৪০ বছর বয়সে রুনির কোচিং কেরিয়ারও কম ঘোরাঘুরির সাক্ষী নন—ডার্বি কাউন্টি, ডিসি ইউনাইটেড, বার্মিংহাম, প্লেমাউথ। শেষোক্ত ক্লাব ছেড়েছেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।

ফিরতে মুখিয়ে রুনি
শেষ আপডেট: 13 January 2026 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আবার কি ফিরছে পুরনো ‘পরিবার’ সংস্কৃতি? অন্তত ওয়েন রুনির (Wayne Rooney) কথাবার্তায় তেমনই ইঙ্গিত। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে (Manchester United) অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে মাইকেল ক্যারিক (Michael Carrick) দায়িত্ব পেলে, তাঁর কোচিং স্টাফে যোগ দিতে যে একেবারেই পিছপা নন—সে কথা নিজেই স্পষ্ট করে দিলেন। রুনির ভাষায়, ‘এর জন্য মাথা খাটানোর দরকার পড়ে না!’
বর্তমানে কোচিং সংকটে ইউনাইটেড। ৫ জানুয়ারি রুবেন আমোরিম (Ruben Amorim) বরখাস্ত হওয়ার পর অস্থায়ীভাবে প্রথম দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ড্যারেন ফ্লেচার (Darren Fletcher)। কিন্তু ক্লাব কর্তারা চাইছেন দ্রুত একজন কেয়ারটেকার কোচ ঠিক করতে—যাতে বুধবার অনুশীলনে ফেরার সময়েই নতুন মুখ পাওয়া যায়। সেই দৌড়ে এগিয়ে ক্যারিকই।
রুনির ‘হ্যাঁ’ কেন এত নিশ্চিত?
একই ড্রেসিংরুমে দীর্ঘদিন খেলা, ক্লাবের ডিএনএ বোঝা—এই দুই কারণে ক্যারিকের প্রতি আস্থা রুনির। সম্প্রতি বিবিসির পডকাস্টে (The Wayne Rooney Show) রুনি বলেন, ‘ক্লাবের দায়িত্ব নিতে হলে এমন লোক দরকার, যারা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে চেনে, বোঝে, ভালোবাসে।’তাঁর মতে, কোচ হিসেবে ক্যারিক হোক বা ফ্লেচার, কিংবা জন ও’শে (John O’Shea)—ভেতরের মানুষদেরই এই মুহূর্তে সবচেয়ে দরকার।
রুনি আরও মনে করিয়ে দেন, ইউনাইটেড ধীরে ধীরে তার পরিচয় হারিয়েছে। ‘ফ্যামিলি ফিল’উধাও। একসময় যেটা ছিল এই ক্লাবের শক্তি। ওলে গানার সোলসারের (Ole Gunnar Solskjær) সময় যেমন চেষ্টা হয়েছিল, ক্যারিক এলে তেমন সুযোগ আবার আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
কেয়ারটেকার কোচ মানেই কি পুরনো ইউনাইটেডের প্রত্যাবর্তন?
ক্যারিকের অভিজ্ঞতা নেহাত অল্প নয়। ২০২১ সালে সোলসার বরখাস্ত হওয়ার পর তিন ম্যাচের জন্য ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তী কোচ ছিলেন তিনি। সেই সময় দু’টি জয়, একটি ড্র—রেকর্ড খারাপ নয়। রালফ র্যাংনিক (Ralf Rangnick) আসায় সরে গেলেও মিডলসব্রোতে (Middlesbrough) কোচ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
রুনির মতে, এই মুহূর্তে বাজারে এমন কোনও ‘গ্যারান্টিড ট্রফি’ কোচ নেই। তাই ক্লাব কি পরিচিত মুখের দিকেই ফিরবে? তাঁর কথায়, ‘মাইকেল এই ক্লাবের প্রতিটা ইট চেনে। ও এখানে বাঁচে, শ্বাস নেয়।’কেয়ারটেকার হিসেবে কয়েক মাসে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেতে পারেন ক্যারিক।
রুনি নিজে কোথায় দাঁড়িয়ে?
৪০ বছর বয়সে রুনির কোচিং কেরিয়ারও কম ঘোরাঘুরির সাক্ষী নন—ডার্বি কাউন্টি, ডিসি ইউনাইটেড, বার্মিংহাম, প্লেমাউথ। শেষোক্ত ক্লাব ছেড়েছেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। তবে ইউনাইটেডে ফেরা নিয়ে তিনি স্পষ্টবাদী—‘আমি চাকরি ভিক্ষা করছি না। ডাক এলে অবশ্যই যাব।’
রুনির মতে, ইউনাইটেডের বর্তমান স্কোয়াডে ঘাটতি ‘খিদে’ আর ‘ইচ্ছাশক্তি’র। রায়ান গিগস (Ryan Giggs) বা ডেভিড বেকহ্যামদের (David Beckham) মতো খেটে খেলার মানসিকতা দরকার। সেই সংস্কৃতি ফেরাতেই ক্লাবকে ভেতরের মানুষদের উপর ভরসা করতে হবে।