২০২৬-এ ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন ‘ট্রিয়ন্ডা’। তিন দেশের মিলিত আয়োজনের প্রতীক হিসেবে এই বল এখন থেকেই বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসকে নতুন রূপ দিচ্ছে।

গ্রাফিক্স; দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 28 November 2025 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য নতুন বল ‘ট্রিয়ন্ডা’ (Trionda) উন্মোচন করল ফিফা (FIFA)। স্প্যানিশ শব্দ। যার অর্থ ‘তিন তরঙ্গ’। ইঙ্গিত, তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) সম্মিলিত আয়োজন। বলের মূল নকশায় লাল-সবুজ-নীলের তিন রং। কানাডার ম্যাপল লিফ, মেক্সিকোর ইগল আর আমেরিকার তারা—তিন দেশের প্রতীকও বসানো। মাঝখানে চার প্যানেল মিলে ত্রিভুজ। আর সোনালি অলঙ্করণে ট্রফির প্রতি শ্রদ্ধা।
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের মতো বলের বিবর্তনও কম নাটকীয় নয়। একাধিক বল, নানা নকশা, প্রযুক্তি—প্রতিটি যুগের আলাদা গল্প।
উরুগুয়ে ১৯৩০: টি-মডেল (T-model) ও তিয়েন্তো (Tiento)
প্রথম বিশ্বকাপে কোনও সরকারি বল ছিল না। ‘টি-মডেল’ এগারোখানা টি-আকৃতির চামড়ার টুকরো যুক্ত বল। উরুগুয়ে চাইছিল এটাই। কিন্তু বেঁকে বসে আর্জেন্তিনা। তাদের দাবি ১২ ফালার ‘তিয়েন্তো’। শেষ পর্যন্ত অর্ধেক ম্যাচে এক বল—বিরতির আগ পর্যন্ত তিয়েন্তোতে আর্জেন্টিনার ২-১ লিড; ব্রেকের পর টি-মডেল ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই উরুগুয়ে তিন গোল দিয়ে ম্যাচ জিতল ৪-২।
ইতালি ১৯৩৪: ফেদেরালে ১০২ (Federale 102)
১৩ প্যানেলের হাতে সেলাই করা বল। তবে গ্লোব আর জিগ-জ্যাগ নামে ব্রিটিশ বলও ব্যবহৃত হয়েছিল—দলের অধিনায়করা নিজেরাই বল বেছে নিতেন।
ফ্রান্স ১৯৩৮: অ্যালেন (Allen)
কোনও ব্র্যান্ডিং নেই। শুধুমাত্র ফাইনালের আগে বল মাঠে রেখে প্রচার করা হত।
ব্রাজিল ১৯৫০: সুপারবল দুপ্লো টি (Duplo T)
প্রথম লেসবিহীন বল। ভালভ দিয়ে বাতাস ভরার ব্যবস্থা ছিল।
সুইজারল্যান্ড ১৯৫৪: সুইস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন (Swiss World Champion)
হলুদ রঙের প্রথম বল। দূর থেকে দেখা সহজ হোক, সেই ভাবনা। তবে বৃষ্টি হলেই জল টেনে ভারি হয়ে যেত।
সুইডেন ১৯৫৮: টপ স্টার (Top Star)
১০২ বলের পরীক্ষায় জয়ী। মোম-লেপা ২৪ প্যানেলের বলই পেলের যুগলবন্দীতে ছবিতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
চিলি ১৯৬২: মিস্টার ক্র্যাক (Mr Crack)
গোলাকার প্যানেল, আকৃতি ধরে রাখতে ভালো, কিন্তু জল টেনে নিত।
ইংল্যান্ড ১৯৬৬: চ্যালেঞ্জ ফোর-স্টার (Challenge 4-Star)
প্রযুক্তিগত পরীক্ষার পর বাছা হয়েছিল।
মেক্সিকো ১৯৭০: টেলস্টার (Telstar)
অ্যাডিডাসের (Adidas) প্রথম সরকারি বল। কালো-সাদা ৩২ প্যানেলের নকশা—যা ফুটবলের চিরচেনা রূপ হয়ে ওঠে।
পশ্চিম জার্মানি ১৯৭৪: টেলস্টার ডুরলাস্ট (Telstar Durlast)
দুটি রং—সাদা ও কমলা। কাদা-জল প্রতিরোধে শক্তিশালী।
আর্জেন্তিনা ১৯৭৮: ট্যাঙ্গো ডুরলাস্ট (Tango Durlast)
ওয়াটারপ্রুফ কোটিং আরও উন্নত হয়।
স্পেন ১৯৮২: ট্যাঙ্গো এসপানিয়া (Tango España)
পলিউরিথিন কোটিং, সিমে অতিরিক্ত স্তর—জল লাগত কম।
মেক্সিকো ১৯৮৬: অ্যাজটেকা (Azteca)
প্রথম সম্পূর্ণ সিন্থেটিক বল। অ্যাজটেক শিল্পকলার ডিজাইন।
ইতালি ১৯৯০: এত্রুস্কো উনিকো (Etrusco Unico)
এত্রুস্কান সভ্যতার তিন সিংহ-মাথার মোটিফ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪: কোয়েস্ট্রা (Questra)
মহাকাশ অভিযানের প্রতি সম্মান—তারা, গ্রহ, রকেটের নকশা।
ফ্রান্স ১৯৯৮: ট্রিকোলোর (Tricolore)
সিনট্যাক্টিক ফোম ব্যবহারের প্রথম বল। বহুবর্ণী।
কোরিয়া–জাপান ২০০২: ফিভারনোভা (Fevernova)
চার ত্রিকোণ নকশা, উন্নত ফোম—আরও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ।
জার্মানি ২০০৬: টিমগাইস্ট (Teamgeist)
১৪ প্যানেলের প্রায় নিখুঁত গোল বল। প্রতিটি ম্যাচের নাম, শহর, সময় বলেই লেখা থাকত।
দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০: জাবুলানি (Jabulani)
আট প্যানেলের থ্রি-ডি বল। বাতাসে আচরণ অনুমেয় না হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
ব্রাজিল ২০১৪: ব্রাজুকা (Brazuca)
ছয় প্যানেলের বল, বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত।
রাশিয়া ২০১৮: টেলস্টার ১৮ (Telstar 18)
এনএফসি (NFC) চিপ-যুক্ত—অনুরাগীরা ফোনে সংযোগ করতে পারত।
কাতার ২০২২: আল রিহলা (Al Rihla)
অফসাইড সিদ্ধান্তে সাহায্যকারী ‘কনেক্টেড বল’ প্রযুক্তিযুক্ত। উড়ত আরও দ্রুত।
২০২৬-এ সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন ‘ট্রিয়ন্ডা’। তিন দেশের মিলিত আয়োজনের প্রতীক হিসেবে এই বল এখন থেকেই বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসকে নতুন রূপ দিচ্ছে।