ওজন কমানোর পিছনেও একটা বিজ্ঞান রয়েছে, তা বুঝে নিলে আপনি সেইসব ভুল থেকে দূরে থাকবেন এবং দ্রুত ফল পাবেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 June 2025 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকালকার যুগে অনেকের কাছেই বাড়তে থাকা ওজন একটা বড় সমস্যা। তার একটা বড় কারণ, অনেকেই ব্যস্ততার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে শুধু পেট ভরানো খাবারের দিকেই খেয়াল রাখেন, পুষ্টিগুণ তাতে অনেকাংশেই থাকে না। সেই খাবার, বিশেষত জাঙ্ক, ফাস্ট ফুড তাড়াতাড়ি শরীরের মেদ জমায়।
আবার অনেকেই হয়তো হাজারো নিয়ম মেনে ওজন কমানোর চেষ্টায় আছেন, কিন্তু ফল পান না। খাবার নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম করেও অনেকের শরীর থেকে মেদ ঝরে না। ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় ফিটনেস কোচ মেলিসা বলছেন- অনেকেই ‘হেলদি’ খাবার খাচ্ছেন, কিন্তু তা আসলে তাদের শরীর মেদ ঝরাতে পারছে না। কারণ তারা কিছু অভ্যাসে ভুল করছেন, যা জানলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব।
মেলিসা নিজে ৪০-এর পরে ফিট ও স্লিম হয়েছেন, সম্প্রতি ৬টি বড় ভুলের কথা সামনে এনেছেন যা, আদতে ওজন কমানোর পথে বড় বাধা। তাঁর কথায়, ‘ওজন কমানোর পিছনেও একটা বিজ্ঞান রয়েছে, তা বুঝে নিলে আপনি আপনার সময় ও শক্তি সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে পারবেন। ফলে সেইসব ভুল থেকে দূরে থাকবেন এবং দ্রুত ফল পাবেন।’

খাবার বেশি খাওয়া – স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত খাবার ক্যালোরি বাড়ায়: অনেকে সালাড, বাদাম, ড্রেসিং খেয়ে ভাবেন তাঁরা হেলদি খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু অজান্তেই এই হেলদি খাবারের চক্করে আমরা বেশি খেয়ে ফেলি। তাতে ক্যালোরি-ও বাড়ে, যা আদতে মেদ বাড়ায়। তাই পরিমাণ মেনে খাবার অত্যন্ত জরুরি।

পছন্দের পানীয়তে লুকোনো থাকে ক্যালোরি – ক্যাপুচিনো হোক বা এনার্জি ড্রিঙ্ক লিকুইড খাবারে চিবোনো হয় না, তাই ব্রেন ঠিক সিগন্যাল পায় না যে আপনি কতটা খাচ্ছেন। এর ফলে অতিরিক্ত খিদেও তৈরি হতে পারে।

প্রোটিন কম খাওয়া – মেদ ঝরানোর অন্যতম বাধা খাবারে প্রোটিনের মাত্রা সঠিক খেলে পেট ভরা থাকে বেশিক্ষণ। শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে, ক্যালোরি বার্ন ঠিকঠাক হয়। কম প্রোটিন খেলে এই সমস্ত সাইকেলটাই ধীর হয়ে পড়ে।

বাড়তে থাকা স্ট্রেস এবং ঘুম ও বিশ্রাম এড়িয়ে চলা আজকাল কাজের চাপে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুমোন। বেশি স্ট্রেসেও থাকেন আর শরীরকে বিশ্রামের সুযোগ দেন না। এ কারণে শরীরে কর্টিসল নামক হরমোন বাড়ে, যা মেদ ধরে রাখে শরীরে। স্ট্রেস বেশি থাকলে বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব হলে তা খিদেও বাড়ায়।

পর্যাপ্ত জল না খাওয়া- শরীরে জলের ভারসাম্য নষ্ট হলে তা নানারকম ভাবে সিন্যাল দিতে শুরু করে। তাই শরীরের সঠিক ফাংশনের জন্য পর্যাপ্ত জল খাওয়া প্রয়োজন। কম জল খেলে মেটাবলিজম কমে যায়, টক্সিন শরীর থেকে বেরোতে পারে না। আর খিদে না পেলেও শরীর খিদে পাওয়ার সিগন্যাল দিতে থাকে।

প্রতি দিন অতিরিক্ত কার্ডিও করা- প্রতিদিন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কার্ডিও শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়ায়, যা ইনফ্লেমেশন ও ক্লান্তি ডেকে আনে। বেশি কার্ডিও শরীরকে হিল হতে দেয় না, ফলে শরীরের স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মেদ ঝরানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।