এখন এই নিয়ে আরও বেশি করে কথা বলার সময় যে, এটি আসলে মানসিক সমস্যা হলেও এর জাল ছড়িয়ে রয়েছে শরীরের গভীরে (anxiety physical effects)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের কাছে মানসিক সমস্যা (Mental Health issue) নিয়ে অনেক তথ্যই সহজে এসে পৌঁছয়। তেমনই একটা নাম 'অ্যাংজাইটি' (anxiety)। এই নিয়ে অনেক কথা হলেও আসল সমস্যা এটাই যে, অনেকে বুঝতেই পারেন না তাঁরা অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন (anxiety awareness)। তাই এখন এই নিয়ে আরও বেশি করে কথা বলার সময়, যে এটি আসলে মানসিক সমস্যা হলেও এর জাল ছড়িয়ে রয়েছে শরীরের গভীরে (anxiety physical effects)।
মনোবিশেষজ্ঞরা (Meantal Health experts) সবসময় সতর্ক করেন, যেকোনও মানসিক সমস্যা তখনই গভীরে গিয়ে পৌঁছেছে বলে বুঝতে হবে, যখন তা আপনার মানসিক অস্থিরতার সীমা ছাড়িয়ে দৈনন্দিন জীবনের কাজের মাঝেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় (Anxiety effects on daily life)। বিজ্ঞানের কথায়, অ্যাংজাইটি শুধু মনেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরো শরীরের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। যদি নিয়ন্ত্রণে না রাখা যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। ২০২১ সালে প্রায় ৩৫.৯ কোটি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই রোগে আক্রান্ত প্রতি ৪ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন চিকিৎসা পান।
অ্যাংজাইটির অদৃশ্য শারীরিক প্রভাব
অ্যাংজাইটিতে যাঁরা ভুগছেন তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত চিন্তা, ভয় বা অস্থিরতা কাজ করে। অনেক সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। এগুলো কেবল মানসিক উপসর্গ নয়, বরং স্ট্রেসের ফলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা বা “stress response system” অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যাওয়ার ফল।
দীর্ঘদিন ধরে অ্যাংজাইটিতে ভুগতে থাকলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে একসঙ্গে একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রভাব পড়ে, কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে এবং বাড়িয়ে তোলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি।
হৃদরোগের ঝুঁকি
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অ্যাংজাইটি হার্টরেট, রক্তচাপ ও ইনফ্ল্যামেশন বাড়িয়ে তোলে। এই সব পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিয়ারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে
দীর্ঘস্থায়ী অ্যাংজাইটি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে দেয়। এর ফলে বারবার সংক্রমণে ভোগে শরীর।
ক্রনিক পেশিতে ব্যথা
অ্যাংজাইটি শরীরের পেশিকে শক্ত করে দেয়, ফলে ঘাড়, পিঠ, কাঁধে ব্যথা বা মাথাব্যথা দেখা দেয়। অনেকে দাঁত চেপে রাখেন বা চোয়ালে টান অনুভব করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের অ্যাংজাইটির সমস্যা গুরুতর, তাঁদের পেশি টান ও ব্যথার মাত্রাও বেশি।
হজমজনিত সমস্যা
অ্যাংজাইটিতে ভুগতে ভুগতে অনেকেরই অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে বদহজম, বমিভাব, পেটব্যথা, গ্যাস, এমনকী Irritable Bowel Syndrome (IBS) পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে গভীর সংযোগ রয়েছে—একটির ভারসাম্য নষ্ট হলে অন্যটিও প্রভাবিত হয়।
ভাল খবর এটাই যে, অ্যাংজাইটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম এবং আত্মসচেতনতা - সব মিলিয়ে মন শান্ত রাখার প্রতিটি পদক্ষেপ শরীরকেও সুস্থ রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাংজাইটিকে ভয় পাওয়ার বদলে যদি আমরা এটাকে নিজেদের মানসিক শক্তি গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখি, তাহলে ধীরে ধীরে এর প্রভাব কমানো সম্ভব।
তবে, সচেতনভাবে ভাবতে হবে যে মন যেন আমাদের কন্ট্রোল করতে না পারে। যদি মনে হয়, এমন চিন্তিত হয়ে পড়ছেন যা আপনার দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে, সেই সমস্যাই আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে - মনোবিদের সাহায্য নিন। কোনও বিশেষ শারীরিক সমস্যা যদি বারবার ঘুরে ফিরে আসতে থাকে, তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।