উত্তর আমেরিকা মঞ্চ সাজাচ্ছে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের জন্য, কিন্তু বেশ কয়েকজন বড় তারকার উপস্থিতি সেখানে দেখা যাবে না। বাছাই পর্ব শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ-সেলিব্রেশন রুদ্ধ।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 21 November 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ৪২টি দল ইতিমধ্যে চূড়ান্ত। বাকি ছ’টি সিট নির্ধারিত হবে আগামী মার্চে—ইউরোপের (UEFA) প্লে–অফ ও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে–অফের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে যাত্রাপথে ছিটকে গিয়েছে বহু বড় দেশ, অনেক বড় তারকা। খেলা হবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। কয়েকজন তারকার জন্য এবারের বিশ্বকাপ যদিও কেবল টিভির পর্দাতেই সীমাবদ্ধ।
প্রথম নাম খভিচা কাভারৎস্কেলিয়া (Khvicha Kvaratskhelia)। জর্জিয়া (Georgia) ইউরো ২০২৪-এ চমক দেয়, কিন্তু বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে রীতিমতো ভেঙে পড়ে। কাভারৎস্কেলিয়া দু’টি গোল করলেও দল জিতেছে মাত্র একটি ম্যাচ। স্পেন (Spain) ও তুরস্কের (Türkiye) পিছনে থেকে শেষ পর্যন্ত বাছাই পর্বেই ছিটকে যায় জর্জিয়া।
পরবর্তী নাম পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং (Pierre-Emerick Aubameyang)। গ্যাবন (Gabon) অনেক চেষ্টা করেও কোনওদিন বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। এবারও ব্যতিক্রম নয়। সাত গোল করেও অবামেয়াং দলকে ক্যামেরুন বা নাইজেরিয়ার মতো শক্তিশালীদের স্তরে তুলতে পারেননি। এবারও ডিআর কঙ্গোর (Congo DR) কাছে প্লে–অফে হেরে বিশ্বকাপ-স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে গ্যাবনের।
বড় ধাক্কা পেয়েছেন ব্রায়ান এমবুয়েমোও (Bryan Mbuemo)। ক্যামেরুন (Cameroon) পরাস্ত হয় স্বয়ং কেপ ভার্দের (Cape Verde) কাছে। পরে প্লে–অফে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধেও শেষরক্ষা হয়নি। এমবুয়েমো নিজে একগাদা গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ম্যাচ শেষে রাগে মাঠ ছাড়ার ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল!
ইউরোপ থেকে ছিটকে গিয়েছেন দুশান ভ্লাহোভিচ (Dusan Vlahovic)। সার্বিয়া (Serbia) ২০১৪-এর পর প্রথমবার বিশ্বকাপ মিস করছে। আলবেনিয়া ও ইংল্যান্ডের (England) বিরুদ্ধে ভ্লাহোভিচ ছাপ ফেলতে পারেননি। কোচ পদত্যাগ করেছেন, দল প্রবল চাপে।
হাঙ্গেরির (Hungary) দোমিনিক সোবোসলাই (Dominik Szoboszlai) ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন যাঁরা বাছাই পর্বে নিজের সেরাটা উজাড় করে খেলেছেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের (Ireland) গোল তাদের সুযোগ শেষ করে দিয়েছে। সোবোসলাই ম্যাচের শেষে কেঁদে ফেলেন—এবারও বিশ্বকাপ-যাত্রা বঞ্চিত হাঙ্গেরি।
আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ভিক্টর ওসিমেনের (Victor Osimhen) না নামা। নাইজেরিয়া (Nigeria) ২০২৬ বিশ্বকাপেও নেই। ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে প্রতিযোগিতা শেষ। ওসিমেন চোটাঘাতের জেরে সমস্ত ম্যাচ খেলতে পারেননি। যতটুকু সময় মাঠে নেমেছেন, তাঁর একার বিশ্বমানের পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দল সামগ্রিকভাবে ভেঙে পড়ে।
চিলির (Chile) আলেক্সিস স্যাঞ্চেজ (Alexis Sánchez) দীর্ঘ কেরিয়ারের গোধূলিতে এসে দলকে বাঁচাতে ব্যর্থ। চিলি দক্ষিণ আমেরিকার টেবিলে সবার শেষে। স্যাঞ্চেজও আঘাত-সমস্যায় ভুগেছেন।
তরুণ প্রতিভা বেঞ্জামিন সেস্কোর (Benjamin Sesko) স্লোভেনিয়া (Slovenia) কোসোভোর (Kosovo) কাছে হেরে বিদায় নেয়। ম্যান ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার কোনও গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। দল এখনও বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তিশালী নয়, এটা আপাতত পরিষ্কার।
কোস্টা রিকার (Costa Rica) কেলর নাভাস (Keylor Navas) আন্তর্জাতিক অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন শুধু বিশ্বকাপের লক্ষ্যে। কিন্তু দুর্বল আক্রমণের কারণে বিদায় প্রায় নিশ্চিত।
সবশেষে, গুয়িনিয়ার (Guinea) গোলমেশিন সেরু গুইরাসি (Serhou Guirassy)। ক্লাব-ফুটবলে দুর্দান্ত হলেও দেশকে টানতে পারেননি। মাত্র এক গোল, দল চতুর্থ হয়ে বাদ।
মোট কথা—উত্তর আমেরিকা মঞ্চ সাজাচ্ছে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের জন্য, কিন্তু বেশ কয়েকজন বড় তারকার উপস্থিতি সেখানে দেখা যাবে না। বাছাই পর্ব শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ-সেলিব্রেশন রুদ্ধ।