ডিজিটাল নজরদারি ও ফোন ট্যাপিংয়ে উঠে এসেছে কয়েকটি ক্লাব ও ফুটবলারের নাম। সূত্র অনুযায়ী, অন্তত দুটি ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ধৃতরা জেরায় ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করেছে এবং আরও কয়েকজনের নাম বলেছে—যাদের খোঁজে এখন তল্লাশি চলছে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 16 November 2025 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএফএ–র (IFA) বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, রেফারিদের মান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সতর্কবার্তা—‘যে রেফারি ম্যানেজ করবে, যে দল জড়িত থাকবে, সবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে!’
পাশাপাশি অগস্টের মধ্যে সিএফএল (CFL) শেষ করলে ছোট দলগুলো সুবিধা পাবে, বলেও টাইমলাইন বেঁধে দেওয়ার দিকে ঝোঁক দেন। অরূপের বক্তব্য, বেটিং–চক্রে যাদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মাধ্যমেই তদন্তে সামনে আসছে আরও বেশ কিছু নাম। পুলিশের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত—আগামী দিনে আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার হতে পারে।
এই সতর্কবার্তার মধ্যেই কয়েক দিন আগে সামনে আসে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের (Kolkata Premier League) ম্যাচ–ফিক্সিং কাণ্ডে নতুন গ্রেফতারির খবর। খিদিরপুর ক্লাবের (Kidderpore Sporting Club) কেলেঙ্কারিতে ধরা পড়ে আরও এক অভিযুক্ত—সুজয় ভৌমিক (Sujay Bhowmik)। সোমবার রাতে তাকে আটক করে বৌবাজার থানার পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, আগেই ধৃত টিম ম্যানেজার আকাশ দাসের (Akash Das) ঘনিষ্ঠ সহযোগী সে। ফিক্সিং কাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা আপাতত তিন।
পুলিশ সূত্রের খবর, সুজয় মূলত ম্যাচ–ফিক্সিংয়ের আর্থিক লেনদেন সামলাত। তার মাধ্যমেই চলত টাকা আদান–প্রদান। এর আগেই ধরা পড়েছে আকাশ দাস ও ক্লাবের মিডিয়া ম্যানেজার রাহুল সাহা ওরফে রাজ (Rahul Saha alias Raj)। অভিযোগ, প্রিমিয়ার ডিভিশনের (Premier Division) একাধিক ম্যাচের ফল আগেভাগেই ঠিক করা হচ্ছিল, আর তার ভিত্তিতেই চলছিল কোটি টাকার বেটিং।
তদন্তে উঠে এসেছে, পুরো চক্রটি চালানো হচ্ছিল ডিজিটাল নেটওয়ার্কে। স্থানীয় ফিক্সাররা নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এক বিদেশির সঙ্গে—যাকে কথোপকথনে বারবার ‘বস’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, সেই মূল পাণ্ডা এক চিনা নাগরিক, যিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ম্যাচের ফল নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ করতেন। এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়—‘এই বিদেশি ফিক্সার এতটাই ক্ষমতাবান যে, চাইলে ফিক্স হওয়া ম্যাচের ফলও বদলে দিতে পারত।’
ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (IFA) কয়েক মাস আগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। ডিজিটাল নজরদারি ও ফোন ট্যাপিংয়ে উঠে এসেছে কয়েকটি ক্লাব ও ফুটবলারের নাম। সূত্র অনুযায়ী, অন্তত দুটি ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ধৃতরা জেরায় ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করেছে এবং আরও কয়েকজনের নাম বলেছে—যাদের খোঁজে এখন তল্লাশি চলছে। মামলায় ধার্য হয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির (BNS) ৬১(২)/৩১৮(৪)/৩১৯(২) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act 2000)–এর ৬৬ ও ৪৩ ধারা।