আইএসএল বন্ধ হয়ে গেলে গোটা বিশ্বের কাছে কিন্তু একটা খারাপ বিজ্ঞাপন যাবে। ভারতের মতো ফুটবলপ্রেমী দেশের সেরা টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া কিন্তু কখনওই কাম্য নয়।

সঞ্জয় সেন
শেষ আপডেট: 13 July 2025 15:17
ভারতীয় ফুটবলের (Indian Football) ভবিষ্যৎ এখন গভীর অন্ধকারে। নামতে নামতে ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিং এখন ১৩৩। জাতীয় দলের কোচের পদ খালি হয়ে রয়েছে মানোলো মার্কুয়েজ সরে যাওয়ার পর থেকে। প্রধান কোচের সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে সর্ব ভারতীয় ফুটবল সংস্থা যে বিবৃতি দিয়েছেল তার সঙ্গে মোটেও মিলছে না মার্কুয়েজের বক্তব্য। দেশের ফুটবলের সব থেকে বড় টুর্নামেন্ট আইএসএল। এআইএফএফ-এর টাল বাহানার কারণে সেই টুর্নামেন্ট নিয়েও দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার এফএসডিএল (FSDL) আইএসএল (ISL) ক্লাবগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছিল, ফেডারেশনের সঙ্গে তাদের চুক্তি চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু জানানো হয়নি। এই অবস্থায় ২০২৫-২৬ মরশুম চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। ফলে যতদিন না চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে ততদিন আইএসএল স্থগিত রাখা হবে।
পাল্টা বিবৃতি দিয়ে এর পর এআইএফএফ (AIFF) জানায়, “মাস্টার রাইটস চুক্তি (MRA) অনুসারে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন যথাসময়ে ২১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে এফএসডিএল-এর সঙ্গে সম্ভাব্য পুনর্নবীকরণের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর, এআইএফএফ এবং এফএসডিএল-এর সিনিয়র প্রতিনিধিরা ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে নয়াদিল্লিতে এবং পরবর্তীতে ৫ মার্চ, ২০২৫ তারিখে মুম্বইয়ে মাস্টার রাইটস চুক্তির সম্ভাব্য পুনর্নবীকরণের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করার জন্য বৈঠক করেন। এই আলোচনার পর, ৫ মার্চ, ২০২৫ তারিখে এফএসডিএল একটি প্রস্তাব জমা দেয়। যার জবাবে ফেডারেশন ২১ এপ্রিল একটি পাল্টা প্রস্তাবের মাধ্যমে সাড়া দেয়। তবে ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বলা হয় ফেডারেশনের বর্তমান কমিটি এফএসডিএল-র সঙ্গে কোনও চুক্তি করতে পারবে না। আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে আমরা চুক্তি নিয়ে বেশি এগোতে পারিনি।” পাশাপাশি ফেডারেশন আশ্বাস দিয়েছে আইএসএল যাতে যথা সময়ে শুরু হয় তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে জাতীয় দলের পরবর্তী কোচের পদের জন্য আবেদন করেছেন খালিদ জামিল, সঞ্জয় সেনের মতো প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় কোচরা। পরবর্তী ভারতীয় কোচ হবেন কে? সেই নিয়ে চলছে জোরদার আলোচনা।
এদিন মোহনবাগানকে আই লিগ ও বাংলাকে সন্তোষ ট্রফি জেতানো কোচ সঞ্জয় সেন দ্য ওয়াল-কে টেলিফোনে ভারতীয় ফুটবল নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, জাতীয় দলের কোচের প্রসঙ্গের পাশাপাশি, আইএসএল, সুনীল ছেত্রী, নতুন ফুটবলার তুলে আনার মতো বিষয়গুলিও।
ভারতীয় দলের কোচের প্রসঙ্গে মোহনবাগানকে আই লিগ জেতানো কোচ বলেন, “বিদেশি না স্বদেশি কোচ, এই বিষয়টি ঠিক করবে টেকনিক্যাল কমিটি। যেখানে রয়েছেন আইএম বিজয়ন, ভিক্টর অমলরাজ, সাবির পাশা, ক্লাইমেক্স লরেন্সের মতো প্রাক্তন ফুটবলাররা। এই বিষয়টা পুরোপুরি নির্ভর করবে তাঁদের উপর।”
ভারতীয় দলের কোচ হলে কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন আপনি বা কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন আনতে চান? এই প্রশ্নের উত্তরে সঞ্জয় সেন বলেন, “এগুলি এভাবে বলা সম্ভব নয়। আমি কী রকম দল হাতে পাব, প্লেয়াররা কী রকম কন্ডিশনে আছে, সব কিছু নির্ভর করবে এ সবের উপর। তবে এটুকু বলতে পারি, ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের স্বার্থে তরুণ প্রজন্মকে তুলে আনতে হবেই।”
সুনীল ছেত্রীর অবসর ভেঙে ফিরে আসার পিছনে সঞ্জয় সেন অবশ্য তৎকালীন ভারতীয় কোচ মানোলোকে দায়ী করতে রাজি নন। বাংলার এই কোচ জানিয়েছেন, “মানোলোর সামনে তখন এএফসি কাপের মূলপর্বে যোগ্যাতা অর্জনের বিষয়টি ছিল। সুনীলের রেকর্ড দেখে হয়তো দলে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হয়তো সুনীলের সাম্প্রতিক কন্ডিশন জানতেন না। তবে সুনীলের বয়স হয়েছে, সবাইকেই একদিন থামতে হয়।”
তরুণ ফুটবলারদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে সঞ্জয় সেন বলেন, “এর আগে স্টিমাচ বা কনস্ট্যানটাইনরা কোচ থাকার সময় জুনিয়র ফুটবলার তুলে আনার দিকে সেই ভাবে গুরুত্ব দেননি। ফারুক চৌধুরীকে খেলেও বসিয়ে দিল। ইশান পাণ্ডিতা, ডেভিড, রহিম আলিরা সেভাবে সুযোগই পেল না। তরুণ ফুটবলার তুলে না আনলে কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের সঙ্কট কাটবে না।”
আইএসএল নিয়ে অবশ্য আশাবাদী বাংলার এই বিদগ্ধ কোচ। তিনি বলেছেন, “সমস্যা হয়েছে। তবে এটা হয়তো সাময়িক। আমি আশা করি সমস্যা কেটে গিয়ে ফের শুরু হবে আইএসএল। তবে কিছুটা হয়তো দেরি হতে পারে। আইএসএল বন্ধ হয়ে গেলে গোটা বিশ্বের কাছে কিন্তু একটা খারাপ বিজ্ঞাপন যাবে। ভারতের মতো ফুটবলপ্রেমী দেশের সেরা টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া কিন্তু কখনওই কাম্য নয়।”