ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে সেই ফোনের দাম হতে পারে ২৫ থেকে ৩৩ টাকার মধ্যে, যা এত ফিচার-সহ যে কোনও ব্র্যান্ডের ফোনের তুলনায় অনেক বেশি সস্তা।

এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 16 July 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা রামদেবের আয়ুর্বেদিক ব্র্যান্ড পতঞ্জলি নাকি এবার বাজারে আনছে এক "সাশ্রয়ী মূল্যের অত্যাধুনিক ৬G স্মার্টফোন", যেখানে থাকবে ২৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, দুর্দান্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং ফাস্ট চার্জিং-এর মতো স্পেসিফিকেশন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, তথাকথিত “পতঞ্জলি স্মার্টফোন”-এ যা যা থাকবে বলা হচ্ছে—২৫০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা, তাছাড়াও ১৩ ও ৩৩ মেগাপিক্সেল সেকেন্ডারি সেন্সর আর ২৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। থাকবে ৬.৭৪ ইঞ্চি সুপার অ্যামলয়েড ডিসপ্লে, ১৪৪Hz রিফ্রেশ রেট। মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮২০০ প্রসেসর-সহ সর্বোচ্চ ১২ জিবি র্যাম, ২ টিবি স্টোরেজ। দুর্দান্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ, ফাস্ট চার্জিংও হবে, যা ১৫ মিনিটে ফুল চার্জ দিতে পারবে। ‘পতঞ্জলি অ্যাপস’ সহ বেশ কিছু অ্যাপ ইনস্টলড থাকবে।
এই সব মিলিয়ে সেই ৬জি ফোনের দাম পড়তে চলেছে, ২৫ হাজার থেকে ৩৩ টাকার মধ্যে, যা এতকিছু ফিচার-সহ বাজারের যে কোনও ব্র্যান্ডের ফোনের তুলনায় অনেক গুণ বেশি সস্তা।
কিন্তু এই দাবি কতটা সত্য? তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল এই খবর পুরোটাই ভুয়ো।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো ব্যাপারটা খতিয়ে দেখার পর জানা গেছে, এই দাবিগুলির কোনও সত্যতা নেই। পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ বা এর কোনও সহযোগী সংস্থা এখনও পর্যন্ত স্মার্টফোন বাজারে আনার বিষয়ে কোনও ঘোষণা করেনি।
তাঁদের মূল ব্যবসা হল আয়ুর্বেদিক ও কনজিউমার প্রোডাক্টস। স্মার্টফোন উৎপাদনের মতো হাই-টেক হার্ডওয়্যার ব্যবসায় তাঁদের কোনও উপস্থিতি নেই।
তাছাড়া— ৬জি প্রযুক্তি এখনও বিশ্বজুড়ে গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। এমনকী অ্যাপল, স্যামসাং-এর মতো বড়সড় টেক কোম্পানিগুলিও এখনও এই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করেনি। ফলে ২০২৪-২৫-এর মধ্যে সাধারণ বাজারে ৬জি ফোন আসা একেবারেই অসম্ভব।
তাহলে গুজবটা এল কোথা থেকে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাল ক্লিকবেট কনটেন্ট বানানোর জন্য কিছু ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের গুজব ছড়ায়। এতে বিভ্রান্ত হন সাধারণ মানুষ। এই ধরনের মিথ্যে খবরের মাধ্যমে ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্র্যাফিক বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।
কোনও টেক কোম্পানির তরফ থেকে অফিশিয়াল ঘোষণা বা প্রমাণ ছাড়া এমন খবর বিশ্বাস করা ঠিক নয়।