ইরানে যে একটা সমস্যা হচ্ছে, সেটা সবাই জানেন। সেখানে ফুটবলাররা যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, ম্যানেজমেন্ট সেখানে কিছুই করতে পারে না।

মোহনবাগান
শেষ আপডেট: 5 October 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবলারদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে এসিএল টু-এর (ACL2) ম্যাচ খেলতে ইরানে যায়নি মোহনবাগান (Mohunbagan)। এর ফলে এএফসির সিদ্ধান্তে এবারের প্রতিযোগিতায় আর খেলতে পারবে না তারা। মেরিনার্সের এই সিদ্ধান্তে গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাবের সভ্য-সমর্থকদের মনে বেশ ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সভ্য-সমর্থকদের ক্ষোভ যে অমূলক নয়, তা মেনেও নিয়েছেন কার্যকরী কমিটি। রবিবার মোহনবাগানের সচিব সৃঞ্জয় বোস ও সভাপতি দেবাশিস দত্ত এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, “যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তা যে অমূলক, তা আমরা মনে করি না। আমরাও বিশ্বাস করি, সব ধরণের প্রতিযাগিতাতেই মোহবাগানের খেলা উচিত। আপনাদেরও একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত, প্রতি বছর যে বিশাল বাজেটের দল তৈরি করা হচ্ছে, তা সব প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই। পরপর আইএসএল লিগ, কাপ সব জিতে ভারতীয় ফুটবলে মোহনবাগানের জয়পতাকা ওড়ানো নিশ্চয়ই সেই বার্তাই বহন করে।”
সেই সঙ্গে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “তবে এটাও ঠিক, আমরা প্রথম সারির কিছু প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে হয়তো দ্বিতীয় সারির কিছু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারিনি। নাহলে রিজার্ভ দল খেলিয়েছি। যে প্রতিযোগিতায় আমরা অংশ নিইনি, অথবা রিজার্ভ দল খেলিয়েছি, ভালভাবে একটু ভাবনা-চিন্তা করে দেখুন, প্রতিটি সিদ্ধান্তের পিছনে টেকনিক্যাল কারণ ছিল। আর শেষ পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা ভারতীয় ফুটবলের প্রথম সারির প্রতিযোগিতায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারই প্রমাণ।
শিল্ড আমরা এর আগেও খেলিনি। অবশ্য গত দু'বছর ধরে এমনিতেই শিল্ড হচ্ছে না। কিন্তু ফিফা উইন্ডো মেনে যদি আইএফএ শিল্ড হয়, তাহলে খেলতে কোনও সমস্যাই থাকে না। জাতীয় দলে ৭-৮জন ফুটবলার ডেকে নেওয়ার পর শিল্ড খেলতে নামলে রিজার্ভ দল খেলানো ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। তারপরেও আমরা এই বছর শিল্ডে খেলছি। গতবার শিল্ড হলে, সেটাও খেলতাম। আর কলকাতা লিগেও যদি আইএসএলের ফুটবলার আমরা খেলাই, তাহলে দীপেন্দু, সুহেল ভাটরা খেলার সুযোগ পাবে কোথায়? আমরা তো অনেক আগেই জানিয়েছি, দেশের এক নম্বর প্রতিযোগিতা, আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য সর্বোচ্চস্তরের যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার, আমরা নেব। তাই কলকাতা লিগটা আমাদের জন্য জুনিয়র ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ। পৃথিবীর সমস্ত বড় দল দেশের এক নম্বর লিগে যে সব ফুটবলারদের খেলায়, তাঁদের কমিউনিটি লিগে খেলায় না। কলকাতা লিগ থেকে জুনিযর ফুটবলাররা যে ভাবে উঠে আসছে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল।
এবার রইল, ইরানে এসিএল-টু'র ম্যাচ খেলতে না যাওয়া। আমরা তো গত বছরেও একই কারণে খেলতে যাইনি। ইরানে যে একটা সমস্যা হচ্ছে, সেটা সবাই জানেন। সেখানে ফুটবলাররা যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, ম্যানেজমেন্ট সেখানে কিছুই করতে পারে না। খেলার আগেও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের জীবন। আর এক্ষেত্রে আমরা ইরানে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা ফুটবলারদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছিলাম। এএফসিতে খেলতে না পারার জন্য আপনাদের মতো আমরাও মর্মাহত। কারণ, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা প্রতিবছর ৭০-৮০ কোটি টাকার দল গঠন করেন। সর্বোচ্চস্তরে ভাল ফল করার জন্য। নিশ্চয়ই দ্বিতীয় সারির প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য নয়। তাহলে এত খরচ করে দল গঠন করার পর কোনও সমস্যা না থাকলে ইরানে কেন খেলতে যাওয়া হবে না?
তাছাড়া এই মরশুমের ভারতীয় ফুটবলের পরিস্থিতিও ভাবুন। এখনও আমরা জানি না, আইএসএল হবে কি না? হলে কবে হবে? কীভাবে কী হবে, কিছুই জানি না। আর সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এসব কিছু না জেনেই বিশাল খরচ করে দল গঠন করে বসে আছেন। মোহনবাগান কোথাও না খেললে অবশ্যই মর্মাহত হবেন। প্রতিবাদ করবেন। কিন্তু শুধুই আবেগের বশে সমালোচনা না করে একটু যুক্তি দিয়েও ভাবুন। যিনি প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়ে আমাদের লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন, তাঁকে এক লহমায় সমালোচনার কাঁটায় বিদ্ধ করতে আপনাদের হৃদয় কাঁপছে না? আবার বলছি, আমরা সবাই চাই, মোহনবাগান ভারতীয় ফুটবল ছাড়িয়ে এশিয়াতেও নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করুক। আর তার জন্যই এই বিশাল দল গঠন। যখন খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, নিশ্চয়ই তার পিছনে কারণ রয়েছে।
আমরাও মোহনবাগানের কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বোর্ডে পুরো ব্যাপারটা আলোচনার জন্য তুলব। কারণ, দিনের শেষে আমরা সবাই বৃহত্তর মোহনবাগান পরিবার। আর সবাই চাই শুধুই মোহনবাগানের জয় দেখতে। সমর্থকদের মুখে এই হাসি দেখার জন্যই সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এই বিশাল খরচ করে দল গঠন করা।
আশা করব, যে কোনও পরিস্থিতিতে আমাদের সদস্য-সমর্থকরা আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাশে থাকবেন। এটুকু বিশ্বাস করবেন, এখনও পর্যন্ত আমরা যা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা সবুজ-মেরুন পতাকাকে তুলে ধরার জন্য নিয়েছি। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে, আপনাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।”