ব্যক্তিগত ঝলক আছে, কিন্তু দলগত দৃঢ়তা উধাও। বিশ্বকাপ ঘরের মাঠে। প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। কিন্তু গতকালের পারফরম্যান্স যদি সংকেত হয়, তাহলে একথা জোরগলায় বলা যেতে পারে, পুলিসিক-ব্রিগেডের গ্রুপ স্টেজ পেরোনোও সহজ হবে না।

ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক
শেষ আপডেট: 29 March 2026 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) আগে নিজেদের এলেম মাপার পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম (Belgium)—ইউরোপের শক্তিশালী দল। মার্কিনিদের শুরুটা খারাপ ছিল না। প্রথমার্ধে জোর লড়াই, গোলেও এগিয়ে। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতে হতে স্কোরলাইন ২-৫। আর সেখানেই জেগে উঠল প্রশ্ন—এই টিম (USA) বিশ্বকাপের জন্য ঠিক কতটা প্রস্তুত?
১৫ মিনিটেই খেলবদল
প্রথমার্ধে আমেরিকা খারাপ খেলেনি। ওয়েস্টন ম্যাককেনি (Weston McKennie) গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। মাঝমাঠে দাপট ছিল, আক্রমণও ধারালো। কিন্তু লড়াইয়ের মোড় ঘুরে যায় মাত্র ১৫ মিনিটে। ফার্স্ট হাফের শেষ দিকে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। তারপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও দু’টি গোল। ব্যবধান মোটামুটি ১৫ মিনিট। আর ঠিক এই সময়েই ম্যাচ হাতছাড়া। বড় দলের বিরুদ্ধে এমন ভাঙন মারাত্মক। হুড়মুড়িয়ে নামা ধস কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনোকে চিন্তায় রাখবে।
নড়বড়ে রক্ষণ
বেলজিয়ামের জার্সিতে পুরো ম্যাচে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেন জেরেমি ডোকু (Jeremy Doku)। বাম উইং দিয়ে বারবার উঠে এসে আমেরিকার ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করেন। টিম ওয়েহ (Tim Weah) সামলাতে ব্যর্থ। সেন্টার-ব্যাক মার্ক ম্যাকেঞ্জিও (Mark McKenzie) বারবার জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। যার নিট ফল: ডোকুর দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠা… দৌড় থেকে গোল, পেনাল্টি, সুযোগ—সবকিছু! একজন দ্রুতগতির উইঙ্গারের বিরুদ্ধে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ বিশ্বকাপের আগে বড় সতর্কবার্তা।
গোলকিপার বিতর্ক: চাপ বাড়ছে
নজর ছিল ম্যাট টার্নারের (Matt Turner) দিকে। দীর্ঘদিন পর প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে পাঁচ গোল খেয়েছেন—তাই সমালোচনা হবেই। সব তাঁর ভুল নয়, তবু আত্মবিশ্বাসে জোর ধাক্কা! একবার চাপ কম থাকলেও বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। সেখান থেকে প্রায় গোল খেয়ে বসেছিল দল। যার জেরে প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বকাপে প্রথম পছন্দ কে? টার্নার, না ম্যাট ফ্রিজ (Matt Freese)? উত্তর আর্জেন্তিনীয় কোচকে খুব দ্রুত খুঁজতে হবে।
আক্রমণে নিষ্প্রভ পুলিসিক
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক (Christian Pulisic) দলের সবচেয়ে বড় মুখ। কিন্তু আপাতত গোলের খরা চলছে। চলতি বছর দেশের জার্সিতে ঝুলি ফাঁকা। বেলজিয়াম ম্যাচেও চেষ্টা চালিয়েছেন, বিস্তর দৌড়েছেন। কিন্তু সেই ফিনিশিং নেই। একটা ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। আক্রমণের ফাইনাল থার্ডের এই অবস্থা হলে বড় টুর্নামেন্টে এগোনো কঠিন।
সব মিলিয়ে আমেরিকান বাহিনী ছোটখাট আশা-জাগানো মুহূর্ত তৈরি করছে, কিন্তু ধারাবাহিকতা নেই। ব্যক্তিগত ঝলক আছে, কিন্তু দলগত দৃঢ়তা উধাও। বিশ্বকাপ ঘরের মাঠে। প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। কিন্তু গতকালের পারফরম্যান্স যদি সংকেত হয়, তাহলে একথা জোরগলায় বলা যেতে পারে, পুলিসিক-ব্রিগেডের গ্রুপ স্টেজ পেরোনোও সহজ হবে না।