
শেষ আপডেট: 4 February 2024 00:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচার সত্ত্বেও তা নিয়ে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে সোজাসাপটা কথায় বলতে গেলে স্তনের টিস্যুতে যে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হয়, তা-ই আসলে ব্রেস্ট ক্যানসার। স্তন ক্যানসার সম্পর্কে অজ্ঞতা, স্তন নিয়ে অহেতুক স্পর্শকাতর হওয়া, লজ্জা পাওয়া এবং ‘সেল্ফ এগজামিনেশন’ বা নিজেই নিজের স্তন কী ভাবে পরীক্ষা করা যায়, সে সম্পর্কে ধারণা না-থাকার জন্য এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
ডাক্তারবাবু বলছেন, স্তন ক্যানসার যদি গোড়া ধরা পড়ে তাহলে নির্মূল হওয়া সম্ভব। রক্তের কিছু পরীক্ষা রয়েছে, ম্য়ামোগ্রাফি স্ক্রিনিংও ভাল পদ্ধতি। বিগত কয়েক দশক ধরে স্তন ক্যানসার সচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে, এই রোগের ঝুঁকি এবং এর প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সব স্তরের মহিলাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ৭-৮ বছর আগেও এই ধরনের স্তন ক্যানসার হতো মোট স্তন ক্যানসার-আক্রান্তদের ১০-১৫ শতাংশের। এখন যা দাঁড়িয়েছে ৩১-৪০ শতাংশে। আমাদের দেশে ৯১% ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারের কোনও পারিবারিক ইতিহাস থাকে না। তবে যাঁদের পরিবারে আগে এই রোগ হয়েছে, সেখানে অনেক সময়ে এই রোগের ক্লাস্টার দেখা দিতে পারে। কয়েক প্রজন্ম অন্তর অন্তর রোগের প্রাদুর্ভাব ফিরে আসতেই পারে।
কীভাবে স্তন পরীক্ষা করবেন
১) আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তনের দিকে সোজা তাকিয়ে দেখুন, তার আকারে কোনওরকম অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ছে কী?
২) দু’ হাত মাথার উপর তুলে দেখুন কোনও পরিবর্তন চোখে পড়ছে কিনা। তারপর হাত দুটো হিপের উপর রেখে কনুই সোজা করে আরও ভাল করে দেখুন কোনওরকম অস্বাভাবিকতা নজরে আসছে কিনা।
৩) স্তনের পাঁচটি ভাগ আছে, আপার ইনার, লোয়ার ইনার, আপার আউটার, লোয়ার আউটার আর সেন্ট্রাল। তিনটি আঙুল দিয়ে ভাল করে স্তন পরীক্ষা করে দেখুন কোনও অংশে ফোলা লাগছে কিনা।
৪) স্তনের চারপাশের অংশও ভাল করে পরীক্ষা করে দেখুন। কোনওরকম মাংসপিণ্ড তৈরি হলে সতর্ক হতে হবে। বগলের আশেপাশে পিণ্ড, ফোলা বা ব্যথা থাকলে সতর্ক হতে হবে।
৫) স্তনবৃন্ত থেকে কোনও ক্ষরণ হলেও সাবধান হতে হবে। স্তনের চামড়ায় কোনও ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে, যেমন কুঁচকে যাওয়া, গর্ত হয়ে যাওয়া, কালশিটে পড়া, ঘা হওয়া, তাহলেও সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
প্রতি মাসে একবার করে নিজেই পরীক্ষা করুন।