স্লটের অধীনে দল গত পাঁচ লিগ ম্যাচে জিততে পারেনি। অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট পকেটে আসায় রেলিগেশন জোন ভেঙে বেরিয়ে আসার রসদ পেল বোর্নমাউথ।

নায়ক এমবাপে
শেষ আপডেট: 25 January 2026 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউরোপের শীর্ষ তিন লিগে শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় একযোগে লেখা হল তিন আলাদা গল্প। স্পেনে কিলিয়ান এমবাপের (Kylian Mbappe) জোড়া গোল রিয়াল মাদ্রিদকে ফের শীর্ষে তুলল। জার্মানিতে দীর্ঘ ২৭ ম্যাচ পর অবশেষে থামল বায়ার্ন মিউনিখের (Bayern Munich) অপরাজেয় যাত্রা। আর ইংল্যান্ডে, শেষ মুহূর্তের আঘাতে ভেঙে পড়ল লিভারপুল (Liverpool)—যার জেরে চাপ বাড়ল কোচ আরনে স্লটের (Arne Slot)। তিন লিগ, তিন আলাদা ছবি, কিন্তু সুর একটাই—খেতাবের দৌড় যত এগচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রতিযোগিতা।
রিয়ালের শীর্ষে ফেরা
লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের মাঠে ২–০ জয়ের সুবাদে ফের টেবিলের শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)। ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)। দ্বিতীয়ার্ধে দু’টি গোল, তার মধ্যে একটি পেনাল্টি থেকে—ফরাসি তারকার পারফরম্যান্সেই ফারাক গড়ে যায়। চলতি লিগে এমবাপের গোল সংখ্যা এখন ২১, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৪। পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, রিয়ালের এই মরশুমে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র কে।
নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার (Alvaro Arbeloa) অধীনে রিয়াল ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে। কোপা দেল রে-তে দ্বিতীয় ডিভিশনের আলবাসেতের (Albacete) কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতেছে দল। ভিনি জুনিয়র (Vinicius Junior) গোল না পেলেও আক্রমণে প্রভাব স্পষ্ট। এমবাপের প্রথম গোলের ক্ষেত্রে বাম উইং থেকে ভিনিসিয়াসের আচমকা ‘কাট-ইন’-ই ভিয়ারিয়ালের রক্ষণ ভেঙে দেয়। আরবেলোয়ার কথায়, ‘এমবাপে আর ভিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের অন্যতম। ম্যাচের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।’ ভিয়ারিয়াল চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এমবাপের ঠান্ডা মাথার পেনাল্টি কামব্যাকের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এই জয়ের সুবাদে রিয়াল দুই পয়েন্টে এগিয়ে বার্সেলোনাকে (Barcelona) চাপে রাখল।
জার্মানিতে থামল বায়ার্নের জয়রথ
বুন্দেশলিগায় চমক। আউসবার্গ (Augsburg) ২–১ ব্যবধানে হারাল বায়ার্ন মিউনিখকে (Bayern Munich)। মার্চের পর প্রথম লিগ পরাজয়, ২৭ ম্যাচের অপরাজেয় ধারার অবসান। ইতিবাচক শুরুটা অবশ্য বায়ার্নই করেছিল। হিরোকি ইতোর (Hiroki Ito) গোলে এগিয়েও যায় তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ছ’মিনিটের ঝড়ে হিসেব উল্টে দেয় আউসবার্গ। গোলকিপার জোনাস উরবিগের (Jonas Urbig) ভুল কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান আর্থার চাভেস (Arthur Chaves)। তারপর দুর্দান্ত দলগত আক্রমণ থেকে জয়সূচক গোল হান-নোয়া মাসেঙ্গোর (Han-Noah Massengo)। ম্যাচ শেষে জশুয়া কিমিখ (Joshua Kimmich) স্বীকার করে নেন, ‘জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল না।’
এই হারের ফলে বায়ার্ন শীর্ষে থাকলেও আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরল। অন্যদিকে, বেয়ার লেভারকুসেন (Bayer Leverkusen) সমর্থকদের উল্লাস অন্য মাত্রা পেল। যাদের বিশ্বাস, ‘অপরাজেয় চ্যাম্পিয়ন’ তকমা এখনও একমাত্র তাদেরই। গতকাল ব্রেমেনকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লেভারকুসেন।
লিভারপুলের শেষ মুহূর্তের ধাক্কা
যদিও সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত ধরা পড়ল প্রিমিয়ার লিগে, বোর্নমাউথ (Bournemouth) বনাম লিভারপুল ম্যাচে। ৯৫ মিনিটে আমিন আদলির (Amine Adli) গোল লিভারপুলের ১৩ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রা থামিয়ে দেয়। ৩–২ ব্যবধানে হার, আর তাতেই চাপে কোচ আর্নে স্লট (Arne Slot)। ম্যাচে লিভারপুল বলের দখল রেখেছিল, কিন্তু রক্ষণের ভুলে প্রথমার্ধেই ২–০ পিছিয়ে পড়েন সালাহরা। ইভানিলসন (Evanilson) ও অ্যালেক্স হেমিনেজের (Alex Jimenez) গোলে বোর্নমাউথ এগিয়ে যায়। পরে ভার্জিল ফান ডাইক (Virgil van Dijk) আর ডমিনিক সোবোস্লাই (Dominik Szoboszlai) সমতা ফেরালেও শেষরক্ষা হয়নি।
এই পরাজয়ের জেরে লিভারপুলের টপ ফোরের বাইরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়াল। স্লটের অধীনে দল গত পাঁচ লিগ ম্যাচে জিততে পারেনি। অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট পকেটে আসায় রেলিগেশন জোন ভেঙে বেরিয়ে আসার রসদ পেল বোর্নমাউথ।