শীতে রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে ঘরেই বানিয়ে নিন প্রাচীন পদ্ধতিতে তৈরি ‘আমলকি-হলুদ কানজি’। ফেরমেন্টেড এই প্রোবায়োটিক ড্রিঙ্ক বাড়ায় ইমিউনিটি, উন্নত করে হজমশক্তি এবং শরীরকে রাখে ডিটক্স।

শেষ আপডেট: 9 December 2025 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতকাল মানেই সর্দি-কাশি-জ্বর। বাচ্চা থেকে বড় কেউ ছাড় পায় না। এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো খুবই দরকার, বলছেন চিকিৎসকরা। সবসময় চবনপ্রাশ বা কেনা খাবার দাবারে কাজ হয় না। ঘরোয়া পদ্ধতিতেই বাড়তে পারে ইমিউনিটি।
সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই কানজির ভিডিও ঘুরতে দেখবেন। এটা এখন ভাইরাল। অনেকে অনেক রকম পদ্ধতি বলে। কোনটা সঠিক, কোনটা দেখে কানজি করলে পারফেক্ট হবে, সেনিয়ে কনফিউসড হলে এই প্রতিবেদন আপনার জন্য।
আয়ুর্বেদে বেশ পরিচিত
আমলকি-হলুদ কানজি (Amla Haldi Kanji)। সরাসরি আমলকি (Amla) এবং কাচা হলুদ (Kachi Haldi) ব্যবহার করে তৈরি এই পানীয় বছরের পর বছর ধরে আয়ুর্বেদে (Ayurveda) পরিচিত ডিটক্স (Detox) ও রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর কাজ করছে। গবেষণা বলছে, আমলকির গুণ নিয়ে তো আলাদা করে কিছু বলার নেই। এই ফল নির্দিষ্ট কিছু মানুষ বাদে সকলেরই উপকারে লাগে। আমলকির রস ইমিউনিটি বুস্টার এবং চুলের যত্নে (Amla Juice for Hair) বিশেষভাবে কার্যকর। অন্যদিকে, কাচা হলুদ ইনফ্ল্যামেশন কমায়, শরীর পরিষ্কার রাখে এবং রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়ায়।
উত্তর ভারতীয়দের পছন্দের
উত্তর ভারতের শীতকালীন পানীয় কানজি (Kanji) যেখানে প্রাকৃতিক ভাবে ফেরমেন্টেশন ব্যবহৃত হয়, সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত এই আমলকি-হলুদ সংস্করণ। ফেরমেন্টেশনের ফলে পুষ্টিগুণ শরীরে সহজে শোষিত হয়, বিশেষ করে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট (Antioxidant)। শীতকালে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, পাচনশক্তি উন্নত করতে ও গাট হেলথ (Gut Health) ভাল রাখতে এটি কার্যকর বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। নিয়মিত ফেরমেন্টেড খাবার খেলে অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়, এমনই তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়।
পঞ্জাবে কালো গাজর, উত্তরপ্রদেশে সরষে এবং আধুনিক ঘরানায় বিট ব্যবহার করে কানজি তৈরি হয়। সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন আমলকি–হলুদ কানজি।
কীভাবে বানাবেন?
এক কাপ কুচোনো আমলকি, দুই টেবিল চামচ কুচোনো হলুদ এবং চার কাপ জল দিয়ে শুরু। তার পরে তাতে গুড়ো সরষে (Mustard Seeds), বিট নুন (Black Salt), সাধারন নুন আর ইচ্ছেমতো অল্প গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন। কাচের বোতলে এই মিশ্রণ রেখে দুটি থেকে তিন দিন রোদে ফেরমেন্ট করলেই তৈরি হয়ে যাবে কানজি। যে কদিন রোদে থাকবে, প্রতিদিন একবার নাড়িয়ে দিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার পরে স্বাদ দেখে বেশি তীব্র চাইলে আরেক দিন রাখা যাবে। শেষে ছেঁকে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা বা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবেশন করতে হবে।
শীতে রোগ প্রতিরোধ, পাচনশক্তি এবং ডিটক্সের প্রাকৃতিক সমাধান খুঁজছেন?
আমলকি–হলুদ কানজি আপনার ডায়েট-লিস্টে সহজেই জায়গা করে নিতে পারে। বানিয়ে ফেলুন চটজলদি।