
প্রতীকী ছবি - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 20 March 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটু বয়স বাড়লেই গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা বসাও কষ্টদায়ক। সহজে এখন আর্থ্রাইটিস (Arthritis) নামে পরিচিত এই ব্যথার নাম। সারবে কবে, এই এটা বিশাল বড় প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি পোস্টে বলা হয়েছে, কলা-পেঁয়াজ-হলুদের (Banana turrneric onion mixture) মিশ্রণ খেলেই নাকি মাত্র তিনদিনেই আর্থ্রাইটিস থেকে মুক্তি। কতটা সত্যতা রয়েছে এই দাবিতে?
পিনটারেস্ট নামক সোশ্যাল মিডিয়া (Social media) প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল একটি পোস্টে দেখা যাচ্ছে, পেঁয়াজ, কলা ও হলুদ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে খেলে নাকি ম্যাজিকের মতো সারবে (Permanently cure) আর্থ্রাইটিস, গাঁটের ব্যথা।
আর্থ্রাইটিস থেকে সত্যিই কি তিন দিনে সেরে যেতে পারে?
গাঁটে ব্যথা, ইনফ্লেমেশন, স্টিফনেসের সমস্যা এই রোগের মূল উপসর্গ। আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা এত সহজে সারে না। আর তিন দিনের সময়ে কোনওভাবেই সেরে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রায় ১০০ ধরনের আর্থ্রাইটিস হতে পারে। এই রোগের এখনও পর্যন্ত একেবারে সেরে যাওয়ার কোনও ইতিহাস নেই। নিয়মিত ট্রিটমেন্টে থাকলে উপসর্গ কমিয়ে আনা যায়, জয়েন্টের ক্ষয় ধীরগতিতে আনা সম্ভব। এইভাবে আস্তে আস্তে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা যেতে পারে।
এমনকি, মেডিক্যালি ট্রিটমেন্ট শুরু হওয়ার পরও ওষুধের সুফল পেতে পেতে তিন দিন তো দূরের কথা, সপ্তাহ বা মাস ঘুরে যায় অনেক সময়।
হলুদ, কলা এবং পেঁয়াজের কি আদৌ কোনও ভূমিকা আছে আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায়?
হলুদে থাকে কারকিউমিন, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টি ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে। হলুদে যে পরিমাণ কারকিউমিন থাকে তা শরীরে ঠিক করে অ্যাবসর্ব করতে গেলেও পাশাপাশি গোলমরিচ বা ঘি মেশাতে হয়। কিন্তু আর্থ্রাইটিসের সমস্যা অনেক বেশি জটিল। সেখানে এই গুণ বিশেষ কোনও উপকার করতে তেমন পারে না।
পেঁয়াজ আর কলাতেও তাদের নিজ নিজ গুণ থাকলেও আর্থ্রাইটিসে আলাদা করে কোনও উপকার করতে পারে না। কলা খেলে আবার অনেক সময় এর মধ্যে থাকা ফ্রুকটোজ রক্তে পরোক্ষভাবে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে গাউটের সমস্যা বৃদ্ধি করে।
দেখে নিন বিশেষজ্ঞের কী মত
নভি মুম্বইয়ের জেনারেল ফিজিশিয়ান, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইন ডিজিটাল হেলথ, ডিপ্লোমা ইন ফ্যামিলি মেডিসিন ডক্টর আলমাস ফাতমা জানিয়েছেন, আর্থ্রাইটিসের সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান নেই। ইনফ্লেমেশন ও ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে জয়েন্টের এই সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায় না। হলুদ, কলা, পেঁয়াজের নিজস্ব গুণাগুণ থাকলেও তা কখনওই তা সারিয়ে তুলতে পারে না। বরং জীবনযাত্রার মান উন্নত করে, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে, ফিজিওথেরাপির মধ্যে থেকে কন্ট্রোলে রাখা যায় অনেকাংশেই।
শুধুমাত্র ডায়েট দিয়ে আর্থ্রাইটিসের সমাধান সম্ভব নয়। তবে ব্যালেন্সড ডায়েটের মধ্যে থাকলে তা মোকাবিলা করা যেতে পারে।
এক কথায় তাই বলা যেতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়ার ওই ভিডিওতে দেখানো হলুদ-কলা-পেঁয়াজের মিশ্রণের সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের থেকে মুক্তির কোনও যোগাযোগ নেই। এইসব ক্ষেত্রে ঘরোয়া কোনও সমাধানের ভরসায় বসে না থেকে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
তথ্যসূত্র: থিপ মিডিয়া