরে কিছু সমস্যা থাকলেও তার প্রভাব আচরণেও স্পষ্ট দেখা যায়, বিশেষত হজম সংক্রান্ত কোনও ইমব্যালেন্স বা সমস্যা থাকলে।
শিশুদের গাট বা পেট অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই ভেতরে কিছু গণ্ডগোল হলেই তার প্রতিফলন দেখা যায় এনার্জি, ঘুম আর মুডে। এর অন্যতম, কিন্তু খুব কম পরিচিত, কারণ হল হিস্টামিন ওভারলোড (histamine overload in kids)।
হিস্টামিনের এই সমস্যাকেই আচরণগত বলে ভুল করেন অনেকে - বলছেন পুষ্টিবিদ
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই শিশুর খিটখিটে ভাব, ঘুমের সমস্যা বা হঠাৎ পেট ব্যথাকে আমরা “আচরণগত” বলে ধরে নিই। কিন্তু তাঁর মতে, “এটা আচরণ নাও হতে পারে, এটা হতে পারে হিস্টামিন ওভারলোড।”
হিস্টামিন কীভাবে সমস্যা তৈরি করে?
লভনীত সহজ কথায় বোঝান, হিস্টামিন এমন একটি বিষয় যার প্রভাব দেহ প্রতিদিনই সামলায়। কিন্তু যখন গাটে কোনও ইনফ্লেমেশন থাকে, অথবা ডিএও (DAO) এনজাইম (যা হিস্টামিন ভাঙতে সাহায্য করে) কমে যায়, তখন শরীরে হিস্টামিন জমতে শুরু করে। তখনই শুরু হয় উপসর্গ। যেমন -
যে খাবারগুলি সংবেদনশীল শিশুদের জন্য সমস্যা বাড়ায়
পুষ্টিবিদ জানান, কিছু খাবার হিস্টামিনে ভরপুর বা হিস্টামিন রিলিজ করায়। যেমন -
এসব খাবার হিস্টামিন সংবেদনশীল শিশুদের শরীরে আরও চাপ ফেলে।
যে পুষ্টিগুলি শিশুর শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সাহায্য করে
হিস্টামিন ব্যালেন্স করে গাটকে শক্তিশালী করতে লভনীত বাত্রা কিছু উপকারী উপাদানের পরামর্শ দেন -
এগুলি হিস্টামিনের ভারসাম্য রাখতে ও হজমতন্ত্রকে সুস্থ করতে সাহায্য করে।
উপসর্গ কমলে কী পরিবর্তন দেখা যায়?
হিস্টামিন লেভেল স্থির হলে শিশুদের মুড শান্ত হয়, ঘুম ভাল হয়, পেটব্যথা কমে এবং মনোযোগ বাড়ে - বলছেন পুষ্টিবিদ। ফলে “আচরণ” ঠিক করার চেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে গাটকে সাপোর্ট করা, যাতে শিশু ভেতর থেকে সুস্থ অনুভব করে।
পুষ্টিবিদ লভনীতের শেষ কথা, “হিস্টামিন ব্যালান্স করুন। গাটকে সাপোর্ট করুন। শিশুর আচরণ নিজে থেকেই ঠিক হতে শুরু করবে।”
কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার বাড়াবাড়ি মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।