খালিদ জামিলের সামনে কাজ কঠিন, কিন্তু সুযোগও কম নয়। আগামী দু’বছর কোনও বড় টুর্নামেন্ট নেই। এই সময়টা তিনি ব্যবহার করতে পারেন গ্রাউন্ড–আপ রিবুটের জন্য—যেখানে সিনিয়রদের অহং নয়, তরুণদের ক্ষিদেই হবে চালিকাশক্তি।

ছবি: এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 16 October 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জায়গা মিলল না এশিয়ান কাপের (AFC Asian Cup 2027) মূলপর্বে। গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে (Fatorda, Goa) সিঙ্গাপুরের (Singapore) কাছে হেরে (১-২) বিদায় নিল ভারত (India)। যার অর্থ: ২৪ দলের মঞ্চে থাকছে না ‘ব্লু টাইগার্স’। আরেকটু ছড়িয়ে দেখলে: জনসংখ্যার হিসেবে এশিয়ার ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব হারাল টুর্নামেন্ট!
ফুটবল মহলের প্রশ্ন—এবার কী? খালিদ জামিল (Khalid Jamil) কি থাকছেন? নাকি আবারও শুরু হবে ‘কোচ বদলের মহড়া’? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে জামিলকে সরিয়ে দিলে হয়তো খবরের শিরোনাম তৈরি হবে। কিন্তু সমস্যা সমাধানে কোনও বিরাট বদল আসবে না। তার পরিবর্তে এখন প্রয়োজন বাস্তববাদী রোডম্যাপ—যেটা নিয়ে এগলে ভারতীয় ফুটবল অন্তত দিশা খুঁজে পেতে পারে।
১. পরিবর্তন আনতে হবে মূল কাঠামোয়!
খালিদের হাতে সময় ছিল অল্প, প্রস্তুতিও সীমিত। তবু কাফা নেশনস কাপে (CAFA Nations Cup) সীমিত শক্তিতে ভালো লড়েছে ভারত। কিন্তু আচমকা পুরনো তারকাদের ফিরিয়ে আনতেই ভেস্তে গেল পরিকল্পনা। পুরনো দল বারবার ব্যর্থ। তাই একই নামের পুনরাবৃত্তি—এই চক্র ভাঙতেই হবে। সুনীল ছেত্রীর (Sunil Chhetri) অধ্যায় এখন শেষের পথে। খালিদের পছন্দের হাই–প্রেসিং সিস্টেমে দরকার গতিশীল স্ট্রাইকার। পাশাপাশি, ব্র্যান্ডন (Brandon Fernandes), সাহাল (Sahal Abdul Samad), চাংতে (Lallianzuala Chhangte), লিস্টনের (Liston Colaco) মতো নামকরা মিডফিল্ডাররা তিরিশের দোরগোড়ায়। সময় এসেছে রোস্টারে তরুণ রক্ত ঢোকানোর।
২. ‘আন্ডারডগ’ ভাবমূর্তি: বাস্তবের সঙ্গে আপোস নয়
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফলই চূড়ান্ত। ব্রাজিল বা নেদারল্যান্ডস হয়তো ‘খেলার সৌন্দর্য’ দিয়ে ইতিহাস গড়েছে। কিন্তু ট্রফি ঘরে তুলেছে গ্রিসের (Greece) মতো পরিশ্রমী দল। ভারত এখনও এশিয়ার শীর্ষ ২৪ দলের মধ্যে নেই—এটা বাস্তব। খালিদের উচিত সেই সত্য মেনে নিয়ে প্রতিপক্ষের ছন্দ নষ্ট করা ‘কাউন্টার ফুটবলে’ ফিরে যাওয়া। লো ব্লক, সেট পিসে ভরসা আর রক্ষণের শৃঙ্খলা—এই তিন মন্ত্রে ফের জেতার অভ্যাস ফিরতে পারে।
৩. ফাঁকা ক্যালেন্ডার কাজে লাগানো
এখনও হাতে দুটি আনুষ্ঠানিক ম্যাচ: বাংলাদেশ (Bangladesh) ও হংকংয়ের (Hong Kong) বিরুদ্ধে, ২০২৬ সালের মার্চে। এর বাইরে দক্ষিণ এশিয়ার নিচু র্যাঙ্কের দলগুলোর বিরুদ্ধে ছোট টুর্নামেন্ট আয়োজন করেও দলকে আবার ম্যাচমুখী করা যেতে পারে। এই পর্যায়ে রেজাল্টের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা–নিরীক্ষা। নতুন খেলোয়াড়, নতুন কম্বিনেশন, নতুন আইডিয়া—সব কিছু হাতেকলমে ঝালিয়ে দেখা সম্ভব। কেউই ‘অটোমেটিক চয়েস’ নয়!
৪. অনূর্ধ্ব-২৩ টিমকে দ্রুত প্রমোট করা
এই মুহূর্তে ভারতীয় পুরুষ ফুটবলের একমাত্র আশার আলো সেই অনূর্ধ্ব–২৩ দল। চোখধাঁধানো ফুটবল খেলছে তরুণ ব্রিগেড। খালিদ ইতিমধ্যেই সাতজনকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডেকেছিলেন, কিন্তু মাঠে নামাতে পারেননি। এখন সময় দায়িত্ব তুলে দেওয়ার। ইতিহাস সাক্ষী, কখনও কখনও ঝুঁকিই সাফল্যের জন্ম দেয়। যেমন, একসময় সুখবিন্দর সিং সুনীল ছেত্রীকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ডেবিউ করিয়ে বাজি ধরেছিলেন (২০০৫)। ফল: ভারতের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
খালিদ জামিলের সামনে কাজ কঠিন, কিন্তু সুযোগও কম নয়। আগামী দু’বছর কোনও বড় টুর্নামেন্ট নেই। এই সময়টা তিনি ব্যবহার করতে পারেন গ্রাউন্ড–আপ রিবুটের জন্য—যেখানে সিনিয়রদের অহং নয়, তরুণদের ক্ষিদেই হবে চালিকাশক্তি। অবশ্য প্রশ্ন রয়ে যায়—এআইএফএফ (AIFF) কি আদৌ সেই ধৈর্য দেখাবে? নাকি আবারও কোচকে বলির পাঁঠা বানিয়ে নিজেদের দায় এড়াবে? মাঠের হার যতই কষ্ট দিক, ভারতের বড় পরাজয় আসলে প্রশাসনিক অদক্ষতার গোলকধাঁধায়। খালিদের সামনে পথ এখনও খোলা, যথেষ্ট প্রশস্তও বটে। এই পরিস্থিতিতে দিকনির্দেশনায় ভুল করা চলবে না।