হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। বরং পরিকল্পনা করেই এই ‘ওভারসাইজড’, একটু ঢিলেঢালা, ‘আনকনভেনশনাল’ বিকল্প বেছে নিয়েছেন পেপ।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 19 March 2026 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাহলে লড়াই হেরেও ট্রেন্ডে থাকা যায়! সেটাও কিনা ময়দানি কোনও কারনামা নয়, স্রেফ পরনের জামার দৌলতে! গুঁজে পরেননি, ঈষৎ ‘ক্যাজুয়াল’ ঢঙে গায়ে চড়িয়েছেন৷ তাতেই চিড়বিড়িয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। মূলত, ইংল্যান্ডের অনুরাগী-গোষ্ঠী! ব্রিটিশ ভব্যতার আঁতে ঘা লেগেছে বলেই কি এভাবে নিশানায় পেপ গুয়ার্দিওলা? পাক খেল বিতর্কের ধূম? বইল ট্রোলের বন্যা?
সত্যি বলতে, প্রেস কনফারেন্স হোক কিংবা টাচলাইন… বরাবর অঙ্গসাজে ছক ভেঙেছেন স্পেনীয় ম্যানেজার৷ কখনও আলখাল্লা-প্রমাণ হুডি, কখনও হাইনেক জ্যাকেট। স্টাইল স্টেটমেন্টে প্রথা অস্বীকারের একটা প্রবণতা বরাবর দেখা গিয়েছে গুয়ার্দিওলার পোশাক নির্বাচনে৷ রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে পরাজয়ের দিন যে কায়দায় এতিহাদের ডাগ আউটে দাঁড়ালেন তিনি, বরাবরের মতো সেটাও ধাক্কা দিল, টান পড়ল সংস্কারে, টাল খেল ছুঁৎমার্গিতাও।

ম্যাচে হার, ভাইরাল জামা!
গত পরশু রাতে ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City) মাঠের লড়াইয়ে হারল রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) কাছে। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা (Pep Guardiola)—রণকৌশল নয়, সৌজন্যে সাজপোশাক! চেক শার্ট, ঢিলেঢালা ফিট, ভেতরে কালো টি-শার্ট, সঙ্গে স্ট্রেট-কাট ট্রাউজার—পুরো লুকটাই যেন ফুটবল কোচের চেয়ে বেশি ‘স্ট্রিট স্টাইল’। এই ‘লুজ-ফিট’ জামা আসলে সুইডিশ ব্র্যান্ড আওয়ার লেগাসির (Our Legacy)। দাম প্রায় ২৭০ পাউন্ড (প্রায় ৩০০ ইউরো)। যা বুঝিয়ে দিচ্ছে, ময়দানে হারলেও স্টাইলের বাজারে কিন্তু তিনি একেবারে প্রিমিয়াম লিগে খেলেছেন!

মজার বিষয়, সাধারণত কোচদের দেখা যায় মোটা জ্যাকেট বা ফর্মাল কোটে। সেখানে গুয়ার্দিওলার এই হাল্কা চালের লুক অনেকের চোখেই বেমানান লেগেছে। আর সেখান থেকেই শুরু ট্রোলের বন্যা।
‘ফ্যাশন না সিরিয়াসনেস?’ প্রশ্ন সমর্থকদের
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে মজা করে লিখেছেন—এই পোশাক দেখে বোঝাই যাচ্ছিল, সিটি ম্যাচটা সিরিয়াসলি নিচ্ছে না! কারও মন্তব্য, ‘এই শার্ট দেখেই বুঝেছিলাম কামব্যাক হবে না!’ কেউ লিখেছেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটির ঘাড়ে আরও একটা চার্জ যোগ করো—এই পোশাকের জন্য!’ ইঙ্গিতে চিমটি স্পষ্ট, প্রিমিয়ার লিগের (Premier League) আর্থিক নিয়মভঙ্গ সংক্রান্ত বিতর্কে জড়িয়ে থাকা ক্লাবের বিরুদ্ধে নতুন ‘অভিযোগ’-ই উঠে এল নিশানায়।

তবে সবাই যে সমালোচনা করেছেন, তা নয়। অনেকেই জানিয়েছেন, ফুটবল কোচদের এই ‘স্টাইল ব্রেক’ দরকার ছিল। একঘেয়ে স্যুট-বুটের বাইরে এসে একটু ব্যক্তিত্ব দেখানো খারাপ কী? আসলে দ্বন্দ্বটা স্পষ্ট—ফুটবল শুধুই ট্যাকটিক্সের খেলা, নাকি এখন সেটাও একটা ‘এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ’… যেখানে ফ্যাশনও সমান না হলেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ?
গুয়ার্দিওলার ‘স্টাইল’: নতুন কিছু নয়
যাঁরা নিয়মিত গুয়ার্দিওলাকে ফলো করেন, তাঁরা জানেন—এটা নতুন কিছু নয়। বার্সেলোনা (FC Barcelona) থেকে বায়ার্ন মিউনিখ (Bayern Munich), সেখান থেকে ম্যানচেস্টার সিটি—সর্বত্র তিনি পোশাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। কখনও লং কোট, কখনও মিনিমালিস্ট সোয়েটার, কখনও হুডি—প্রতিবারই আলাদা আলাদা স্টেটমেন্ট!
এবারের শার্টের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। বরং পরিকল্পনা করেই এই ‘ওভারসাইজড’, একটু ঢিলেঢালা, ‘আনকনভেনশনাল’ বিকল্প বেছে নিয়েছেন তিনি। আর সেটাই তাঁকে আলাদা করে। যেহেতু মাঠের বাইরেও নিয়ম ভাঙতে ভয় পান না পেপ! ফলে ম্যানেজার সত্তার সঙ্গে এই পোশাক নির্বাচন একেবারে খাপে খাপ মিলে গিয়েছে।