ফ্লাইটে হারানো লাগেজ খুঁজে পেতে এবার সাহায্য করবে আপনার ফোনই। নতুন ফিচার চালু করেছে গুগল, জানুন কীভাবে ব্যবহার করবেন এই সুবিধা।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 6 March 2026 19:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানযাত্রায় লাগেজ হারানো নতুন কিছু নয়। অনেক সময় ব্যাগ না পেয়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সেই সমস্যার সমাধানে নতুন প্রযুক্তি আনল গুগল (Google)। চালু হয়েছে ‘ফাইন্ড হাব’ (Find Hub) নামে একটি ফিচার। এর সাহায্যে যাত্রীরা হারিয়ে যাওয়া লাগেজের লাইভ লোকেশন সরাসরি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন। ফলে ব্যাগ খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
নতুন এই সিস্টেম ইতিমধ্যেই ব্যবহার শুরু করেছে টার্কিশ এয়ারলায়েন্স (Turkish Airlines)। ধীরে ধীরে আরও আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা এই প্রযুক্তি যুক্ত করছে তাদের লাগেজ ট্র্যাকিং ব্যবস্থায়।
গুগলের লক্ষ্য একটাই—একটি একক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে ট্র্যাকার লাগানো জিনিসপত্র সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে। ভ্রমণ শিল্পে এর ব্যবহার ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি করেছে। কারণ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো বা ভুল জায়গায় চলে যাওয়ার সমস্যা এখনও খুব সাধারণ।
কীভাবে কাজ করবে ‘ফাইন্ড হাব’
গুগলের নতুন ফিচারটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। যাত্রীদের লাগেজে একটি ‘ফাইন্ড হাব’–সাপোর্টেড ট্র্যাকার (Tracker) বা অ্যাকসেসরি লাগানো থাকতে হবে।
লাগেজ না পেলে যাত্রীরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার লোকেশন শেয়ার করতে পারবেন।
প্রক্রিয়াটি এমন—
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যাত্রীর গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য কয়েকটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারী চাইলে যে কোনও সময় লোকেশন শেয়ার বন্ধ করতে পারবেন। লিঙ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাত দিনের মধ্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। আর ফোন যদি বুঝতে পারে লাগেজ কাছেই আছে, তখন ফিচারটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে।
গুগল জানিয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় তথ্য আদান-প্রদান এনক্রিপ্টেড (Encrypted) থাকে। ফলে ব্যবহারকারীর ডেটা নিরাপদ থাকে।
কোন কোন এয়ারলাইন্স যুক্ত হচ্ছে?
ফাইন্ড হাব চালুর সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। প্রথম তালিকায় রয়েছে টার্কিশ এয়ারলায়েন্স (Turkish Airlines), এয়ার ইন্ডিয়া (Air India), আজেট (AJet), চায়না এয়ারলায়েন্স (China Airlines) এবং লুফথানসা গ্রুপ (Lufthansa Group)।
লুফথানসা গ্রুপের মধ্যে রয়েছে লুফথানসা (Lufthansa), অস্ট্রিয়ান এয়ারলায়েন্স (Austrian Airlines), ব্রাসেলস এয়ারলায়েন্স (Brussels Airlines) এবং সুইস (Swiss)।
এ ছাড়া সৌদিয়া (Saudia) এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলায়েন্স বা এসএএস (Scandinavian Airlines – SAS) এই পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে।
শিগগিরই আরও কিছু বিমানসংস্থা যোগ দেবে বলে জানা গেছে। তালিকায় রয়েছে ক্যান্টাস (Qantas)–এর নামও।
যাত্রীদের কী সুবিধা হবে?
লাগেজ হারালে সাধারণত খোঁজ পেতে অনেক সময় লাগে। বিমানসংস্থাকে বিভিন্ন ডাটাবেস ও স্ক্যানিং সিস্টেমের সাহায্যে অনুসন্ধান করতে হয়।
ফাইন্ড হাব ব্যবহারে সেই প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে। কারণ যাত্রী নিজেই ব্যাগের অবস্থান জানাতে পারবেন।
ফলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত নির্দিষ্ট জায়গায় খোঁজ শুরু করতে পারবে। এতে সময় কম লাগবে এবং লাগেজ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি লাগেজ ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিমানযাত্রীদের জন্যও এটি ভ্রমণের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।