মাত্র একমাস আগেই সাতপাকে বাঁধা পড়েন। জীবনের নতুন অধ্যায়, অগাধ ভালোবাসায় ভরা ভবিষ্যতের হাতছানি—সব কিছুর মাঝেই হঠাৎ ছন্দপতন।

দিয়োগো জোতা ও রুতে কার্দোস
শেষ আপডেট: 23 July 2025 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবকিছু ঠিক থাকলে আজকের দিনে পাশে থাকতেন জোতা (Diogo Jota)।
সবকিছু ঠিক থাকলে পেতেন ভালবাসার চুম্বন, কোনও এক দ্বীপে ছুটি কাটাতে যেতেন সপরিবারে।
সবকিছু ঠিক নেই, কোনওকিছুই আর ঠিক নেই রুতে কার্দসোর (Rute Cardoso) জীবনে। স্বামী, বিখ্যাত ফুটবলার দিয়োগো জোতা মারা গিয়েছেন (Diogo Jota Car Accident) গাড়ি দুর্ঘটনায়। তাও বিয়ের মাত্র ১১ দিনের মাথায়।
মাত্র একমাস আগেই সাতপাকে বাঁধা পড়েন। জীবনের নতুন অধ্যায়, অগাধ ভালোবাসায় ভরা ভবিষ্যতের হাতছানি—সব কিছুর মাঝেই হঠাৎ ছন্দপতন। জুনের ২২ তারিখে বিয়ের আসরে তাঁরা ছিলেন হাসিখুশি নবদম্পতি। আজ, জুলাইয়ের ২২ তারিখে—ঠিক একমাস পর—তিনি নিঃসঙ্গ। পাশে জোতা নেই। কোনওদিন ফিরে আসবেন না। ফেলে আসা যাপনের স্মৃতি মনে করেই অবসাদে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী রুতে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে (Rute Cardoso Instagram Post) তিনি লেখেন, ‘মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে—একমাস। চিরকাল, তোমার হোয়াইট গার্ল!’ এই লেখার সঙ্গে তাঁদের বিয়ের তিনটি ছবি। একটিতে দুজনে নাচছেন। সেই মুহূর্তে জোতা রুতে-কে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন, মুখভরা হাসি। আরেকটি ছবিতে দু’জনের হাতে হাত ধরা, ক্যামেরার ফোকাসে বিয়ের আংটি। তৃতীয় ছবিতেও আবেগময় মুহূর্ত, নবদম্পতির চোখভরা আনন্দ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই উৎসব আয়োজনের মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্পেনের জামোরায় ল্যাম্বরগিনি চালিয়ে যাচ্ছিলেন জোতা। হঠাৎ চাকা ফেটে রাস্তা থেকে ছিটকে যায় গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ জ্বলে ওঠে আগুন। গাড়িতে জোতার সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই আন্দ্রে সিলভা। দু’জনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।
২৮ বছর বয়সী দিয়োগো জোতা খেলতেন লিভারপুলের হয়ে। গত মরশুমে ক্লাবের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জেতার পাশপাশি পর্তুগালের জার্সিতে নেশনস লিগও হাতে তোলেন। তাঁর ভাই আন্দ্রে (২৫) খেলতেন দেশের ঘরোয়া লিগের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব পেনাফিয়েলে।
দুর্ঘটনার মাত্র ২০ ঘণ্টা আগেই, নিজেদের যৌথ ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে দিয়োগো ও রুতে পোস্ট করেছিলেন তাঁদের বিয়ের ছবি। ক্যাপশনে লেখা, ‘এই দিনটা আমরা কোনওদিন ভুলব না!’ এর তলায় রুতে কমেন্ট করেন, ‘আমার স্বপ্ন সত্যি হল!’ প্রত্যুত্তরে জোতার মন্তব্য, ‘আসলে আমি-ই সবচেয়ে ভাগ্যবান।’
দু’জনে প্রেমে পড়েন স্কুলজীবনে। বয়স তখন ১৫-১৬। তারপর দীর্ঘ ১৩ বছরের সম্পর্ক। অবশেষে বিয়ে। কিন্তু এত দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার অন্তিম পরিণতি মাত্র ১১ দিনের দাম্পত্য। মৃত্যু তাঁদের আলাদা করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসার বাঁধন এখনও অটুট। স্মৃতিময় পোস্টে এই সত্যই তুলে ধরলেন রুতে।