সিনিয়র সিটিজেন কোটায় টিকিট কেটেও লোয়ার বার্থ না পেয়ে বিভ্রান্ত বহু যাত্রী। ভাইরাল ভিডিওতে টিটিই জানালেন কোথায় ভুল হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোয়ার বার্থ নিয়ে ঝামেলার শেষ নেই। বয়স্করা ওপরে উঠতে পারেন না বলে তাদের লোয়ার চাই, আবার হাতে পায়ে ব্যথা বা অন্য সমস্যা থাকলেও একই অবস্থা। কীভাবে লোয়ার বার্থ পাওয়া যাবে, সেনিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেকেই। রেলযাত্রায় সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বরাদ্দ থাকা ‘লোয়ার বার্থ’ (নীচের আসন) সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে সচেতন করলেন এক ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (TTE)। তাঁর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি বোঝাচ্ছেন কেন বয়স্ক যাত্রীরা প্রায়ই সিনিয়র সিটিজেন কোটায় টিকিট কাটার পরও নীচের বার্থ পান না। ভিডিওটি ডিব্রুগড় রাজধানী এক্সপ্রেসের ভিতরে রেকর্ড করা হয়েছে।
ভিডিওতে ওই টিটিইকে বলতে শোনা যায়, “আজ আমরা ট্রেন নম্বর ২৪২৪, ডিব্রুগড় রাজধানীতে আছি। এখানে চারজন সিনিয়র সিটিজেন যাত্রী রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কারও লোয়ার বার্থ পাওয়া যায়নি, সকলেরই মাঝের বা ওপরের বার্থ বরাদ্দ। তাঁরা আমাকে প্রশ্ন করেছেন, এটা কেন হল।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যদি সিনিয়র সিটিজেন কোটার সুবিধা নিয়ে নীচের বার্থ পেতে চান, তবে এক টিকিটে সর্বাধিক দুইজন যাত্রীর নাম থাকা উচিত। যদি দুইয়ের বেশি যাত্রী একই টিকিটে বুক করা হয়, তাহলে সিস্টেম কোটার সুবিধা বাতিল করে দেয় এবং টিকিটটি সাধারণ কোটা হিসেবে গণ্য হয়।”
ভারতীয় রেলের যাত্রী সংরক্ষণ ব্যবস্থা (Passenger Reservation System) অনুযায়ী, সিনিয়র সিটিজেনরা একা বা একসঙ্গে দুইজন থাকলে তাঁদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীচের বার্থ বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু যদি তিনজন বা তার বেশি সিনিয়র সিটিজেন একসঙ্গে বুকিং করেন, অথবা যদি সিনিয়র ও নন-সিনিয়র যাত্রী একই টিকিটে থাকেন, তবে কোটা সুবিধা প্রযোজ্য হয় না। ফলে বয়স অনুযায়ী যোগ্য হলেও তাঁরা লোয়ার বার্থ নাও পেতে পারেন।
রেলের এই নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ভিডিওটি বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। বহু যাত্রী টিটিই-র এই ব্যাখ্যাকে প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে টিকিট বুকিংয়ের সময় তাঁরা এই নির্দেশনা মাথায় রাখবেন।
এর আগে, অগস্ট মাসে আইআরসিটিসি (IRCTC) একই বিষয়ে এক্স (টুইটার)-এ একটি ব্যাখ্যা জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, “লোয়ার বার্থ/সিনিয়র সিটিজেন কোটার সুবিধা কেবলমাত্র ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের পুরুষ এবং ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সের মহিলা যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য, যদি তাঁরা একা বা সর্বাধিক দুইজন একই টিকিটে ভ্রমণ করেন। যদি তিনজন বা তার বেশি সিনিয়র সিটিজেন অথবা এক সিনিয়র ও এক নন-সিনিয়র একসঙ্গে টিকিট বুক করেন, তবে কোটার সুবিধা প্রযোজ্য হয় না।”
রেলের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি কোচে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোয়ার বার্থ সিনিয়র সিটিজেন ও মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে- স্লিপার ক্লাসে ৬-৭টি, এসি ৩-টিয়ারে ৪-৫টি এবং এসি ২-টিয়ারে ৩-৪টি। এছাড়া, শহরতলির প্রতিটি জোনাল রেলের সাধারণ কামরার প্রথম ও শেষ কোচে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কমপক্ষে সাতটি আসন সংরক্ষিত থাকে।
বুকিংয়ের সময় বয়সের প্রমাণপত্র দিতে না হলেও যাত্রার সময় যাত্রীদের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হয় এবং প্রয়োজনে তা টিকিট পরীক্ষককে দেখাতে হয়।