Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ১০ গ্রামের তালিকায় পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের আরাং কেল, ভারতের আর নেই

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK)-এর নীলম উপত্যকার এই ছোট্ট গ্রাম যেন মেঘের ভেতর খোদাই করা এক স্বপ্ন। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি নিছক পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি আলাপের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। 

এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ১০ গ্রামের তালিকায় পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের আরাং কেল, ভারতের আর নেই

আরাং কেল

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 30 August 2025 13:07

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে গ্রামীণ সৌন্দর্যের খোঁজে বেরিয়েছে ফোর্বস (Forbes)। সম্প্রতি তারা আনফরগেটবল ট্রাভল কোম্পানির (Unforgettable Travel Company) তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে ২০২৫ সালের বিশ্বের ৫০টি সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম ভ্রমণ তালিকা (50 most beautiful villages)। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছে এশিয়ার ১০টি গ্রাম। আর আশ্চর্যের বিষয়, সেই ১০টির মধ্যে একটি হল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) আরাং কেল (Arang kel)। 

আরাং কেল: পর্বতের বুকের গোপন স্বপ্নরাজ্য
হিমালয়ের আঁচল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভূসর্গে রূপকথার মতো একটি গ্রাম—আরাং কেল। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK)-এর নীলম উপত্যকার এই ছোট্ট গ্রাম যেন মেঘের ভেতর খোদাই করা এক স্বপ্ন। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি নিছক পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি আলাপের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আরাং কেল পৌঁছনোর অভিযান শুরু হয় নীলম নদীর ধার ঘেঁষে গড়ে ওঠা কেল গ্রাম থেকে। সেখান থেকে হয় পায়ে হাঁটা খাড়া পাহাড়ি পথ, নয়তো ঝুলন্ত চেয়ারলিফটের রোমাঞ্চকর যাত্রা—দুটো পথই ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। চেয়ারলিফটে কয়েক মিনিটের ঝুঁকিপূর্ণ উড়ান, নিচে সবুজ বন আর গর্জন করা নদীর স্রোত। আবার যারা হাঁটার পথ বেছে নেন, তাঁদের জন্য অপেক্ষা করে আঁকাবাঁকা ট্রেকিং ট্রেইল, আড়াল-আবডাল দিয়ে শিস দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনা, আর আকাশ ছোঁয়া পাইন বনের ছায়া। মনে হবে, প্রতিটি পদক্ষেপ আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে এক রহস্যময় পাহাড়ি স্বর্গের দিকে।

<strong>পর্বতের বুকের গোপন স্বপ্নরাজ্য</strong>

আরাং কেলে পৌঁছতেই মনে হবে যেন ছবির বইয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন। খোলা সবুজ প্রান্তরে ছোট ছোট কাঠের কুটির, ঘাসে মাখামাখি চারণভূমি আর তার উপর অবহেলায় চরতে থাকা ঘোড়া আর গরু—সব মিলিয়ে স্বপ্নীল পরিবেশ। গ্রীষ্মকালে যখন চারিদিকে বুনোফুল ফোটে, তখন গোটা গ্রাম যেন রঙের উৎসবে ভরে ওঠে। আর শীত এলে গ্রাম ডুবে যায় তুষারের সাদা চাদরে—তখন আরাং কেল হয়ে ওঠে এক বিচ্ছিন্ন বরফরাজ্য।

এই গ্রামটির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ভিউপয়েন্ট। এখান থেকে গোটা নীলম ভ্যালি যেন পাখির চোখে দেখা যায়। সূর্যোদয়ের সময় দিগন্তজোড়া পাহাড়ের গায়ে সোনালি আলো খেলা করে, নদীর স্রোত ঝিলমিল করে ওঠে। সূর্যাস্তের সময় পাহাড়ের মাথায় লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে, আর সেই মুহূর্তে মনে হয় সময় যেন থেমে গেছে। মেঘ, পাহাড়, আলো আর অন্ধকারের মিলনে যে দৃশ্য তৈরি হয়, তা কোনো ছবির ক্যানভাসেও ধরা সম্ভব নয়।

আরাং কেলের বিশেষত্ব শুধু তার সৌন্দর্যে নয়, বরং এখানকার মানুষের জীবনধারাতেও। কাঠের ঘরে বসবাস করা এই মানুষগুলো চাষবাস ও পশুপালন করেই জীবন কাটান। শহরের ব্যস্ততা, যানজট, শব্দদূষণ—এসবের কিছুই নেই এখানে। নেই আধুনিক বিলাসিতা, নেই আড়ম্বর। তবু এখানকার মানুষরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে যেন অন্য এক শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। আর পর্যটকেরা এসে শিখে যান—জীবন আসলে কতটা সহজ হতে পারে।

স্বপ্নের মতো জায়গা আরাং কেল

ভ্রমণপিপাসু অভিযাত্রীদের জন্য আরাং কেল স্বপ্নের মতো জায়গা। এখান থেকে নানা ট্রেকিং রুট বেরিয়ে গেছে, যা আপনাকে আরও গভীর পাহাড়ি অরণ্যের ভিতরে নিয়ে যাবে। আবার যাঁরা প্রকৃতির কোলে কিছুটা শান্ত সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, যেখানে বসে বই পড়া যায়, ছবি আঁকা যায় কিংবা নিছক আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকাই যথেষ্ট। নবদম্পতি কিংবা পরিবারসহ পর্যটকরাও এখানে খুঁজে পান শান্তি আর নির্জনতার আশ্রয়।

আরাং কেল ঘোরার জন্য বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল সবচেয়ে উপযুক্ত। মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাহাড়ে থাকে সবুজের সমারোহ, আবহাওয়া থাকে মনোরম। শীতে যদিও ভ্রমণ কঠিন হয়ে যায়, তবে যারা তুষারপ্রেমী, তাদের কাছে শীতের আরাং কেল এক অন্য অভিজ্ঞতা। ইসলামাবাদ থেকে মুজাফ্ফরাবাদ হয়ে পৌঁছাতে হয় কেল গ্রামে। সেখান থেকে চেয়ারলিফট কিংবা ট্রেকিং—দুটো পথেই যাওয়া যায় এই স্বপ্নের গ্রামে। তবে যাত্রাপথ কিছুটা কষ্টকর হলেও, শেষ পর্যন্ত যে দৃশ্য অপেক্ষায় করে থাকে, তা কষ্টের তুলনায় অনেক বড় পুরস্কার।

স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়

পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতীয় ভূখণ্ডই মনে করে নয়াদিল্লি। তবে হতাশার খবর সবচেয়ে সুন্দর এশিয়ার ১০টি গ্রামের তালিকায় ভারতের মূল ভূখণ্ডের কোনও গ্রামের নাম নেই। অথচ দেশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী ও মনোরম গ্রাম, যা স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।ফোর্বস জানিয়েছে, এশিয়ার যেসব গ্রাম তালিকায় স্থান পেয়েছে, তাদের অনেকগুলিই এমন দেশে অবস্থিত যেখানে ভারতীয় পর্যটকরা ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন। ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এগুলো বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এই তালিকা শুধু ভ্রমণ গন্তব্য নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য সংরক্ষণে বিশ্বের নানা প্রান্তের গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে।


```