“অসম্ভব বলে কোনও শব্দ প্যালেস্তিনীয়দের অভিধানে নেই। জন্ম থেকেই আমরা যোদ্ধা।” তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে বেশ মিলে যায় ইস্টবেঙ্গলের মূলমন্ত্রও। লড়াই, লড়াই আর লড়াই ছাড়া তো দ্বিতীয় কোনও শব্দ নেই লাল-হলুদের অভিধানে।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাব
শেষ আপডেট: 15 May 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক মরশুমের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ভুলে এবার নতুন উদ্যোমে ঝাঁপিয়েছে পদ্মা পাড়ের ক্লাব। ইনভেস্টর ও ক্লাব কর্তারা এবার সমর্থকদের মুখে যে কোনও মূল্যে হাসি ফোটাতে মরিয়া। দলের চানক্য অস্কার ব্রুজোঁর (Oscar Bruzon) পরামর্শ অনুযায়ী মাঠেও নেমে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ভারতীয় ফুটবালরের পাশাপাশি বিদেশিদের সঙ্গেও চুক্তি (Contract) করে নিয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
এবার জানা গেল প্যালেস্তাইনের এক ফুটবলারকে (Palestine Footballer) নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে মশাল বাহিনী। প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজোঁর দেওয়া বিদেশিদের তালিকায় নাম রয়েছে প্যালেস্তাইনের এই ফুটবলারের। প্যালেস্তাইনের এই ফুটবলারের নাম মহম্মদ রশিদ (Mohammed Rashid)। লড়াকু ফুটবলার হিসাবে বিখ্যাত তিনি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ প্যালেস্তাইন। প্যালেস্তিনিদের প্রতিটি স্বেদবিন্দুতে রয়েছে বারুদের গন্ধ। প্রতিমুহূর্তে লড়াই করে তাঁদের দিন কাটে। সেই দেশের নাগরিক রশিদ একবার ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “অসম্ভব বলে কোনও শব্দ প্যালেস্তিনীয়দের অভিধানে নেই। জন্ম থেকেই আমরা যোদ্ধা।” তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে বেশ মিলে যায় ইস্টবেঙ্গলের মূলমন্ত্রও। লড়াই, লড়াই আর লড়াই ছাড়া তো দ্বিতীয় কোনও শব্দ নেই লাল-হলুদের অভিধানে। বহুবার লড়াই করে ফিরে এসেছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব।
প্যালেস্তাইনের রাস্তায় ফুটবল খেলে বড় হয়ে ওঠা রশিদের। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলেন সেখানে। রাস্তায় ফুটবল খেলেই কেটেছে শৈশব। এখন তিনি দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।
ভাল শিক্ষা, ভাল স্কুল, ভাল জীবনের জন্য ১৬ বছর বয়সে চলে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু ফুটবল যে তাঁর হৃদয়ে। তাই সারাক্ষণের সঙ্গী ছিল ফুটবল। ২২ বছর বয়সে স্থানীয় হিলাল আল কুদস ক্লাবে যোগ দেন তিনি। তার পরে সৌদি আরব, মিশর, ইন্দোনেশিয়ার ক্লাবের হয়ে নিজেকে মেলে ধরেছেন।
এবার সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মহম্মদ রশিদের গায়ে উঠতে পারে লাল-হলুদ জার্সি। ইস্টবেঙ্গল হেডস্যার অস্কারের পছন্দের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ৬ ফুটের রশিদ। বিভিন্ন দেশের ক্লাবের হয়ে খেলে সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর কেরিয়ার। প্রথমে তিনি ছিলেন স্ট্রাইকার। পরে সেন্টার ব্যাক পজিশনে। সৌদি আরবে আবার তাঁর পজিশন বদলায়। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসাবে খেলতে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছিলেন। পরে আবার তাঁকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলানো হয়। অর্থাৎ এক কথায় রশিদ একজন ‘কমপ্লিট’ ফুটবলার (Complete Footballer)। এক সাক্ষাৎকারে রশিদ বলেছিলেন, ‘নাম্বার সিক্সের পরিবর্তে নাম্বার এইট পজিশনে খেলতে আমি পছন্দ করি।'
তাঁকে নিয়ে এখন থেকেই নেটপাড়ায় স্বপ্ন দেখা শুরু হয়ে গিয়েছে লাল-হলুদ সমর্থকদের।