২০২৩ সালে করা এই সমীক্ষার পেছনে ছিল এমন একাধিক ‘অ্যানেকডোটাল’ রিপোর্ট, যেখানে ভারতের বহু তরুণ-তরুণীর হঠাৎ মৃত্যুর জন্য করোনা টিকা বা সংক্রমণকে দায়ী করা হচ্ছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 July 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এরইমধ্যে বড় খবর জানাল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের মধ্যে আচমকা মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দেশের ৪৭টি তৃতীয় স্তরের হাসপাতালকে যুক্ত করে চালানো একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, এই ধরনের মৃত্যুতে করোনা টিকার (Covid-19 infection) কোনও ভূমিকা নেই।
এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে (Indian Journal of Medical Research)। ২০২৩ সালে করা এই সমীক্ষার পেছনে ছিল এমন একাধিক ‘অ্যানেকডোটাল’ রিপোর্ট, যেখানে ভারতের বহু তরুণ-তরুণীর হঠাৎ মৃত্যুর জন্য করোনা টিকা বা সংক্রমণকে দায়ী করা হচ্ছিল।
ICMR-এর গবেষকদের কথায়, 'ভারতে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আচমকা মৃত্যুর জন্য করোনা টিকার কোনও ভূমিকা নেই। বরং যাঁরা অতীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাঁদের পরিবারের কারও আকস্মিক মৃত্যুর ইতিহাস রয়েছে কিংবা যাঁরা কিছু নির্দিষ্ট জীবনযাপনে অভ্যস্ত, তাঁদের মধ্যে এই ধরনের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি দেখা গিয়েছে।'
গবেষণায় কীভাবে কাজ হয়েছে?
এই গবেষণায় ৭২৯ জন 'কেস' এবং ২৯১৬ জন 'কন্ট্রোল'-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 'কেস' হিসেবে ধরা হয় এমন সব ১৮-৪৫ বছর বয়সিদের, যাঁদের কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগ ছাড়াই একেবারে সুস্থ অবস্থায় হঠাৎ মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগেও যাঁরা সুস্থ ছিলেন। অক্টোবর ২০২১ থেকে মার্চ ২০২৩-এর মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলি ঘটেছে। প্রত্যেক কেসের জন্য চারজন কন্ট্রোল নেওয়া হয়, যাঁদের বয়স, লিঙ্গ ও এলাকা এক ছিল।
তথ্য সংগ্রহের জন্য মৃতদের আত্মীয় এবং জীবিত কন্ট্রোলদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তথ্যের মধ্যে ছিল, করোনা সংক্রমণ বা টিকাকরণের ইতিহাস, পরিবারে আচমকা মৃত্যুর রেকর্ড, ধূমপান, মাদক বা মদ্যপানের প্রবণতা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদি।
কী উঠে এল রিপোর্টে?
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা করোনা টিকার একটা ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আকস্মিক মৃত্যুর আশঙ্কা কমেছে। দুটি টিকার ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা আরও কমেছে।
অন্যদিকে, যাঁরা অতীতে করোনার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, পরিবারের কারও আকস্মিক মৃত্যুর ইতিহাস আছে, মৃত্যুর আগের ৪৮ ঘণ্টায় অতিরিক্ত মদ্যপান (Binge drinking) বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা করেছেন কিংবা কোনও প্রকার মাদক বা নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহার করেছেন তাঁদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি দেখা গিয়েছে।