.webp)
স্রেফ সেমসাইড, পেনাল্টি ও টাইব্রেকারের জোরে সেমিফাইনালে উঠে গেল ফ্রান্স।
শেষ আপডেট: 7 July 2024 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন। পরের ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফাইনালিস্ট। ফিফা বিশ্ব ক্রমতালিকায় রয়েছে দুই নম্বরে। এবারের ইউরোতেও শুরু থেকে অন্যতম ফেভারিট ধরা হচ্ছিল তাদের। তারা সেসবের মানও রেখেছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেও গিয়েছে তারা।
অথচ সেমিফাইনালে উঠলেও গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে মাঠে নেমে একটিও সরাসরি গোল করতে পারল না ফ্রান্স।
এও এক বিশ্বরেকর্ড বটে! ইউরোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দল মাঠে একটাও সরাসরি গোল না করে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল।
আশ্চর্য প্রতিভা বলতেই হবে ফ্রান্সের। অন্যতম কঠিন গ্রুপে পড়েছিল তারা। ছিল রবার্ট লেওয়ানডস্কির পোল্যান্ড, এবারের আর এক সেমিফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডস ও র্যালফ র্যাংনিকের কোচিং-এ থাকা অস্ট্রিয়া। অথচ স্রেফ গোলের বিচারে সব্বাইকে চমকে দেয় অস্ট্রিয়া। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্স ১-০ জিতেছিল অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে। অথচ গোলটা ছিল সেমসাইড। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে গোলশূন্য শেষ করে ফরাসিরা। শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র হয়। পেনাল্টিতে গোল করেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও পোল্যান্ডের লেওয়ানডস্কি। ওই একটাই গোল, যা ফ্রান্স এবারের টুর্নামেন্টে নিজে থেকে দিয়েছে।
ফরাসি ম্যানেজার দিদিয়ের দেশোঁ এমনিতে বেশ বলিয়ে-কইয়ে। সোজাসাপ্টা কথা বলেন, বিশেষ রাখঢাকের মধ্যে যান না। পর্তুগালের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জেতার পরে সাংবাদিক সম্মেলনে সাফ বলে দিয়েছেন, "আমাদের অনেক বেশি গোল করতে হবে। যদি তুমি গোল করতে পারো, কাজটা তোমার জন্য সহজ হয়ে যায়। নয়ত সেই বিপক্ষের দাক্ষিণ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।"
কিন্তু যেখানে একটা গোল করতেই নাকের জল-চোখের জল অবস্থা হচ্ছে, সেখানে "অনেক বেশি গোল" কি গাছ থেকে পড়বে? দেশোঁ অবশ্য পাল্টা রক্ষণকে গাছে তুলেছেন। বলেছেন, "আমাদের ডিফেন্স কিন্তু আঁটসাঁট। এরকম বড় টুর্নামেন্টে যেটা দরকার। যখন তুমি গোল করতে পারবে না, তখন সবচেয়ে ভাল হয় যদি গোল না খেয়ে থাকতে পারো!"
শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। সেখানেও জিতিয়েছে সেমসাইড। রোমেলু লুকাকুরা অবশ্য যা ছন্দে ছিলেন, তাতে ফ্রান্স গোল খাবে, এমনটাও চট করে কেউ আশা করেনি। কিন্তু উল্টোদিকটাও সত্যি। লেওয়ানডস্কির পেনাল্টি বাদে ফ্রান্স একটা গোল খায়ওনি টুর্নামেন্টে। কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভিজছে না। তাবড় তারকাখচিত নামে ভর্তি ফরাসি বাহিনী। নিচে থিও হার্নান্দেজ, বিল স্যালিবা, আপামেকানো, জুল কৌন্দের সঙ্গে সুন্দর বোঝাপড়া থাকছে মাঝমাঠে এনগোলো কন্তের। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার সঙ্গে সামনে এমবাপে ও আঁতোয়া গ্রিজমান রয়েছেন। পাশে কোলো মুয়ানিও ডানদিকটা সচল রেখেছেন। কিন্তু সব গিয়ে আটকে যাচ্ছে গোলের সামনে। গ্রিজমান একেবারে ছন্দে নেই। এমবাপে নাকের ব্যথায় জেরবার। কন্তে গতিতে হারালেও পেনিট্রেটিং জোনে ব্যর্থ হচ্ছেন। দেম্বেলেকে নিয়েও খুশি হতে পারছেন না দেশোঁ। কোলো মুয়ানিও তাই।
দেশোঁ নিজেও মানেন সেটা। সাংবাদিকদের বলেই দিলেন, "কিলিয়ান আমাকে সব কথা খুলে বলে। ও দলের কাছেও সৎ। যখন ও পেরে ওঠে না, জানিয়ে দেয় সেটা। ও খুব ক্লান্ত ছিল। টুর্নামেন্টের আগে ও পিঠের ব্যথায় কাবু ছিল। নাকের চোটটা যোগ হল। ফর্মে নেই হয়ত, তাই আমাকেও ওর দিকটা দেখতে হবে।"
গ্রিজমানকে নিয়েও একই কথা বললেন দেশোঁ। "নানা কারণে কিলিয়ান আর আঁতোয়া ওদের সেরা খেলাটা খেলতে পারছে না। ওরা জানে ওদের কী করতে হবে। কিন্তু পরিস্থিতি সেটা থাকছে না।"
দেশোঁ জানেন, আসল বিপদটা এইবার সামনে আসছে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের সামনে পড়েছে প্রতিবেশী স্পেন। যারা এবারের ইউরোয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১১ গোল করে দিয়েছে এর মধ্যেই। স্রেফ গ্রুপ পর্বেই করেছে পাঁচ গোল। যার অবশ্য একটা সেমসাইড। কিন্তু তারপর শেষ ষোলোয় জর্জিয়াকে চার গোল মেরেছে। জার্মানিকেও দুটো। এই অবস্থায় অলিভিয়ের জিহুকে শুরু থেকে খেলানো যায় কিনা, ভাবছেন দেশোঁ। অনেকে অবশ্য বলছেন, গাদাগুচ্ছের গোল করেও ছিটকে গিয়েছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া। সেখানে গোল হোক বা না হোক, টুকটুক করে সামনে তো এগোচ্ছে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে অন্যরকম কিছু হতেই পারে।