
শেষ আপডেট: 1 February 2024 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনেই দশম ও দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষা। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও শুরু হবে আর কিছু দিনের মধ্যেই। সব মিলিয়ে এই সময়টা হল পরীক্ষার মরসুম। পরীক্ষা মানেই বাড়তি উদ্বেগ, টেনশন। তাই শীত পেরিয়ে বসন্তের রঙিন ছোঁয়া বাতাসে মিশলেও পরীক্ষার্থী আর তাদের অভিভাবকদের কানে বাজছে—‘পরীক্ষা এসে গেছে।’ পরীক্ষার আগে বুক ধড়ফড় করবে, একটু চিন্তা হবে—সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সময় মনের জোর বাড়ানোটাও দরকার।
মনোবিদরা বলছেন, বোর্ডের পরীক্ষাই শেষ কথা নয়। পরীক্ষার সময় ভয়-ভীতি দূর করা যেমন জরুরি, তেমনই ভবিষ্যতে লক্ষ্য কী সে নিয়েও স্বচ্ছ ধ্যানধারণা থাকা দরকার। তাহলেই মোটিভেশন আসবে। পড়াতেও মন বসবে আর পরীক্ষার ভয়ও থাকবে না। মনে রাখতে হবে, অন্যান্য শ্রেণির পরীক্ষার চেয়ে বোর্ড পরীক্ষা আলাদা কিছু নয়। বাড়তি জ্ঞানের দরকার হয় না। শুধু নিয়ম করে পড়া আর দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু জিনিস মেনে চললে সহজে সাফল্য আসবে।
কী কী করা জরুরি?
১) পরীক্ষার আগের রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। রাত জেগে পড়া বা পরীক্ষার দিন ভোর ৪টে থেকে পড়তে বসে যাওয়ার দরকার নেই। পরীক্ষার আগের রাতে প্রচুর পড়ার চাপ না নেওয়াই ভাল।
২) পরীক্ষার আগের এই সময়টাতে একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা অভ্যাস করা ভাল। রাতে তাড়াতাড়ি শোওয়া আর এক-আধ ঘণ্টা আগে উঠে গেলে দেখবেন দিনটা অনেক বড় লাগবে। প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
৩) নিজে জীবনে কী করতে চান সেই বিষয়ে যদি আপনার স্বচ্ছ ধারনা থাকে তবেই আপনি জীবনে সফল হতে পারবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের পুরো দিনটা মনে মনে ছকে ফেলুন। সারা দিনে কী করতে চান, কোন কাজটা আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে তা মনে মনে ভেবে নিন।
৪)সারা দিন মুড ভাল রাখতে ও এনার্জি বাড়াতে সকালে ঠিক করে খাওয়া প্রয়োজন। ব্রেকফাস্ট সঠিকভাবে করতে হবে, তাহলেই সারাদিন পড়াশোনা করা বা অন্য কাজ করার এনার্জি পাওয়া যাবে।
৫) রোজ ঘুম থেকে হালকা ব্যয়ামের রুটিন তৈরি করে ফেলা ভাল। প্রতিদিন অল্প করে হলেও শরীরচর্চা করতে হবে। পড়াশোনার পাঁকেও একটু হেঁটে আসা বা স্ট্রেচিং করে নেওয়া ভাল। এতে মনের উপর চাপ কমবে। আবার পড়তে বসলে সেই পড়াও ভাল হবে।
৬) এই সময়টা বাড়ির খাওয়া খাওয়াই ভাল। এখনকার ছেলেমেয়েরা বিঞ্জ ইটিংয়ে অভ্যস্ত। পরীক্ষার ভয় হচ্ছে তো একগাদা জাঙ্ক ফুড খেয়ে স্ট্রেস কাটানোর চেষ্টা করে। এতে হিতে বিপরীত হয়। ট্রান্স ফ্যাট অবসাদ ও আলস্য আরও বাড়িয়ে তোলে। স্বাস্থ্যকর খাবার, বাড়িতে রান্না করা হাল্কা খাবার খেলে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকবে।
৭) তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যান। সুস্থ, সবল থাকতে রাতের ঘুম প্রয়োজনীয়। অকারণে তাই রাত জাগবেন না। ল্যাপটপ বা মোবাইলে গল্প করে সময় নষ্ট না করাই ভাল। স্ট্রেস কাটাতে টিভি নয়, বরং বই পড়ুন, ক্রিয়েটিভ কাজ করুন বা ছবি আঁকুন। এতে বুদ্ধির দরজাও খুলবে।
৮) কথা কম কাজ বেশি। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি এটা। সফল মানুষরা কথা কম বলেন। চুপচাপ থাকলে মনসংযোগ বাড়ে, কাজের মানও বাড়ে।
৯) আলস্য পেয়ে বসতে দেবেন না। সব সময় নিজের লক্ষ্য সামনে রাখুন। কে কী করছে, কে কতটা পড়ছে, কার কী প্রিপারেশন, এসব না দেখে নিজের আলাদা রুটিন তৈরি করে চলুন। নিজেকে সবসময় মোটিভেট করতে হবে। মনোবিদরা বলছেন, এমন অনেক পরীক্ষার্থী আছে যারা খুব ভাল প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েও পরীক্ষা হলে নিছক ভয়ের কারণে বা অন্যকে দেখে অযথা আতঙ্কে ভুগে পরীক্ষা খারাপ করে ফেলে। তাই এইসময় কোনওদিকে না তাকিয়ে, কারও কথা না শুনে শুধু নিজের লক্ষ্য নিয়ে ভাবা উচিত।
১০) থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার সেই বিখ্যাত সংলাপ—‘কাবিল বননে কি কোশিস করো, কামিয়াবি খুদবো-খুদ আ জায়েগি।’ শুধু নম্বর বা প্রতিযোগিতা নিয়ে ভাবলে মনের উপর চাপ বাড়বে। তাই হাল্কা মনে পরীক্ষাটা দেওয়াই ভাল। মনোযোগ যত বাড়বে সাফল্য তত তাড়াতাড়ি আসবে। শুধু বোর্ড পরীক্ষা বলে নয়, জীবনের যে কোনও বড় পরীক্ষা বা কাজে এই টিপস মেনে চললে সহজে সাফল্য ছোঁয়া যাবে।