এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলের বার্তা পরিষ্কার—আগে বাঁচা, তারপর রোশনাই ফেরানো। কিন্তু সেই ‘পরে’-টা আদৌ কবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 25 December 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঝুলে আইএসএল (ISL)। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (All India Football Federation) ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ লিগকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ক্লাবগুলোর সামনে দু’টি সম্ভাব্য ফরম্যাট তুলে ধরেছে। ২০২৫–২৬ মরশুমের জন্য প্রস্তাবিত এই দুই রূপরেখার কেন্দ্রে রয়েছে একটাই লক্ষ্য—খরচ কমিয়ে কোনওভাবে লিগ চালু রাখা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ‘জীবনরক্ষাকারী’ফর্মুলা কি আদৌ কাজে আসবে? বাঁচবে ভারতীয় ফুটবল?
কেন এই প্রস্তাব?
ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (Indian Super League) ভবিষ্যৎ এখন কার্যত ঝুলে। ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (Football Sports Development Limited) সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর লিগের আর্থিক ভিত নড়বড়ে। ২০ ডিসেম্বর এআইএফএফের বার্ষিক সাধারণ সভার (AGM) পর গঠিত তিন সদস্যের কমিটি দিল্লিতে ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে কোনও ব্যাখ্যা বা ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই দু’টি ফরম্যাট পেশ করে। অর্থাৎ, সিদ্ধান্তের বল পুরোপুরি ক্লাবগুলোর কোর্টে।
প্রথম ফরম্যাট: কনফারেন্স-ভিত্তিক লিগ
এই প্রস্তাবে ১৪টি দলকে দুই ভাগে ভাগ করা হবে—ইস্ট ও ওয়েস্ট। প্রতিটি দল নিজেদের কনফারেন্সের মধ্যেই হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। ফলে ভ্রমণ কমবে, খরচও। কনফারেন্স মিলিয়ে লিগ পর্বের ম্যাচ সংখ্যা সীমিত, কিন্তু সূচি টানটান। প্রতিটি গ্রুপের সেরা চার দল খেলবে এক ম্যাচের চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে।
অন্যদিকে, নিচের তিন দল নামবে এক ম্যাচের রেলিগেশন পর্বে। সব ম্যাচ হবে মাত্র দু’টি সেন্ট্রাল ভেন্যুতে—লোকাল ফ্যানবেসের বদলে ‘নিরপেক্ষ’ পরিসরে।
দ্বিতীয় ফরম্যাট: সিঙ্গল-লিগ, সিঙ্গল-রাউন্ড
দ্বিতীয় প্রস্তাব তুলনায় সরল। সব ১৪টি দল একটাই লিগে খেলবে। মোট ম্যাচ ৯১টি, কিন্তু প্রত্যেকে নামবে মাত্র ৬ বা ৭টি ম্যাচে—হোম বা অ্যাওয়ে, র্যান্ডম সূচিতে। কোনও প্লে-অফ নেই। লিগ টেবিলের শীর্ষে যে থাকবে, সেই চ্যাম্পিয়ন। এতে খরচ কম, সময় কম, ঝুঁকিও বেশি—একটি বা দু’টি খারাপ ম্যাচেই মরশুম শেষ।
ভারতীয় ফুটবলে কতটা কার্যকর?
স্বল্পমেয়াদে এআইএফএফের যুক্তি বোঝা যায়। লিগ থেমে গেলে স্পনসর, ব্রডকাস্টার, বিনিয়োগ—সব হারানোর আশঙ্কা। তাই ‘কম আকর্ষক’ হলেও মাঠে নামাটাই আপাতত প্রধান লক্ষ্য। যদিও তাতে ফুটবলীয় ক্ষতির অঙ্কটা এতটুকু কমে না। কারণ কেন্দ্রীয় ভেন্যু মানে ঘরের মাঠের আবহ হারানো। ডার্বি, স্থানীয় পরিচয়, গ্যালারির চাপ—সব উধাও। কনফারেন্স ফরম্যাট মার্কিন মেজর লিগ সকারে (Major League Soccer) কাজ করলেও, ভারতের ফুটবল-সংস্কৃতির বাজারে তা কতটা খাপে খাপ যাবে, প্রশ্ন থেকেই যায়। আবার সিঙ্গল-লিগে গল্প তৈরি হওয়ার সুযোগ কম—কামব্যাক, লড়াই, ধারাবাহিকতা সবই সংকুচিত।
এআইএফএফ নিজেও এই প্রস্তাবগুলোকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছে না। এগুলো ‘সারভাইভাল মোড’। লিগকে বাঁচাতে আপাতত আপস। বড় প্রশ্ন, এই আপস কি ভবিষ্যতের সংস্কারের জায়গা তৈরি করবে, নাকি শুধু সমস্যাগুলো পিছিয়ে দেবে?
আসলে এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলের বার্তা পরিষ্কার—আগে বাঁচা, তারপর রোশনাই ফেরানো। কিন্তু সেই ‘পরে’-টা আদৌ কবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।