
গ্রাফিক - শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 20 December 2024 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪০-৫০ বছর পেরোনোর পর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে! তবে প্রচলিত এই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েকটি ঘটনা।
সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সি একাধিক শিশু-কিশোরের। বাংলা থেকে উত্তরপ্রদেশ, কমবেশি একাধিক রাজ্যেই রয়েছে এমন নজির।
স্কুলের স্পোটর্সের জন্য দৌড় প্র্যাকটিস করতে গিয়ে সম্প্রতি দরদর করে ঘামতে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বছর চোদ্দোর কিশোর মোহিত চৌধুরী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নেতিয়ে পড়ে সে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়, হার্ট অ্যাটাক! পরিসংখ্যান বলছে, সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুধু উত্তরপ্রদেশের আলিগড়েই পাঁচজন শিশু-কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
এ তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবাংলাও। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে খিদিরপুরে স্কুলে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। পরে মৃত্যু হয় তার। হার্ট অ্যাটাকের ফলেই মৃত্যু বলে অনুমান। গত বছরের জুনে এলগিন রোডের স্কুলে প্রার্থনার লাইনে দাঁড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছিল আর এক ছাত্রীর।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে সাম্প্রতিক সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া শিশু-কিশোরদের মধ্যে একটি কমন ফ্যাক্টর রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকেই হয় খেলতে গিয়ে, নয়তো দৌড়তে গিয়ে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
ইন্ডিয়ান পেডিয়াট্রিকসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ২ লক্ষের বেশি শিশু হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়। এবং সারা দেশে মোট মৃত্যুর শতকরা প্রায় ২৫ জন্যের মৃত্যু হয় হৃদরোগের কারণে।
এই ধরনের খবর বারবার সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে কি শিশু বয়সেও হৃদরোগে আক্রান্তের ঘটনা ঘটতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, ওভাবে হার্ট অ্যাটাকের নির্দিষ্ট কোনও বয়স নেই। অনেক কারণেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। আসলে কী কারণে হার্ট অ্যাটাক, সেটা চিহ্নিত করা জরুরি।
এ ব্যাপারে ইন্সটিটিইউট অফ চাইল্ড হেলথের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ডক্টর অয়ন দাস বলেন, "কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট নানা কারণে হতে পারে। সেটা হৃদরোগের সমস্যা থেকেও হতে পারে আবার নিউমোনিয়া বা ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা থেকেও। তবে ঠিক কী কারণে হার্ট অ্যাটাক, সেটা না জানা পর্যন্ত এটা বলা যায় না, যে হৃদরোগ বাড়ছে।"
অয়ন এও বলেন, "তবে দু’তিনটে রোগ আছে সমস্যাজনক। যেমন ককসাসি ভাইরাস রয়েছে যা থেকে ইনডুস মায়োকার্ডিয়াসিস হতে পারে। হাইপার ট্রপিক কার্ডিওপ্যাথিও হতে পারে। ফলে ঠিক কী কারণে হৃদরোগে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে সেটা দেখা জরুরি।"
তিনি এও বলেন, সম্প্রতি শিশু-কিশোরদের জীবনযাপনে অনেক বদল এসেছে। সে জন্য তাদের মধ্যে নানা অসুখ এমনকি হার্টের অসুখও বাড়ছে। তবে এটাও ঠিক, শতকরা হিসেবে তা খুবই নগণ্য। ফলে এ নিয়ে বিশেষ আতঙ্কের কারণ নেই।