
শেষ আপডেট: 17 February 2024 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রেনে টিউমার বাসা বেঁধেছিল বহুদিন। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখেছিলেন এই টিউমার অত্যন্ত বিরল, খুব কম জনেরই হয়। এর নাম ডিআইপিজি। এই টিউমার হলে বাঁচার আশা প্রায় থাকে না বললেই চলে। বেলজিয়ামের চিকিৎসকরা ডিআইপিজি সারিয়ে তুলেছেন নিখুঁতভাবে। ছেলেটিও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে বলে খবর।
ছেলেটির টিউমার নির্মূল হয়েছে, জানিয়েছেন ডাক্তার জ্যাকাস গ্রিল। তিনি বলছেন, নতুন একরকম ওষুধের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। সেই ওষুধের ডোজেই সেরে উঠেছে ছেলেটি। ওই ওষুধের ট্রায়াল এখনও চলছে। খুব তাড়াতাড়ি তা বাজারে নিয়ে আসা হবে।
চিকিৎসকর বলছেন, ছেলেটির লক্ষণ দেখেই বোঝা গিয়েছিল ব্রেন টিউমারে ভুগছে। প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব ছিল তার। হাসপাতালে এমআরআই করে ধরা পড়ে মাথার সামনের অংশে ডানদিকে টিউমার হয়েছে। বেশিদিন রোগীকে ফেলে রাখলে প্রাণ সংশয় হতে পারত। এমনিতেও টিউমারের কারণে মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল।
ব্রেন টিউমার দু’রকমের হয়। বিনাইন মানে ভাল টিউমার এবং ম্যালিগন্যান্ট মানে খারাপ টিউমার। ম্যালিগন্যান্সি ধরা পড়লে সেই টিউমার ক্যানসারের কারণ হয়ে ওঠে। বিনাইন টিউমার গোড়াতে ধরা পড়লে ট্রিটমেন্টে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। খারাপ টিউমার আবার অনেক রকম হয়। কিছু টিউমার এমন থাকে যেখানে ডাক্তারের ট্রিটমেন্টে থাকলে রোগী ২০ বছর অবধি বাঁচতে পারে। আবার যদি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার লাস্ট স্টেজে গিয়ে ধরা পড়ে তাহলে বাঁচার সম্ভাবনা কমে যায়। নিউরোলজিস্টদের আধুনিক থেরাপিতে এক বছরের মতো বাঁচতে পারে রোগী।
ব্রেন টিউমারের ট্রিটমেন্টে প্রাথমিক ধাপ হল রোগ চিহ্নিতকরণ। বায়োপসি করার পরে সার্জারি করা হয়। টিউমার হয়েছে শুরুতেই তা বোঝা সম্ভব হয় না। মস্তিষ্কের সাইলেন্ট জোনে যদি টিউমার হয় তাহলে এর লক্ষণ সেভাবে প্রকাশ পায় না। টিউমার যত আড়েবহরে বাড়বে ততই তার উপসর্গগুলো সামনে আসবে। টিউমার কোন পর্যায় আছে তা জানা যায় সিটি স্ক্যান করে। এরপরে এমআরআই করে ধরা পড়ে সেটা কোথায় রয়েছে ও কতটা বড় হয়েছে। টিউমারটি কতটা ক্ষতিকারক পর্যায়ে গেছে তা বুঝে থেরাপির প্ল্যান করা হয়। রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি করে টিউমার কোষ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন আবার আরও উন্নত অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি বেরিয়ে গেছে।
ভারতে ব্রেন টিউমারের নানা রকম সার্জারি রয়েছে। টিউমারের অবস্থান বুঝে বাইরে থেকে রেডিওসার্জারি করে ছোট ছোট টিউমার যেমন ২.৫ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চির মতো সেগুলিকে নষ্ট করে দেওয়া হয় বা ছোট করে দেওয়া হয়। ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় এখন মাইক্রো-নিউরোসার্জারির প্রয়োগ করছেন ডাক্তারবাবুরা। কলকাতা, দিলির হাসপাতালেই এই চিকিৎসা হয়। সার্জারি করতে মাইক্রোস্কোপের সাহায্য নিতে হয়। এই পদ্ধতিতে অনেক কম সময় যন্ত্রণাহীন অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। রোগীও কম দিনে সেরে উঠতে পারেন।