স্বাভাবিক ভাবেই শনিবারের বেনজির বিশৃঙ্খলার পর আওয়াজ উঠেছে, সব ব্যাটাকে ছেড়ে ল্যাজ কাটাকে ধর। কিন্তু সত্যি কি শুধু শতদ্রুই দায়ী? পুলিশ, মাঠে থাকা ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কোনও দায় নেই?

শেষ আপডেট: 14 December 2025 00:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবারের বারবেলায় লিওনেল মেসির (Lional Messi)) সামনে মুখ পুড়ল কলকাতার। ছাব্বিশে ফের বিশ্বকাপ (World Cup 2026) ফুটবলের আসর বসবে। তার আগে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থেকে যাওয়ার কথা ছিল মেসির এই কলকাতা সফর (Messi in Kolkata)। তা থাকল বইকি, কিন্তু একেবারেই কলঙ্কিত হয়ে থেকে গেল এদিনের অধ্যায়। বড় কথা হল, স্বপ্নের নায়ককে দেখতে এদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে মাঠে হাজির ছিল কয়েক হাজার শিশু তথা স্কুল পড়ুয়া। তাদের সারা জীবনের স্মৃতিতে থেকে গেল এই ‘গ্রেটেস্ট অফ অল ক্যাওস’!
এখন প্রশ্ন হল, এর দায় কার?
মেসির কলকাতা ইভেন্ট তথা গোট ট্যুরের (GOAT India tour 2025) নেপথ্য নায়ক হলেন শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)। কলকাতায় যাবতীয় হোর্ডিং, ইভেন্টের টিকিটে বড় বড় করে লেখা ছিল ‘আ শতদ্রু দত্ত ইনিশিয়েটিভ’। স্বাভাবিক ভাবেই শনিবারের বেনজির বিশৃঙ্খলার পর আওয়াজ উঠেছে, সব ব্যাটাকে ছেড়ে ল্যাজ কাটাকে ধর। কিন্তু সত্যি কি শুধু শতদ্রুই দায়ী? পুলিশ, মাঠে থাকা ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) কোনও দায় নেই?
এদিন সাড়ে ১১টা নাগাদ সাদা অডি কিউ সেভেনে চড়ে যুবভারতীতে ঢোকেন লিওনেল মেসি, লুই সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি-পল। কিন্তু সেই মুহূর্ত থেকে দেখা যায়, তাঁকে ঘিরে রয়েছে প্রচুরল লোক। কারা তাঁরা? অভিযোগ হল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন আয়োজকদের টিম, নিরাপত্তা রক্ষী, গোট টিমের পি-আর টিম এবং আরও কিছু লোকজন যাদের স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে চেনা যায়নি। সেই ভিড়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীদের দেখা যায়। অভিযোগ হল, বেশ কিছু ফড়েকেও ওই ভিড়ের মধ্যে দেখা যায়।
মিনিট খানেকের মধ্যেই শতদ্রু বুঝতে পারেন পরিস্থিতি বেগতিক। তিনি হাতে মাইক নিয়ে বলতে শুরু করেন, মাঠের মধ্যে যাঁরা ঢুকে পড়েছেন তাঁরা বেরিয়ে যান। এত দূর থেকে যাঁরা মেসিকে দেখতে এসেছেন, যাঁরা গ্যালারিতে বসে আছেন, তাঁরা মেসিকে দেখতে পাচ্ছেন না। এক সময়ে ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উদ্দেশে শতদ্রু বলেন, “অরূপ দা আপনি অনুরোধ করুন, মাঠের মধ্যে যেন লোকজন বেরিয়ে যায়। পুলিশকে বলুন।” শতদ্রু বার বার পুলিশের উদ্দেশে অনুরোধ জানাতে থাকেন। এমনকি মাইকে একবার বলেন, “মাঠ থেকে বেরিয়ে যান, মেসি কিন্তু রেগে যাচ্ছে, চলে যাবেন বলছেন”।
কিন্তু কে কার কথা শোনে!
মাত্র ২৩ মিনিট মাঠে থেকে এদিন বেরিয়ে যান মেসি। কারণ, এর পর তাঁর হায়দরাবাদে যাওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছেন, তিনি যুবভারতীর দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মাঝরাস্তা থেকে ফিরে আসেন।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মাঠে থাকলে পরিস্থিতি এতটা বিশৃঙ্খল হত না। মুখ্যমন্ত্রী একটা হাঁক দিলে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অবাঞ্চিত লোকজনকে মাঠ থেকে বের করে দিতে হত? কিন্তু একই সঙ্গে এও প্রশ্ন যে, মাঠ থেকে লোক বের করতে গেলেও মুখ্যমন্ত্রীকে দরকার? আয়োজকরা কী করছিলেন? পুলিশ কী করছিল? সন্দেহ নেই, এই ঘটনা ও বেনজির বিশৃঙ্খলাকে রাজনৈতিক অস্ত্র করে নেবেন বিরোধীরা। বাংলায় বিধানসভা ভোট আসছে। তার আগে বিশৃঙ্খলার দায় সরকারের উপরেই ঠেলতে চাইবে বিজেপি।
মোহনবাগান তথা কলকাতার ময়দানের এর কর্মকর্তা এদিন দ্য ওয়ালকে বলেন, গোটা ব্যর্থতা আয়োজকদের। তারা শুধু পয়সা কামাতে ব্যস্ত ছিল। ফুটবল আবেগ, দর্শকদের আবেগ নিয়ে কোনও চিন্তা ছিল না। সেই কারণেই মাঠের মধ্যে বহু ফড়ে ঢুকে পড়ে। ওদের উচিত ছিল মেসি, সুয়ারেজ ও ডি পলকে একটা হুড খোলা জিপে করে গোটা মাঠ ঘোরানো। তাহলে দর্শকরা স্পষ্ট ভাবে তাঁদের দেখতে পেতেন। তার পর গোটা কুড়ি ফুটবল মেসি শট মেরে গ্যালারিতে পাঠালেই দর্শকরা খুশি হয়ে যেতেন। কিন্তু ফড়ে, স্পনসর, আর ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এক শ্রেণির মানুষকে খুশি করতে গিয়ে দর্শকদের হতাশ করেছেন আয়োজকরা। এটা শুধু পাপ নয়, মহা পাপ। তাই ওদের উচিত সবার আগে দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া।