শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব মানে শুধু নাম নয়—স্মৃতি, আবেগ, ইতিহাস। সেই উচ্চারণ যদি দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর মুখেই ঠিকঠাক ফুটে না বেরোয়, তাহলে সওয়াল তো উঠবেই—ফুটবলের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কি একচুল কমেছে?

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 7 January 2026 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুটো ক্লাবই শতবর্ষ পেরিয়েছে৷ ভারতের ফুটবলের ইতিহাস নিয়ে লিখতে গেলে একটা আঁচড়ও ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ও মোহনবাগান (Mohun Bagan)–কে ছাড়া লেখা অসম্ভব! আপাতত দেশীয় ফুটবলে ডামাডোল চলছে। থামার নাম নেই। আর তালেগোলে পড়ে গিয়ে দশচক্রে যে ভগবানও ভূত হয়, প্রমাণ মিলল গতকাল, আইএসএল আয়োজন ঘোষণার মঞ্চে।
সমস্ত জট কাটিয়ে কোন কোন ক্লাব সামনের মাস থেকে শুরু হতে চলা ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (Indian Super League)–এ নামবে, তাদের নাম পড়ে পড়ে শোনাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য (Mansukh Mandaviya)। সাংবাদিক সম্মেলন৷ হলরুম ঠাসা। সেখানে কাগজ দেখে পরপর পড়তে গিয়ে যেই মোহনবাগানের নাম এল, দৃশ্যতই অস্বস্তিতে মন্ত্রী৷ যেভাবে পাতার দিকে চেয়ে রইলেন, প্রশ্ন উঠবে, আদৌ বাংলার এই ক্লাবের নাম শুনেছেন তো!
কিন্তু এই জড়তাটুকু তো নস্যি! কোনওমতে সামলে ক্লাবের নাম বলতে গিয়েই মনসুখ থতমত, হতভম্ব! তারপর আটকে-পেঁচিয়ে উচ্চারণ করলেন, ‘মোহন বেগান’। ইংরেজিতে Mogun Bagan–এর ‘Bagan’–কে বেগুন ভেবে হিন্দিতে বেগান বলে বসেন তিনি৷ এরপর পালা ইস্টবেঙ্গলের৷ সেখানেও ‘ইস্ট’–টুকু ঠিক বলে Bengal–এর উচ্চারণ সেই একই… ‘বেগান’, বাংলায় ‘বেগুন’!
ভারতের গর্ব মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল।
দেশের বিজেপি ক্রীড়া মন্ত্রী,
এই আবেগের নাম টা জানুন!#OustBJP #RejectRSS #banglabachao pic.twitter.com/DTDrSx1cJp— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) January 7, 2026
ভিডিও কনফারেন্সের ছোট ক্লিপ ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল৷ কেউ কমেন্ট করেছেন, ‘বিদেশিরাও যেখানে ঠিকঠাক উচ্চারণ করে সেখানে দেশের মন্ত্রী হিমশিম খাচ্ছেন!’ কারও মন্তব্য, ‘হিন্দি নিয়ে আদেখলাপনা করা বাঙালির এসব এখন আর গায়ে লাগে না!’
ঘটনাটা আলাদা করে চোখে লেগেছে, কারণ এই মঞ্চেই আইএসএল (Indian Super League) পুনরারম্ভের ঘোষণা করেছে ফুটবল ফেডারেশন। মাসের পর মাস ঝুলে থাকা ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার, এআইএফএফ (All India Football Federation) ও ক্লাবগুলোর আলোচনার ফলাফল তুলে ধরা হচ্ছিল। এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে দেশের ফুটবলের দুই স্তম্ভ—মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের নাম উচ্চারণে এমন হোঁচট নিছক ভাষাগত ভুল বলে কি উড়িয়ে দেওয়া যায়?
সমালোচকদের অধিকাংশের মতে, সমস্যা উচ্চারণে নয়, সমস্যাটা সংবেদনশীলতায়। শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব মানে শুধু নাম নয়—স্মৃতি, আবেগ, ইতিহাস। সেই উচ্চারণ যদি দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর মুখেই ঠিকঠাক ফুটে না বেরোয়, তাহলে সওয়াল তো উঠবেই—ফুটবলের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কি একচুল কমেছে? একটা ভিডিও ক্লিপ, কয়েক সেকেন্ডের ভুল উচ্চারণ—কিন্তু তার মধ্যেই ধরা পড়ল ভারতীয় ফুটবলের চিরচেনা অসুখ। মাঠে ঐতিহ্য, গ্যালারিতে আবেগ—আর প্রশাসনিক মঞ্চে তীব্র অসচেতনতা।